বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে কাজ করছি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইমারাতুন্নেসা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায়, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব নাজমা বিনতে আমিন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের শিক্ষানুরাগী সদস্য জনাব জিয়াউর রহমান জিয়া, সম্মানিত অভিভাবক সদস্য জনাব আলতাফ হোসেন, জনাব আব্দুর রশিদ চৌধুরী (টিটু) এবং মোছাম্মৎ মণিকা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে বরণ জানান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

মেয়র তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও কার্পেটিং কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে খাল-নালা পরিষ্কার ও পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নগরীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

এ সময় মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সুস্থ সমাজ গঠনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা—যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পিএইচপি মোটরসের সঙ্গে রবির চুক্তি স্বাক্ষরিত

দেশের স্বনামধন্য মোবাইল অপারেটর ‘রবি এলিট’ এবং পিএইচপি মোটরসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই এমওইউর মাধ্যমে রবির এলিট গ্রাহকদের জন্য অটোমোবাইল খাতে বিশেষ সুবিধা ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকার তেজগাঁয় রবি প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায়, রবি এলিট গ্রাহকরা পিএইচপি মোটরস থেকে নতুন পেরাডোয়া গাড়ি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এই অফারটি মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড পেরাডোয়ার বিভিন্ন মডেল- আরুজ (এসইউভি), বেজা (সেডান), মাইভি (হ্যাচব্যাক) ও অ্যাক্সিয়া (হ্যাচব্যাক)’ এবং পেরাডোয়ার সিরিজের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসব গাড়ি বাংলাদেশে পিএইচপি মোটরস বাজারজাত করছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত গাড়ি কেনার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে পিএইচপি মোটরসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক তাসির করিম, মার্কেটিং ম্যানেজার এহসান আহমেদ এবং সেলস অ্যাডভাইজার ফাহিম আহমেদ ও আল-মুজাহিদ। অন্যদিকে রবি আজিয়াটা পিএলসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস বিভাগের পরিচালক মানিক লাল দাস, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার তাসনিয়া আফরিন, ম্যানেজার তানভীর আলম চৌধুরী এবং লয়্যালটি অ্যান্ড কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ মার্কেট অপারেশনস বিভাগের ম্যানেজার মো. আল মামুন।

পিএইচপি মোটরসের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক তাসির করিম ও রবি আজিয়াটার পক্ষে কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস বিভাগের পরিচালক মানিক লাল দাস স্বাক্ষর করছেন

 

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল রিপসা কমিটি চট্টগ্রাম জোনের উদ্যোগে বর্ষবরণ উদযাপন

গতকাল ১৪ এপ্রিল নগরীর ন্যাশনাল মেরিটাইমস ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ চট্টগ্রাম রোটারি রিপসা টিমের উদ্যোগে দিনব্যাপী রোটারি বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান পিপি মিনহাজ উদ্দিন নাহিয়ান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রিপসা কোঅর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি আজিজুল হক, রোটারিয়ান পিপি মনিরুজ্জামান, রোটারিয়ান সিপি আবু তৈয়ব, রোটারিয়ান পিপি এমদাদুল আজিজ, ডিপুটি কোর্ডিনেটর ও নববর্ষ উদযাপন কমিটির কোর্ডিনেটর রোটারিয়ান সিপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু, ডিপুটি কো- অডিনেটর রিপসা রোটারিয়ান সিপি ইব্রাহিম হাসান,মেম্বার সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিপুটি কোর্ডিনেটর সিপি মো. আরশাদ চৌধুরী, রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট সওকত আউয়াল চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর পিপি এস এম জমির উদ্দিন, পিপি উত্তম কুমার ব্যানার্জি, রোটারিয়ান এডভোকেট সাহাদাত হোসেন, রোটারিয়ান সিপি মো. নাঈম উদ্দিন,রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রেজিস্ট্রেশন কো-চেয়ার রোটারিয়ান আসরাফু আলম।

প্রেসিডেন্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান সৈয়দা কামরুন নাহার, রোটারিয়ান তাহিয়া কবির, রোটারিয়ান আফিয়া খাতুন মীরা, রোটারিয়ান রোকসানা ফারুক, রোটারিয়ান সাবিনা কাইয়ুম, রোটারিয়ান রওশন আক্তার, রোটারিয়ান কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রোটারিয়ান মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, রোটা: আনারুল কবির চৌধুরী, রোটারিয়ান আনিসুর রহমান, রোটারিয়ান খন্দকার মো. এমদাদুর রহমান, রোটারিয়ান এম এ মতিন, রোটা: শহিদুল ইসলাম, রোটারিয়ান আবু বকর সিদ্দিক, রোটারিয়ান আশরাফুল আলম রোটারিয়ান আব্দুল্লাহ মিলন, রোটারিয়ান শ্যামল কান্তি মজুমদার, রোটারিয়ান মো. আলী মিয়া।

অনুষ্ঠানে ২৯ টি রোটারি ক্লাবের সিনিয়র রোটারিয়ান, প্রেসিডেন্ট বৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুরুতে চট্টলাকুড়ি শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী নৃত্যের পর আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ,গান, আবৃত্তি, বাঙালি ফ্যাশন-শো, রোটারি পরিবারের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সকল রোটারিয়ান ও পরিবারের সকল ছেলেমেয়েদের জন্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হয়।

উপভোগ্য অনুষ্ঠানে সকালে নাস্তা পাটিসাপটা পিঠা, সিংগারা, তরমুজ,ফুট, তেঁতুলের চা কফি,বাঙালিয়ানায় পান্থা- ইলিশ নান রকম ভর্তায় সবাই মধ্যাহ্য ভোজ ও বিকালে জিলাপি, চটপটি,চা কফি আয়োজনে প্রানবত উপভোগ্য। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ গ্রহণ কারিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন পহেলা বৈশাখ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল, সর্বজনীন এবং প্রাণের উৎসব এটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হওয়ার এক অনন্য মহামিলন মেলা। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং আধুনিক জীবনের বাস্তবতায় উৎসবের ধরনে এখন এক চমৎকার পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশাল জনসমাবেশ বা অতি-আড়ম্বরের চাকচিক্য ছাপিয়ে এখনকার সময়ে মানুষ অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উৎসবের গুণগত মান, গভীরতা এবং আত্মিক সংযো সংযোগের ওপর। আড়ম্বর কমিয়ে এই যে ছোট পরিসরে কিন্তু অর্থবহ ও গভীর এই ও গভীর ব্যঞ্জনায় উৎসব পালন, এটিই মূলত রোটারি পরিবারের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আসলাম চৌধুরী এমপির সাথে এসজেএফ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজ (১৫এপ্রিল) বিকেলে সীতাকুণ্ডের এমপি জননেতা আসলাম চৌধুরী এফসিএর সাথে তাঁর ফৌজদারহাটের বাসভবনে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম (এসজেএফ) নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। অত্যন্ত আন্তরিকতা,ভাবগম্ভির ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় হয় এবং বক্তাদের বক্তব্য তিনি মনোযোগসহকারে শোনেন- যা ছিল অভূতপূর্ব। এসময় তিনি এসজেএফ’র সীতাকুণ্ডের সমস্যাসম্বলিত ১৯দফা কর্মসূচি ধৈর্যসহকারে পড়েন এবং তা পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নীতি-আদর্শ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এসজেএফ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মশিউর রহমান খান,সভাপতি আজিজ আহমেদ চৌধুরী,সহ-সম্পাদক আলাউদ্দিন চৌধুরী,সহ-সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহম্মেদ জুয়েল,সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক সঞ্জয় রায়, যুব ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আর কে দাশ (রবিন্স), সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাপস কর, তথ্য ও সম্প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক হাকিম মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক সুজিত পাল, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এসময় উপস্থিত সীতাকুণ্ড পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

লায়ন আসলাম চৌধুরী এমপিকে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন

সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানের মধ্যমণি লায়ন আসলাম চৌধুরী এমপি সামাজিক সংগঠন-সর্ম্পকিত নানা নিয়ম-নীতি বিশ্লেষণ করে বলেন, সামাজিক সংগঠন পরিচালনা ও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা খুবই কঠিন কাজ। সংগঠন স্থাপন করা বড়কথা নয়, টিকিয়ে রাখা হলো মূল চ্যালেঞ্জ। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সঠিক ও বাস্তবসম্মত না হলে উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতাদের অস্তিত্বসঙ্কটে পড়তে হয়। তাই, অনেক হিসেব-নিকেশ করে বুদ্ধিমত্তার সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। পরে আসলাম চৌধুরী এমপিকে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য,১মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরামের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে  ‘রূপসী সীতাকুণ্ড’ নামক স্যুভেনির প্রকাশ, আলোচনা,গুণিজন সংবর্ধনা,গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণসহ নানান মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (র.) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন চসিক মেয়র

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার ও মসজিদ ওয়াকফ এষ্টেটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. মো. শাহাদাত হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে।

সম্প্রতি গঠিত পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও নগর প্রশাসনের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হিসেবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সম্পৃক্ততায় মাজার পরিচালনার সার্বিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।

মাজার এর উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহের সুষ্ঠু আয়োজন কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মাজারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের আধ্যাত্মিক মিলনস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে এর ঐতিহ্য ও কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এই শহর শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার শহর। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নৈশ ভোজ ও এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সপরিবারে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অসময় ব্যান্ড ও চসিকের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গান ও নাচের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের কাজের ভুল ধরিয়ে দেবেন, সমালোচনা করবেন, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র জানান, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে দুইটি ল্যান্ডফিল থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া একটি ল্যান্ডফিল থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যান্ডফিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে মেয়র বলেন, গত বছর আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছি। এ বছর খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে এবং হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ চলমান রয়েছে।

মেয়র জানান, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সুবিধা পাবে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন মাঠ উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।

মেয়র বলেন, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

‘চট্টগ্রাম অ্যাপ’ চালুর ঘোষণা দিয়ে মেয়র জানান, নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সমাধানে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি সমস্যার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন।

স্বাস্থ্যখাতে মেয়র জানান, ইতোমধ্যে ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে এনআইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শেষে মেয়র বলেন, নগর সরকার শক্তিশালী না হলে পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে পারব।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজ নাজমুল হাসান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, সিএমপির উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, এডিসি শামসুজ্জামান, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সিইউজে’র সভাপতি রিয়াজ হায়দার, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ সহ বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

 

জ্বালানী খাতে সক্ষমতাবৃদ্ধিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নাই

সৌর, পানি ও বায়ু বিদ্যুতের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া জ্বালানীতে সক্ষমতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। কারণ জ্বীবাষ্মভিত্তিক জ্বালানীতে নির্ভরশীলতার কারণে পুরো দেশ ও জাতি এখন চরম সংকটে। জ্বালানি তেলের অভাবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আর জ্বালানীর অভাবে শিল্প, কলকারখানা, অফিস আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। টাকা থাকালেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। সে  জায়গায় যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানীখাতে সক্ষমতা বাড়ানো যেত তাহলে, অর্থনীতির চাকা সচল থাকতো। তাই এখন থেকেই জ্বীবাষ্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে নবয়ানযোগ্য জ্বালানীতে অধিক জোর প্রদান করতে হবে। একই সাথে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে তরুন প্রজন্মকে সচেতন করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সবুজ জ্বালানী বিষয়ক প্রচারণা কর্মসুচির মতো আরও গণসচেতনতামুলক কর্মসুচি আয়োজন করতে হবে।

১৫ এপ্রিল বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ, ‘ক্লিন’ এবং ‘বিডব্লিউজিইডি’-এর উদ্যোগে নগরীর কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সবুজ জ্বালানী বিষয়ক প্রচারণা কর্মসুচির আওতায় আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

কাপাসগোলা সিটিকরপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়া সভাপতিত্বে ক্যাব চট্টগ্রাম ক্যাব বিভাগীয় সংগঠক রাসেল উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রচারণা কর্মসুচির অংশ হিসাবে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মান্নান, ক্যাব চান্দগাও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার, প্রজেক্ট অফিসার রাইসুল ইসলাম, অ্যাডমিন অফিসার আবদুল মান্নান জিহাদ প্রমুখ।

রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে ৯ শ্রেণীর ছাত্রী সো্হাইলা করিম চৌধুরী, ২য় হয়েছে ৯ম শ্রেণীর তাহিয়াত তারান্নুম আরশি ও ৩য় হয়েছে ১০ম শ্রেণীর তুনাজ্জিয়া নুর। রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে ১০ শ্রেণীর উনাইছা আমরিন, ২য় হয়েছে ১০ম শ্রেণীর আদওয়া জাহান, ৩য় ১০ শ্রেণীর মৌমিতা দাস বর্ষা। এ প্রচারণা কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

কাপাসগোলা সিটিকরপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়া বলেন, জ্বীবাস্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশ আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। জ্বালানী তেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। টাকা থাকলেও জ্বালানী তেল আমদানিও করা যাচ্ছে না।সে কারণে আগামি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে সবুজ জ্বালানী বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও টেকসই জ্বালানি নিয়ে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা দরকার। তাহলে পুরো জাতি উপকৃত হবে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বীবাষ্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশ জ্বালানী খাতে সক্ষমতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। যার কারণে ইরান যুদ্ধের ফলে টাকা থাকলেও জ্বালানী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানী নিরাপত্তা আজকে হুমকির সম্মুখীন। সেকারণে যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হতো তাহলে বিপদের সময় এধরনের হুমকিতে পড়তে হতো না। এ জন্য সবুজ জ্বালানীর সক্ষমতা বাড়াতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগের বিকল্প নাই। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো, তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানির ব্যবহার সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

বাইফা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেন চট্টগ্রামের মেয়ে স্মিতা চৌধুরী

দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘বাইফা অ্যাওয়ার্ড’-এ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস) সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়ে, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট নির্মাতা স্মিতা চৌধুরী। সম্প্রতি মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়া অঙ্গনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ইতিমধ্যে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সৃজনশীলতার এক যুগ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে স্মিতা চৌধুরীর পদচারণা। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান তারকা শিল্পী তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনন্য সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশসেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায়। দক্ষ উপস্থাপনা এবং মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি কেবল পরিচিতিই পাননি, অর্জন করেছেন কোটি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল জনপ্রিয়তা

বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে স্মিতা চৌধুরীর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তবে কেবল সংখ্যা নয়, বরং তার কনটেন্টের গুণগত মানই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ইতিবাচক বার্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং দর্শকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিটি কাজে পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক উপস্থাপনশৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়।

বহুমাত্রিক ক্যারিয়ার

শুরুটা উপস্থাপনার মাধ্যমে হলেও সময়ের সাথে সাথে স্মিতা চৌধুরী নিজেকে বহুমাত্রিকভাবে গড়ে তুলেছেন। করপোরেট ইভেন্ট, লাইভ শো, ব্র্যান্ড প্রচারণা থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম- সবখানেই স্মিতা চৌধুরীর আত্মবিশ্বাসী বিচরণ লক্ষণীয়। তার পরিমিত স্মার্ট ভাষা জ্ঞান এবং সাবলীল বাচনভঙ্গি তাকে দেশীয় মিডিয়ায় একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

প্রতিযোগিতায় যারা আছেন

এবারের বিফা অ্যাওয়ার্ডে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে স্মিতা চৌধুরীর পাশাপাশি মনোনয়ন আরও পেয়েছেন আরএনআর, লিলিপুট ফারহান, সুনেহরা তাসনিম এবং চিত্ত মিডিয়া।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বাইফা চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত এবং ফ্যাশন অঙ্গনে সেরাদের পুরস্কৃত করে থাকে। এবারের আসরে অন্যান্য বিভাগে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, ইমরান মাহমুদুল এবং রুনা লায়লার মতো দেশবরেণ্য তারকারাও মনোনয়ন পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণার নাম স্মিতা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মিতা চৌধুরীর এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং সততার ফসল। তিনি যেভাবে নিয়মিত মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্ট উপহার দিচ্ছেন, তা দেশের ডিজিটাল মিডিয়া অঙ্গনে একটি সুস্থ ধারা তৈরি করতে সাহায্য করছে। তার এই অর্জন চট্টগ্রামের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি মিডিয়া অঙ্গনে কাজ করতে আগ্রহী উদীয়মান নতুন প্রজন্মের তরুন-তরুনী ও নির্মাতাদের জন্য এক বড় মাইলফলক।

বাইফা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেন চট্টগ্রামের মেয়ে স্মিতা চৌধুরী

দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘বাইফা অ্যাওয়ার্ড’-এ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস) সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়ে, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট নির্মাতা স্মিতা চৌধুরী। সম্প্রতি মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়া অঙ্গনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ইতিমধ্যে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সৃজনশীলতার এক যুগ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে স্মিতা চৌধুরীর পদচারণা। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান তারকা শিল্পী তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনন্য সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশসেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায়। দক্ষ উপস্থাপনা এবং মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি কেবল পরিচিতিই পাননি, অর্জন করেছেন কোটি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল জনপ্রিয়তা

বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে স্মিতা চৌধুরীর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তবে কেবল সংখ্যা নয়, বরং তার কনটেন্টের গুণগত মানই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ইতিবাচক বার্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং দর্শকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিটি কাজে পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক উপস্থাপনশৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়।

বহুমাত্রিক ক্যারিয়ার

শুরুটা উপস্থাপনার মাধ্যমে হলেও সময়ের সাথে সাথে স্মিতা চৌধুরী নিজেকে বহুমাত্রিকভাবে গড়ে তুলেছেন। করপোরেট ইভেন্ট, লাইভ শো, ব্র্যান্ড প্রচারণা থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম- সবখানেই স্মিতা চৌধুরীর আত্মবিশ্বাসী বিচরণ লক্ষণীয়। তার পরিমিত স্মার্ট ভাষা জ্ঞান এবং সাবলীল বাচনভঙ্গি তাকে দেশীয় মিডিয়ায় একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

প্রতিযোগিতায় যারা আছেন

এবারের বিফা অ্যাওয়ার্ডে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে স্মিতা চৌধুরীর পাশাপাশি মনোনয়ন আরও পেয়েছেন আরএনআর, লিলিপুট ফারহান, সুনেহরা তাসনিম এবং চিত্ত মিডিয়া।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বাইফা চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত এবং ফ্যাশন অঙ্গনে সেরাদের পুরস্কৃত করে থাকে। এবারের আসরে অন্যান্য বিভাগে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, ইমরান মাহমুদুল এবং রুনা লায়লার মতো দেশবরেণ্য তারকারাও মনোনয়ন পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণার নাম স্মিতা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মিতা চৌধুরীর এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং সততার ফসল। তিনি যেভাবে নিয়মিত মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্ট উপহার দিচ্ছেন, তা দেশের ডিজিটাল মিডিয়া অঙ্গনে একটি সুস্থ ধারা তৈরি করতে সাহায্য করছে। তার এই অর্জন চট্টগ্রামের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি মিডিয়া অঙ্গনে কাজ করতে আগ্রহী উদীয়মান নতুন প্রজন্মের তরুন-তরুনী ও নির্মাতাদের জন্য এক বড় মাইলফলক।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি প্লাস (এজেডইসি) সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই ঋণ সহায়তা চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সংকট আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। কোনও দেশ এককভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা ব্যবস্থাপনা; জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়াও মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০ এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একা এমন সংকটে পড়েনি; তাই একক প্রচেষ্টায় এটি মোকাবিলা করা সম্ভব না। চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুরের পর সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নানা আয়োজনে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা নববর্ষ বরণ

‘দুরন্ত বৈশাখে, মাতি উৎসবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণ করে নিলো সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আনন্দ কোলাহল আর উৎসবে মেতে উঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, মেলা, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রতিযোগিতা।

সাউদার্ন বৈশাখী উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, রেজিস্ট্রার এ এফ এম মোদাচ্ছের আলী, বৈশাখী উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ চৌধুরী বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ,কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা।

এবারের মেলায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১২টি স্টল অংশ নেয়।

স্টলগুলোতে স্থান পায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার ও পণ্যসামগ্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হরেক রকমের গ্রামীণ পিঠা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী।

সেরা তিনটি স্টল ও তিনটি বিভাগকে তাদের সুন্দর পরিবেশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। সেরা স্টলের পুরস্কার লাভ করে ফার্মেসি বিভাগ, দ্বিতীয় ইসলামিক স্টাডিজ ও তৃতীয় হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ইংরেজি বিভাগ, দ্বিতীয় ব্যবসায় প্রশাসন ও তৃতীয় স্থান লাভ করে ফার্মেসি বিভাগ।

নববর্ষ উপলক্ষে সকাল থেকেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে সাজ সাজ রব। দিনটা ছিলো অন্যান্য দিনের চেয়ে একেবারে ভিন্ন। রঙিন সাজে শিক্ষার্থীদের নাচ গানের ছন্দে ছন্দে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে বর্ণিল রঙে রঙিন। বাসন্তি রংয়ের বাহারি শাড়ি আর খোপা ছড়ানো বেলি ফুলের মালা আর পাজামা পাঞ্জাবি তরুণ তরুণীরা যেন চির চেনা বাঙালিত্বকে নিজের মধ্যে বরণ করে নেয়। সবার কন্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। সকলেরই কথা- আজ সব দুঃখ, সব গ্লানি, সব না পাওয়ার যন্ত্রণা মুছে যাক। আজ থেকে শুরু হোক নতুন দিনের, নতুন স্বপ্নের, নতুন বছরের।

সুখী সমৃদ্ধ আগামী এবং শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক জাতি- এ প্রত্যাশা নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

লিভারপুলকে আরেকবার হারিয়ে সেমিতে পিএসজি

লিভারপুলের সময়টা ভালো যাচ্ছে না । তবুও ম্যাচটি ঘরের মাঠে বলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অলৌকিক কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কোচ আর্নে স্লট। সেটি আর হলো কোথায়? আবারও পিছু তাড়া করল সেই বিবর্ণতা। এতে পিএসজির বিপক্ষে ঘরের মাঠেও হার দেখল অলরেডরা। বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে ২-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে চলে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে ৫১ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়েছে লিভারপুল। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মোটে ৫টি। অন্যদিকে, ৪৯ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১২টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রেখেছিল পিএসজি।

ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে লিভারপুল সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার ভেসে আসছিল। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে আর প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরাতে নিজেদের সবটুকুই করেছে লিভারপুল সমর্থকরা। তবে মাঠের খেলায় নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি ফুটবলাররা।

প্রথমার্ধে বল দখলে রেখে আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পিএসজি। যদিও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। লিভারপুলও ভুগেছে একই সমস্যায়। উল্টো তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে উগো একিটিকের চোট। স্ট্রেচারে করে তিনি মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন দলের প্রাণভোমরা মোহামেদ সালাহ।

মাঠে নেমেই সুযোগ তৈরি করেছিলেন সালাহ। তাঁর ক্রসে ভার্জিল ফন ডাইক গোলমুখে শট নিলেও পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনিয়োস অবিশ্বাস্য এক স্লাইডে দলকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

বিরতির পর আলেকসান্দার ইসাককে তুলে নিয়ে কোডি হাকপোকে নামান লিভারপুল কোচ। এই অর্ধে লিভারপুলের আক্রমণেও ধার বাড়ে। মোট ১৭টি শট নিলেও পিএসজির রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা

ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর দেখে পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন তিনি। ৬৮তম মিনিটে তরুণ তারকা রিও নুগোমাহোর একটি দুর্দান্ত শট রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনোভ।

লিভারপুল যখন গোলের জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই গোলেই লিভারপুলের ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায়।

এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে বার্কোলার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন দেম্বেলে।

বছরজুড়েই আলোচনায় থাকেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস

পর্দায় নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলেও বছরজুড়েই আলোচনায় থাকেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। বিভিন্ন শোরুমের ফিতা কাটা থেকে শুরু করে নানা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোশনে তাকে প্রায়ই দেখা যায়। এর বাইরে সামাজিক মাধ্যমে নিত্যনতুন লুকে ছবি পোস্ট করে ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ান এই নায়িকা। তবে কাজের বাইরেও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার ব্যক্তিগত জীবন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চড়াই-উতরাই পেরোনো এই তারকা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। সেখানে বিয়ের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ে কেন টার্নিং পয়েন্ট হবে? ওটা আসলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। খুব অল্প বয়সে আবেগতাড়িত হয়ে বিয়ে করাটা আমার জীবনের ভুল ছিল। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই ম্যাচিউরিটি না আসা পর্যন্ত কোনো মেয়েরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।’

ভবিষ্যতে নতুন করে ঘর বাঁধার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রহস্য জিইয়ে রেখে অপু বলেন, ‘এই মুহূর্তেই এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মতো অবস্থায় নেই।’ এর বাইরে বর্তমান সময়ের ট্রল ও সমালোচনা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। অপু বিশ্বাস জানান, এসব নেতিবাচক বিষয় নিয়ে তিনি মোটেও বিচলিত নন। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব তিনি এড়িয়ে চলেন এবং মাঝে মাঝে বেশ উপভোগও করেন।

বলে রাখা ভালো, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল মেগাস্টার শাকিব খানকে বিয়ে করেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি অনুষ্ঠানে এসে বিয়ের কথা প্রকাশ করেন নায়িকা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ এই দম্পতির আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের রয়েছে এক ছেলে সন্তান।

এর বাইরে সাক্ষাৎকারে শুটিং ফ্লোরের গল্পও উঠে আসে। আগের অপু বিশ্বাসই ভালো ছিলো- এমনটা জানিয়ে নায়িকা বলেন, ‘প্রিভিয়াসে একটু বেশি বাচ্চা ছিলাম। ক্যামেরার সামনে কী বলে ফেলতাম, কী করে ফেলতাম… কারণ ইমোশনের জন্য ক্যামেরা না। ক্যামেরা হচ্ছে পাবলিক ফেস করতে হয়।’

উল্লেখ্য, গেলো ঈদুল ফিতরে তার অভিনীত ‘দুর্বার’ সিনেমাটি মুক্তির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। তবে আসছে কোরবানির ঈদে তার নতুন সিনেমা ‘সিক্রেট’ মুক্তি পেতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এই সিনেমাটি নিয়ে এখনই কোনো স্পষ্ট কথা বলতে পারেননি ঢালিউড কুইন

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, নিহত ১১

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের সিক সাক্তি জেলায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১১ জন কর্মচারী এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাক্তি জেলার সিংঘিতারাই অঞ্চলে অবস্থিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটির মালিক বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০২৫ সাল থেকে।

সাক্তি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর মঙ্গলবার রাতে বলেন, চার জন কর্মচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন, আর বাকি সাত জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত ২২ জন কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারাখানাটির বয়লার ইউনিট তারা সরাসরি পরিচালনা করতে না। এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (এনজিএসএল) নামে অপর একটি কোম্পনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বয়লার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।

তবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হলো নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই বিস্ফোরণকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত হবে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

সারা দেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ

আজ থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা । প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বঘোষিত সময়সূচি বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রথম দিনের ‘বাংলা’ বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এই মেধা যাচাই কার্যক্রম শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এর আগে, গত ৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় পরীক্ষার এই সূচি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য আড়াই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। আজকের পর আগামীকাল ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে দেশের তিন পার্বত্য জেলা- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই জেলাগুলোতে পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত বিষয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে এবারের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এবারও পরীক্ষা পদ্ধতিতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বেশি পাবে। পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখতে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বৃত্তি পরীক্ষা চালুর এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং মনোযোগী করে তুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা।

 

সীতাকুণ্ডে উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের  উদ্যোগে বর্ষবরণ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,পান্তা ইলিশসহ নানা অনুষ্ঠানমালার  মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উদযাপিত হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে বৈশাখী মেলায় নানান রকম পরসা সাজিয়ে দোকান বসেছে। উপজেলার মেঘমল্রার খেলাঘর আসর,বালামখানা,শৈল্পিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, শৈলী,শিল্পকলা একাডেমী,মুকুল ফৌজ,সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ,কালীতলা বৈশাখী মেলা সহ বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বৈশাখী উৎসব প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)  আব্দুল্লাহ আল মামুনের  পরিচালনায় এ সময়  উপিস্থত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমল কদর,যুগ্ম আহবায়ক জহুরুল আলম জহুর, সদস্য সচিব মো. মোরছালিন,  যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সালামত উল্লাহ, পৌর বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন,সদস্য সচিব ছালে আহমদ সলুসহ  অসংখ্য নেতাকর্মী ও উপজেলা সরকারি কর্মকর্তারা  উপস্থিত থেকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে আনন্দঘন করে তোলে। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব, যা সকল ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করার অনন্য উপলক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুতেই সকল সংগঠন একত্রিত হয়ে একটি বর্ণাঢ্য  র‌্যালি , জাতীয় সংগীত পরিবেশনে মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সবশেষে হলরুমে পান্তা ইলিশ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘটে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে র‌্যালিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসম্প্রদায়িক উৎসব

পহেলা বৈশাখ নববর্ষের উৎসব বাঙালি জাতির একমাত্র অসাম্পদায়িক চেতনা লালন করার দিন। এই দিন সকল ধর্ম-বণ-বিশ্বাস একই হয়ে সবাই বর্ণিল সাজে আনন্দ আয়োজন করে। এটা ঐতিহাসিক সত্য।

গতকাল  চট্টগ্রাম রোটারি সেন্টার আয়োজিত ‘বাঙালির নিঃশ্বাস বাংলা সংস্কৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামান নিজাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

রোটারি সেন্টারের সভাপতি ওসমান গনি মনসুরের সভাপতিত্বে সেন্টারের নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব খন রঞ্জন রায়ের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক অধ্যাপক ফাতেমা জেবুন্নেছা।

চট্টগ্রামের ৫০টি রোটারি ক্লাবের সদস্য ও পরিবারবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন, পিডিজি আব্দুল আওয়াল, পিডিজি আব্দুল আহাদ, রীনা জামান, পিডিজি ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান, ডা. মাইনুল ইসলাম মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম, নুরুল আলম কিরন, মীর নাজমুল আহসান রবিন, সেক্রেটারি ওমর আলী ফয়সাল, আলী মাহাবুব প্রমুখ।

ন্যাশনাল কালচারাল একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী নৃত্যের পর আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ, গান, আবৃত্তি, বাঙালি ফ্যাশন-শো পরিচালনা করেন শাওন পান্থ। রোটারি পরিবারের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শায়লা মাহমুদ। উপভোগ্য এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাঙালিয়ানায় পান্থা-ভর্তায় সবাই মধ্যাহ্য ভোজে অংশ গ্রহণ করেন।

 

ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে নববর্ষ উদযাপিত

চট্টগ্রামের জিইসি সংলগ্ন ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে  আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় “সহজে সাম্যে ঐকতান ” স্লোগানের মাধ্যমে হাউজভিত্তিক  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার (মোরগ লড়াই, কাবাডি, কানামাছি, হাড়িভাঙ্গা)  আয়োজন করা হয়। এই প্রথম পর্বে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আহমেদ শাহিন আল রাজি।

উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারি অধ্যাপক মঈন উদ্দিন আহমেদ, স্কুল শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি সিনিয়র শিক্ষক শাহানারা বেগম, ক্রিড়া পরিচালনা কমিটির সদস্য সরকারি শিক্ষক জনার্দন দেবনাথ, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।

দ্বিতীয় পর্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের  মধ্য দিয়ে  প্রতিষ্ঠানের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ এবং স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন উদযাপন  পরিষদের আহ্বায়ক ও কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি ।

আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক রেশমা আনোয়ার, স্কুল শাখার শিক্ষক  প্রতিনিধি প্রমুখ।

গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য ভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের পর প্রভাষক বিপ্লব করের সম্পাদনায় শিক্ষার্থীরা  বাংলার আবহমান কালের সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। সবশেষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সঞ্চালনায় ছিলেন প্রভাষক পূজা বড়ুয়া,  সহকারী শিক্ষক লিপিকা দাস।

কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে, কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, বর্তমান নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।

দেশের ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেয়ার মাধ্যমে সারাদেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা ১২টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্টে আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব ইনশআল্লাহ। ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান দলের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই মঞ্চে যত মানুষ উপস্থিত আছেন হয়তো সবাই সরাসরিভাবে কৃষক বা কৃষির সাথে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ আছেন, যে মানুষটি কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশে আমরা যত মানুষ আছি তার মধ্যে চার কোটি পরিবার আছে তাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেবে।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও কৃষকরাই: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার কৃষি ও কৃষককে দেশের অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার মতে, কৃষি ও কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এ সরকার নতুন উদ্দীপনায় দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছে।

তিনি জানান, মোগল সম্রাটরা কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও খাজনা আদায়ের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকে বাংলা সনের প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে সরকার এ বছর পহেলা বৈশাখকে ‘কৃষক কার্ড’ বণ্টনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। অর্থনীতি পুনর্গঠন করে নিজ পায়ে দাঁড় করানোই বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের স্লোগান- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনকে গণতন্ত্র চর্চার স্বাভাবিক পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশের উৎসবের আমেজ প্রমাণ করে দেশে এখন একটি মুক্ত ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা এই নতুন সংস্কৃতি ও পরিবেশকে দেশের সমৃদ্ধির জন্য অব্যাহত রাখতে চাই।

অনুষ্ঠান শেষে ডিআরইউ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘পুতুল নাচ’ প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পরে আনন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।

এর আগে তিনি আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

সব পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ দমন করা হবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করা যায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা সমাধানে কীভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার গবেষণা করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মানবপাচার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কিছু অঞ্চলে-বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার এলাকায়-এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানবপাচার রোধে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পয়েন্টে কঠোর নজরদারি ও সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ অপরাধ দমন করা হবে।

সবাইকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের তথ্য ও সচেতনতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে তথ্য প্রদান করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এরপর টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুপুরে মাঠে ১৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বৈশাখের আয়োজন সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বৈশাখের আয়োজন বাংলাদেশির অসাম্প্রদায়িক চেতনারই প্রতিফলন—এমন মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ডিসি হিলে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ’রংধনু জাতি’ গঠনের প্রত্যয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে- যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো আয়োজনকে যদি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়, তবে তা কখনো এত সুন্দর হয়ে ওঠে না।

এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত মঞ্চের সামনে ও পেছনের সকল মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন পর একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন সম্ভব হয়েছে। নববর্ষকে কেন্দ্র করে র‍্যালি, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই চেতনা ধারণ করেই উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এসময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী ও চট্টগ্রাম জেলাপ্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল আটটায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালি

বাঙালির প্রাণের দিন পহেলা বৈশাখ

জীবনযুদ্ধে নানা অস্থিরতা আর অপ্রাপ্তি, আশা-নিরাশার দোলাচল- সব কিছু ভুলিয়ে দিয়ে আজ বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে উড়ায়ে দিতে, পুরনো বছরের আবর্জনা দূর করতে এসেছে নতুন দিন। দুঃখ-কষ্ট ভুলে, হতাশা-গ্লানি মুছে সবাই নবরূপে আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত হবে ।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের যাত্রা। বাংলা নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণের দিন।

প্রতি বছর ভোরের আলো ফোটার আগেই মানুষের ঢল নামে রাজধানীর রমনা উদ্যানে। সূর্যের প্রথম কিরণে শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রায় দুই শ শিল্পীর অংশগ্রহণে সুর, বাণী ও ছন্দের এক অপূর্ব সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। প্রকৃতি, মানবতা, দেশপ্রেম ও লোকজ জীবনের গান পরিবেশিত হবে।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীকে।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বিতর্ক এড়াতে এবার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হলেও এর প্রাণবন্ততা ও তাৎপর্যে কোনো ঘাটতি নেই।

শোভাযাত্রার রুট: চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে শেষ হবে। এ বছরের স্লোগান: ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। পাঁচটি প্রধান মোটিফ- মোরগ (নতুন দিন, শক্তি), বেহালা (সৃজনশীলতা), পায়রা (শান্তি), হাতি (গৌরব) ও ঘোড়া (গতিময়তা)।

৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ ও বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। প্রায় দুই শ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। আজ মূল আয়োজন হবে জাতীয় নাট্যশালায় বিকেল ৩টায়। থাকবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, শতকণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা, কবিগান, গম্ভীরা ও বাউল গানের আসর।

পরবর্তী দিনগুলোতে থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা, অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী, ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’ এবং পুতুলনাট্য। সমাপনী দিনে নৃত্য, লোকসংগীত, ব্যান্ডসংগীত ও তারকা শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।

ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে সেখানে বসেছে বৈশাখী মেলা, যেখানে মাটির তৈরি খেলনা, তৈজসপত্র, লোকজসামগ্রী এবং নাগরদোলাসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সারা দেশের জেলা-উপজেলায় বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক উল্লেখ করে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। এটি ‘ফসলি সন’ থেকে ‘বঙ্গাব্দে’ রূপান্তরিত হয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

পাকিস্তান আমলে পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে প্রভাতী অনুষ্ঠান ছিল তৎকালীন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাঙালির জাতিসত্তা পুনর্জাগরণের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

২০১৬ সালে ইউনেসকো এই শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়- যা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

পহেলা বৈশাখ শুধু দিন নয়, আবেগের নাম। পুরনো অভিযোগ ভুলে, সব বাধা পেরিয়ে নতুন প্রতিজ্ঞায় পথচলার নাম। আজ বাঙালির প্রাণের দিন। ঘরে ঘরে উৎসব। দেশপ্রেম আর বাঙালিয়ানার এক অনবদ্য মেলবন্ধন পহেলা বৈশাখ।

চট্টগ্রামে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

এদিকে নানা অনুষ্ঠানমালায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিলে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষের বর্ষবরণ আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবার ডিসি হিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে নগরীর সিআরবির শিরীষতলাতেও পৃথক আয়োজনে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডিসি হিলে বর্ষবরণের আয়োজন নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম’-এর মতপার্থক্য দেখা দিলে সংস্থাটি প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেয়। তবে সেখানে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এবং কয়েক দফা আলোচনার পর তারা ডিসি হিলের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আয়োজক হিসেবে থাকছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

এছাড়া সিআরবির শিরীষতলায় বরাবরের মতো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘সম্মিলিত নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম’। এ আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব।

এছাড়া বৈশাখ উপলক্ষে সার্কিট হাউজ থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে আলপনা আঁকা হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, যা নগরীতে এই প্রথম এত দীর্ঘ আলপনা।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জমবে ডিসি হিলঃ

ডিসি হিলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধশত সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেবে। দিনব্যাপী সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিকেলে চিশতি বাউল সংগীত পরিবেশন করবেন।

১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ।

শিরীষতলায়ও বর্ষবরণের আয়োজনঃ

অন্যদিকে সিআরবির শিরীষতলায় ২দিনব্যাপি বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার বিকেল ৩টা থেকে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেবে ৬২টি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

নগরজুড়ে আরও আয়োজনঃ

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ চট্টগ্রাম দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন, সংগীত পরিবেশনা ও গীতি-নৃত্য আলেখ্য।

এছাড়া বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে ‘বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ আয়োজন করেছে। সেখানে আবৃত্তি, সংগীত, যন্ত্রসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেবে ২৪টি সংগঠন।

নগরীর পাথরঘাটায় সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণেও শোভাযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্বালন, সমবেত সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হবে।

চালবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে ৭ জন নিহত কুমিল্লায়

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), সোহরাব হোসেন (৪০), সালেক (৪৫) এবং সুমন (২১), বিষু (৩৫), আবু হোসেন (৩০) ও আব্দুর রশিদ(৫৫) এর বাড়ি একই জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-১২০৯) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপর অবস্থানরত ১৩ জন যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে তারা নিহত হন। আহত হন আরও ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো থানায় রাখা আছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক পহেলা বৈশাখ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। নতুন বছরের আগমন পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষক তার ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মধ্য দিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্র ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।

বিশ্ব যখন নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত, তখন শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতে হবে। নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।

 

বৈষম্য দূর না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি পরিবহন শ্রমিকদের

আন্তর্জাতিক মহান মে দিবস ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা অটোটেম্পু-অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন (কেন্দ্রীয় উপ-পরিষদ, রেজিঃ নং- চট্ট-১৪৮৭)-এর উদ্যোগে এক ব্যাপক সাংগঠনিক আলোচনা ও প্রস্তুতি সভা কাজির দেউরী সিডিএ মার্কেট ইউনিয়ন অফিসে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, “মহান মে দিবসের মূল চেতনা হচ্ছে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের পরিবহন শ্রমিকরা এখনও নানা ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার।” তারা ‘মহান মে দিবসের ডাক—পরিবহন শ্রমিকের বৈষম্য নিপাত যাক’ এই স্লোগান তুলে ধরে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বিশেষভাবে পরিবহন আইনের কিছু ধারা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কর্তৃক আরোপিত জরিমানার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য ও বৈষম্য বিদ্যমান- যা পরিবহন শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। একই অপরাধে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্নমাত্রার জরিমানা আরোপকে তারা অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন।

তারা আরও বলেন, “যদি এই বৈষম্য দ্রুত দূর না করা হয়, তাহলে পরিবহন শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।” বক্তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পরিবহন শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করা হলে এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়বে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা জরুরি।”

সংগঠনের সভাপতি মধু সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা দিলীপ সরকার, মো. জাকের, নুর হোসেন, আল আমিন, আলমগীর, ইউসুফ, মো. আব্দুল বাকী, মনির, কবির, লিটন, মো. হানিফ, অজয়েনসহ অনেকে।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, আইনি জটিলতা এবং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া। তারা বলেন, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, বীমা, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সভা শেষে পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণে পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান সিটি মেয়রের

চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নতুন বছরকে বরণ করার এ সময়ে নগরকে সবুজ ও বাসযোগ্য রাখতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পুরাতন বছর ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করার এই ক্ষণে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং আমরা যে দূষিত কার্বনডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি তা শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। ঐতিহাসিক সিরিষ গাছটি প্রায় ১২৫ বছর ধরে মানুষের উপকার করে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

করোনাকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, তখন মানুষকে অক্সিজেনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতির মাধ্যমে আমাদের প্রতিনিয়ত বিনামূল্যে অক্সিজেন দিচ্ছেন। তাই এই গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, একসময় সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলে স্থানীয় জনগণ তা প্রতিহত করতে দীর্ঘ ২৫০ দিন আন্দোলন চালায়। সেই আন্দোলনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, যা চট্টগ্রামবাসীর পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মেয়র বলেন, যদিও এই জায়গাটি রেলওয়ের অধীন, তবে এটি রক্ষা করার দায়িত্ব চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিকের। কারণ এই শহর সবার এবং সবাইকে মিলেই এটিকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলা মাস ও ছয় ঋতুর ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের ধারণা দিতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ভুলে গেলে দেশপ্রেম গড়ে উঠবে না।

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্বাধীনতা বইমেলা আয়োজন করা হয়েছে এবং আগামী ১৮ তারিখ পর্যন্ত তা চলবে। তিনি সবাইকে বইমেলায় গিয়ে বই কেনার আহ্বান জানান এবং বলেন, “বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না, বরং এটি জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে।”

সবশেষে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, সম্মিলিতভাবে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সিআরবি শিরীষতলায় বর্ষবিদায় ও দুইদিনব্যাপি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

শিক্ষাই একটি উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শক্তি : সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম নগরীর কদম মোবারক সিটি কর্পোরেশন উচ্চবিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে রবিবার( ১২ েএপ্রিল)  অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং বিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রকাশনা ‘স্পন্দন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের  মেয়র, ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষাই একটি উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শক্তি। একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর শিক্ষার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মেধা, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র সহকারী সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, যেখানে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রকাশনা ‘স্পন্দন’-এর মোড়ক উন্মোচন। প্রধান অতিথি ও সভাপতির উপস্থিতিতে প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের  মেয়র, ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্র কর্তৃক পরিচালিত বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সমমান এএমআইই কোর্সের ৯০তম ও ৯১তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এএমআইই পাঠক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী তৌহিদুল আনোয়ার এর সভাপতিত্বে এবং কমিটির যুগ্ম সদস্য-সচিব প্রকৌশলী মো… কামরুজ্জামান এর সঞ্চালয়নায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রের ভাইস-চেয়ারম্যান (একা. এন্ড এইচআরডি) প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, ভাইস-চেয়ারম্যান (এডমিন. প্রফেশ. এন্ড এসডব্লিউ) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কোর্স উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ও বুয়েটের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এএমআইই আন্তর্জাতিকমানের মর্যাদাশীল পেশাদারী একটি স্নাতক প্রকৌশল ডিগ্রি। কারিগরী ও প্রকৌশল পেশা জাতীয় পর্যায়ে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, অবকাঠামো নির্মাণ, বৈশ্বিক উদ্ভাবনি ও সৃষ্টিশীল সকল কর্মযজ্ঞে প্রকৌশলীরা দায়িত্ব পালন করে থাকে বলে মত ব্যক্ত করেন। তিনি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন উদ্ভাবনি কাজ এবং এদেশকে প্রযুক্তিগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এএমআইই ডিগ্রি অর্জন করা কঠিন নয়, একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সাথে পড়ালেখায় মনোযোগী হলে সহজে এএমআইই পাশ করা যায়। এছাড়াও তিনি স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রের এএমআইই উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ছাত্র-ছাত্রীর ইচ্ছা শক্তিই জীবনের মুল চালিকা শক্তি। তিনি হতাশ না হয়ে একাগ্রতার সঙ্গে লেগে থেকে লেখাপড়া করে এএমআইই ডিগ্রি অর্জন করা যায়। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের জানান এ ডিগ্রি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি হতে অধিক মানসম্পন্ন। এএমআইই ডিগ্রি অর্জন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম, কাউন্সিল সদস্য প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী এএইচএম রফিকুন্নবী, সিনিয়র প্রকৌশলী জামিল আল মামুন, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল মান্নান, প্রকৌশলী আবুল বাশার, প্রকৌশলী মোহাইমিনুল ইসলাম, প্রকৌশলী মোঃ কুতুব উদ্দিন। এএমআইই’র ছাত্রদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিসবাহুল মেশকাত, জোবায়ের হোসেন ও মিসেস রিতু রানী সাহা।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, প্রকৌশলীবৃন্দ, রিসোর্স পার্সন এবং ৯০তম ও ৯১তম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য অত্যন্ত স্বল্প খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং এইচ এস সি (বিজ্ঞান) পাশ ও প্রকৌশল সংস্থায় কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন পরিচালিত পরীক্ষার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং  স্নাতক ডিগ্রীর সমমানের এএমআইই ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পায়। চুয়েট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্তলীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত রিসোর্স পার্সনরা এতে পাঠদান করেন।

 আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য করের আওতা বাড়ানো অপরিহার্য। তবে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬–২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল ২৪ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব শৃঙ্খলা আনতে আমাদের করের আওতা বাড়ানো দরকার। তবে ব্যক্তির ওপর করের চাপ বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা (ট্যাক্স বেস) বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য। আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, আসন্ন বাজেট ও পরবর্তী সময়ে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতার ওপর তার আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার সিনিয়র সহকর্মী অর্থমন্ত্রীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি ব্যবসাবান্ধব ব্যক্তি। তিনি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বোঝেন। এই মৌলিক বিষয়টি না বোঝার কোনো কারণ নেই। আমি বেসরকারি খাতকে বলব- আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা একসঙ্গে কাজ করব এবং দেশকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাব।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে প্রথমেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হবে। অতীতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির কারণে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। সরকার ও অর্থনীতির অন্যান্য অংশীজনদের মধ্যে সংযোগ ও স্বচ্ছতা না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল বিষয়। কিন্তু অতীতে এমন অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তব ভিত্তি বা যৌক্তিকতা ছিল না। এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের পর্যালোচনায়ও অনেক প্রকল্পে দুর্নীতি ও অদক্ষতার চিত্র উঠে এসেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করা সম্ভব নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ ব্যবসা প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা জরুরি। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই লাইসেন্স ও নিবন্ধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট আইআরসি ও ইআরসি সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। এখন থেকে অনলাইনে আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ ডাউনলোড করা যাবে। ফলে সময় ও ভোগান্তি কমবে।

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবুও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে লোকসানি চিনিকলগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আনা এবং বিকল্প পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

অনুষ্ঠানে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই। এছাড়া তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। সরকার ও বেসসরকারি খাতের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ ও রিজওয়ান রাহমান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর সভাপতি মো. কাওসার আলম, আইসিএবি সভাপতি এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর প্রমুখ।

আবুল খায়ের স্টীল মিলে আবার ডাকাতদলের হানা , ৩জন ধৃত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শীতলপুরস্হ   আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেড ফ্যাক্টরিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরির পূর্ব পাশে অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতদল ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে তামা,পিতল, মোটর এবং বৈদ্যুতিক ক্যাবলসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে পালানোর চেষ্টাকালে   দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বাধা দিলে ডাকাত দল তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আত্মরক্ষার্থে আনসার সদস্যরা ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে ডাকাতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আনসার পি.সি মো. স্বপন বেপারীর নেতৃত্বে একটি দল সাহসিকতার সাথে ধাওয়া করে ৩ জন ডাকাতকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। বাকি ডাকাতরা কিছু মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃতদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া কিছু বৈদ্যুতিক কাটা ক্যাবল, দেশীয় কিরিচ ও রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর পর ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি টিম ও আনসার সদস্যরা মিলে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত রোজার মাসেও একটি ডাকাতদল কারখানায় জোরপূর্বক ঢোকে ডাকাতির চেষ্টা চালায়,এসময় কারখানায় অফিসের গ্লাস, চেয়ার টেবিল, ভাংচুর করে। তবে গ্রামবাসি এগিয়ে আসলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ভিসা পাবেন বাংলাদেশিরা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভিসার সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসাও চালু করতে ভারত সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে ভারতের ভিসা চালু হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রুটিন বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব তথ্য জানান।

হুমায়ূন কবির বলেন, ‘মেডিকেল, বিজনেস ভিসা দ্রুত চালু করার কথা বলা হয়েছে ভারতের সঙ্গে। হয়তো আগামী সপ্তাহে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য ভারতকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। হুমায়ূন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এখন অপ্রাসঙ্গিক। তাদের আর বাংলাদেশে গুরুত্ব নেই। শেখ হাসিনার বিষয়ে জুডিশিয়াল প্রসেসে এগোনো হবে।’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুই আসামি ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। ভারতের সঙ্গে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সার্কভুক্ত দেশগুলোতেও প্রথম সফর হতে পারে। তবে এখনো কিছু ফাইনাল হয়নি, তবে ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে।’

বর্তমান সরকার সবসময় জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে আছেন, তাই বড় গলায় কথা বলতে পারি। দেশকে বিক্রি করে বিএনপি সরকার কিছুই করবে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হয় বাংলাদেশের। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তবে ‘পজিটিভ মাইন্ডসেট থাকলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব’ বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে!

ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনোভাবেই তেল বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘অনেক ইতিবাচক ঘটনা’ ঘটছে যা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দেবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন এখন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে।

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি এখনো ভালোভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উপহাস করে বলেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় আছে।

ইরানের নৌবাহিনীর শক্তি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।’ ট্রাম্পের মতে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে কারণ অন্যান্য দেশগুলোও এখন ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের যোগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তজনা এবং আসন্ন অবরোধের কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে তাদের পথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানোর এবং জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে তাঁর কঠোর মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধে অন্য দেশের সম্পৃক্ততার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কী ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববাসী। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি