শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এক সপ্তাহের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করলে এটা আরও কমে যাবে। আশা করি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

টিকার কোন ঘাটতি নেই জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো টিকার ঘাটতি নেই। সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত বিনা বাধায় আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো। তবে আগামী মাসে একটা জায়গায় আমাদের কিছু ঘাটতি দেখা দিতে পারে সেটা হলো .০৫ সিরিঞ্জ। সে ঘাটতি পূরণ করতে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে এটি পাইপলাইনে আছে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে আমরা সিরিঞ্জের এ ঘাটতিও পূরণ করতে পারবো। ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা আংশিক সিরিঞ্জ আগামী সাতদিনের মধ্যে নিয়ে নেবো। আর বাকিগুলো মে মাসের মধ্যে তারা আমাদের সরবরাহ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে হামের রোগী নিয়ে ঢাকায় আসে এজন্য ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর কিছুটা চাপ পড়ে। সে সমস্যা সমাধানে আমরা রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল হামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের কিছু জনবলের ঘাটতি আছে, সেগুলোই ইতোমধ্যে চিহ্নিত করেছি। খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

দেশে চলমান টিকা কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের সহায়তায় দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছি এবং আগামী ২০ এপ্রিল বৃহৎ পরিসরে শুরু হবে।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও ইপিআইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে ১২৭ জন এবং হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১১৫ জন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জন এবং সন্দেহজনক আরও ১৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন এবং সন্দেহজনক আরও ২১ হাজার ৪৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে মারা যায় পাঁচ শিশু ও আক্রান্ত হয় এক হাজার ২৭৮ জন।

এ সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মারা যায় ঢাকা বিভাগে এবং মৃত্যু হয় বরিশাল বিভাগে।

২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৫ শিশু

গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরো ১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, নতুন ১৫ শিশুসহ হাসপাতালগুলো হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জনে।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জনের। এদের মধ্যে ২৬ জন নগরীর ও ১১ জন বিভিন্ন উপজেলার। হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে ২০ জন বাড়ি ফিরেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চার জনের নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। এবারের ক্যাম্পেইনে সাতটি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

দেশের ইতিহাসে  বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।  ফাইল ছবি

বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জ্বালানির পূর্ণ মজুত রয়েছে। একইসঙ্গে জুন মাসের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চার জাহাজে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, মিটবে যতদিনের চাহিদা

প্রতিমন্ত্রী এরপর বলেন, জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে, যা জাতীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে

এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীও জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত আগামী দুই মাসের জন্য যথেষ্ট।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রাণালিতে চলমান অবরোধের প্রভাব দেখা যাচ্ছে দেশে; জ্বালানি তেল মজুতে মেতে উঠেছে অসাধু চক্র। ফলে, অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ক্রেতাসাধারণের মনেও। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্কের কারণে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই বোন গুলিবিদ্ধ

রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ নেতা ধর্মশিং চাকমা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার আপন দুই বোন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ভাগ্যশোভা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুকছড়ির উপরপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় অবস্থানকালে একদল সন্ত্রাসী এসে ধর্মশিংহ চাকমাকে গুলি করে। ধর্মশিংহ চাকমা প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।

কুতুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কানন চাকমা জানান, স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ২০-৩০ জনের অস্ত্রধারী লোকজন ধর্মশিংহের বাড়ির দিকে আসতে দেখে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। দৌড়ে পালানোর সময় তাকে গুলি করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে গেলে তার দুই বোনও গুলিবিদ্ধ হন।

ধর্মশিংহের মরদেহ বর্তমানে বাড়িতে রাখা আছে এবং পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অং মারমা বলেন, ধর্মশিংহ সাংগঠনিক কাজে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। ‘বিচু’ উপলক্ষে তিনি নিজ বাসায় ছিলেন। ভোরে জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় তার দুই বোনও গুলিবিদ্ধ হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইউপিডিএফ কুতুকছড়িতে অবরোধ পালন করছে এবং কিছুক্ষণ পর প্রতিবাদ সভা করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস-এর কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, হাতে গুলিবিদ্ধ দুই নারীকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তারা চিকিৎসা নিয়ে পরে চলে গেছেন।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছে ইউপিডিএফ।

রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি, আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। মরদেহ পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনবদ্য দিন। একাত্তরের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়।

একই বছরের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন হয়। সেই সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এদিন গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।

সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। মুজিবনগর সরকারের শপথের দিন ১২ জন আনসার সদস্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পর দিন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন। তার এই ভাষণ আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচার হয়।

ওই ভাষণে দেশব্যাপী পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়। তাজউদ্দীনের ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক চক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

পরে একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়-নীতিবহির্ভূত আক্রমণ করলে ২৬ মার্চ শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

এরই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।

১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান বিমানবাহিনী বোমাবর্ষণ ও হামলা চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। এতে অস্থায়ী সরকার ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকে। ১৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।

নতুন দুই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, বাড়ছে সরকারি ছুটি

নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৬ জুলাইকে পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ৬ জুলাই পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে, এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না। এছাড়া, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

এসময় সরকার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

এর আগে, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

জব্বারের  বলী খেলা ও  বৈশাখী মেলা ২৪ এবং ২৫ এপ্রিল

আগামী ১২ বৈশাখ ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বার স্মৃতি বলী খেলার ১১৭ তম  আসর। সে সাথে বসবে দেশের সর্ববৃহৎ  বৈশাখী মেলা । দেশের আলোচিত এই বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দামপাড়াস্থ সিএমপির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় মেট্রোপলিটন  পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, আয়োজক কমিটি, র‌্যাব, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, এন এস আই, সিএসবি, ডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বলী খেলা ও দেশের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। সে সাথে  বৈশাখী মেলা ২৪ এপ্রিল শুক্রবার এবং ২৫ এপ্রিল শনিবার ২দিন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৬ এপ্রিল রবিবার এস এসসি পরীক্ষা এবং পার্শ্ববর্তী মুসলিম হাই স্কুলে এস এসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় এদিন ভোরে মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এবারের বলী খেলার ১১৭তম আসর সুষ্ঠুভাবে  সম্পন্ন করতে  মূল ভেন্যুর নিরাপত্তা, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, ফুট পেট্রোল ডিউটি, পিকেট/ ডাইভারশন পয়েন্ট ডিউটি, রুফটপ ডিউটি, ডিবি টিম মোতায়েন, স্পেশাল রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন,  কুইক রেসপন্স টিম গঠন, সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড (কে-নাইন), স্ট্যান্ডবাই ফোর্স, র‌্যাবের বিশেষ ফোর্স  সহ  ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।  সে সাথে  বৈশাখী মেলা চলাকালীন প্রধান সড়ক, বিশেষ করে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর থেকে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে হয়ে সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত সড়ক  ও কোতোয়ালী থানা সড়কে  যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং  কোন অবস্থাতে এ  সড়কের উপর মেলা না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়।

মেলায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ , অশ্লীল গান- নৃত্য পরিবেশনা নিষিদ্ধ এবং কোনো প্রকার জুয়ার আসর না বসানো,  সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া গেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নিরাপত্তার সার্থে ড্রোন ওড়াতে মেট্রোপলিটন পুলিশের পূর্বানুমতি গ্রহণ, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা এবং  লালদিঘী মাঠ বা সুবিধাজনক স্থানে ফায়ারের গাড়ী  স্ট্যান্ডবাই রাখা  সিদ্ধান্ত নেয়া হয় । এ বারের বলী খেলার প্রধান স্পন্সর মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক।

গ্রামীণ হেলথটেক চালু করলো “সুখী অনলাইন হেলথস্টোর”

গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার অ্যাপ “সুখী” তাদের নিজস্ব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম “সুখী অনলাইন হেলথস্টোর” আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উদ্বোধন করেছে।

এই নতুন উদ্যোগটি দেশব্যাপী আসল স্বাস্থ্যপণ্য সুবিধাজনকভাবে পৌঁছে দিবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে। গুণগতমান নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মে থাকা সব পণ্য সরাসরি অনুমোদিত প্রস্তুতকারক ও পরিবেশকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়- যা ১০০% আসল ও নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করে।

গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা। এই প্ল্যাটফর্মের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—অথেনটিক পণ্য, সেরা দাম, পণ্যের  সঠিক সংরক্ষণ এবং সারা দেশে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সিমলেস অর্ডারিং অভিজ্ঞতা”।

গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার  ড. আহমেদ আরমান সিদ্দিকী বলেন, “এই প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শুধু স্বাস্থ্যপণ্য কিনতেই পারবেন না পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ, ল্যাব টেস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাও গ্রহণ করতে পারবেন -যা একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করে।”

১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৮ এপ্রিল ১১ দলের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল ঢাকা বাদে অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে গণমিছিল এবং ২ মে জেলা শহরে গণমিছিল। এছাড়া ১৮ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে বেলা ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বৈঠক শুরু হয়। চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার প্রমুখ।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই ধাপের কর্মসূচি শেষে পরবর্তী ধাপে দেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ কর্মসূচির দিনক্ষণ পরবর্তী সময়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঠিক হবে। এরপর ১১ দল রাজধানীতে বিশাল সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশ থেকে তার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণরায় মানছে না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই ১১ দলের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সে পর্যন্ত ১১ দল দফায় দফায় কর্মসূচি দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার।

১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন নাতনি জাইমা রহমান।

দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পদক প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে এই পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমা রহমান।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

 

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে ৭ দিনব্যাপী বিএনসিসি ক্যাম্পিং শুরু শুক্রবার থেকে  

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর স্থায়ী ক্যাম্পাস বায়েজিদ আরেফিন নগরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর কর্ণফুলী রেজিমেন্টের উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হতে সাতদিনব্যাপি রেজিমেন্ট কালেক্টিভ ক্যাম্পিং—২০২৬ শুরু হচ্ছে। ক্যাম্পিং চলবে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

এতে অংশ নিচ্ছেন চট্টগ্রামের  ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ জন ক্যাডেট। সাতদিন ব্যাপী রেজিমেন্ট কালেক্টিভ ক্যাম্পিং—২০২৬ এর উদ্বোধন করবেন কর্ণফুলী রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাদিকুর রহমান, পিপিএমএস, পিএসসি এবং উক্ত ক্যাম্পিং পরিচালনা করবেন কর্ণফুলী রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়নের অ্যাডজুটেন্ট মেজর মো. রাফিকুল হাসান রাফি । এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিএনসিসি অফিসার, পিইউও, টিইউও, সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

নীরা গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দিতে শাহরুখ আমিনের সঙ্গে প্রাইম ব্যাংকের চুক্তি

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড শাহরুখ আমিনের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে নীরা  গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ উপলক্ষে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে প্রাইম অ্যাসপায়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্পর্কিত এক চুক্তি স্বাক্ষর করে উভয় প্রতিষ্ঠান।

এই চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংকের নীরা গ্রাহকরা শাহরুখ আমিন থেকে কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন, যা তাদের লাইফস্টাইল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর এসইভিপি ও হেড অব লাইয়াবিলিটি অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট শায়লা আবেদীন এবং শাহরুখ আমিনের স্বত্বাধিকারী শাহরুখ আমিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর হেড অব কাস্টমার প্রপোজিশন হোসাইন মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের লাইফস্টাইল ভিত্তিক মানসম্পন্ন সেবা ও আর্থিক সমাধান প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা গ্রাহকদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ওড়না পেঁচিয়ে রামুতে যুবকের আত্মহত্যা

​কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ঋণের চাপ ও পারিবারিক কলহের জেরে ইসমত হোসাইন তাকিব (২৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জেখানা ঢালারমুখ আদর্শগ্রাম এলাকায় দুবাই প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তাকিব। গতরাত (১৫ এপ্রিল) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তকিবের সাথে তার স্ত্রী রুবায়েত সারমিন মনির ঝগড়া হয়। কলহের একপর্যায়ে তাকিব তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।

ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাত ১১টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় তিনি ঘরের সিলিংয়ের এঙ্গেলের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।​

​নিহত ইসমত হোসাইন তাকিব চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের মৃত মো. মহসিনের পুত্র। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবারে রামুর রাজারকুলে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।​

​পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ভাষ্যমতে, নিহত তাকিব বেশ কিছু টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এই ঋণের বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। ঋণের বোঝা সইতে না পেরে এবং পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।​

এদিকে ​খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিশ্চিত করেছেন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়কালে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।

সীতাকুণ্ডে শিশুদের হাম রোগ বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স  কর্তৃক  আয়োজিত   হাম – রুবেলা ( এমআর)  টিকা দান কর্মসূচী সফলভাবে বাস্তবায়নে ও গণসচেতনতার লক্ষ্যে  এক সেমিনার সীতাকুণ্ড উপজেলা কনফেরান্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্হ্য  কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম,মেডিকের অফিসার ডাক্তার তনয় মজুমদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা লুৎফর নেছা বেগম, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম চৌধুরী,  সাবেক কমিশনার মো. হেলাল উদ্দীন,কিন্ডার গার্ডেন এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী মো. শামীম।

প্রধান অতিথি বলেন,  হঠাৎ শিশু,কিশোররা  হাম – রুবেলা ( এমআর) রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকার এই রোগ প্রতিরোধে সারা দেশে হাম -রুবেলা প্রতিরোধ টিকা কর্মসূচী হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করছে। তবে টিকা নেয়ার পরও কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে।

হাম একটি সংক্রামক রোগ।হাম আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন,দ্রুত নিকটস্হ স্বাস্হ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান,ডাক্তার দেখান,সুরক্ষার জন্য পরিবারের সবাই মাস্ক পড়ুন,শিশুকে  স্পর্শ করার আগে পরে সাবান দিয়ে হাত ধূয়ে নিন,নিয়মিত টিকা দিন।

অস্থির বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির রূপরেখা তুলে ধরল বিশেষজ্ঞরা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায়—এমন উদ্বেগ তুলে ধরে “পরিবেশ ও প্রতিবেশ ফোরাম-চট্টগ্রাম” এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি ঘোষণা, সংকট মোকাবেলায় অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, এখনই একই সাথে জ্বালানি সংকটের সময় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরশক্তি ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে কৌশলগতভাবে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানের দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬এপ্রিল) নগরীর একটি রেস্টোরেন্ট এ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ, ‘ক্লিন’ এবং ‘বিডব্লিউজিইডি’ এর সহযোগিতায় “পরিবেশ ও প্রতিবেশ ফোরাম-চট্টগ্রাম” এর সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্যাব বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক বাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী। “পরিবেশ ও প্রতিবেশ ফোরাম-চট্টগ্রাম” এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স এর প্রফেসর ড.খালেদ মিসবাহুজ্জমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ফোরাম-চট্টগ্রাম এর সদস্য ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, সদস্য ও ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মিটুল দাস গুপ্ত প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি সরবরাহ সংকটে পড়ে। ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর এর চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াচ্ছে, যা টাকার মান কমানো এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গত এক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৬৫ শতাংশ এলএনজি এবং অর্ধেকের বেশি এলপিজি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে।

সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাবও তুলে ধরা হয়। গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ অচল হয়ে পড়ছে, শিল্প উৎপাদন কমছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং কৃষিতে সেচব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলেও সতর্ক করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে জ্বালানি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পর থেকে বাংলাদেশ একটি ব্যয়বহুল জ্বালানি কাঠামোর মধ্যে আটকে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এলএনজি ও তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লব একটি কার্যকর উদাহরণ, যেখানে স্বল্প সময়ে ব্যাপক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশেও প্রায় ৪ কোটির বেশি পরিবারের একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পারে।

তাদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা জ্বালানি আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং কৃষিখাতে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতির আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, সরকারি-বেসরকারী ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কৃষি কাজে সৌরচালিত সেচ পাম্প বৃদ্ধি, গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক যান চালু এবং নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণের হার বাড়ানো। এছাড়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেয়ারও সুপারিশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ঝুঁকি নয়, এটি একটি সুযোগও। এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে দেশকে।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ

লা লিগায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নকআউট পর্বে একের পর এক বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। ম্যানসিটির মতো দলকে হারাতে পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাস্ত হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

যার মূল কারণ গোলকিপার, থিবো কর্তোয়ার ইনজুরি পড়ায় লুনিন দলকে সেরা দিতে পারেননি। বায়ার্নের মাঠে বার বার কামব্যাক করলেও হতাশ করেছে লুনিন। তাই শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতেছে তারা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।

এদিনের ম্যাচের শুরুর মিনিট থেকে গোল করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি।

এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হ্যারি ম্যাগুয়ের

ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।

একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।

৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত

সারা দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ২০২৬ সালের সদস্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সূচি বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। এই অবস্থায় সাধারণ আসনের ৭টি এবং আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আইনজীবীদের পক্ষে দেশজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা বার সমিতির পক্ষ থেকে নির্বাচন স্থগিতের জন্য আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ২ এপ্রিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত ১৯ মে’র নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

এর আগে গত ২ এপ্রিল বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ১৯ মে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সভায় ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এএসএম বখতিয়ার আনোয়ার, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল আল মামুনসহ কাউন্সিলের বিভিন্ন কমিটির শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পদক্ষেপ বা নতুন সময়সূচি সম্পর্কে আইনজীবীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুততম সময়ে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়তে কাজ করছি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইমারাতুন্নেসা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায়, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব নাজমা বিনতে আমিন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের শিক্ষানুরাগী সদস্য জনাব জিয়াউর রহমান জিয়া, সম্মানিত অভিভাবক সদস্য জনাব আলতাফ হোসেন, জনাব আব্দুর রশিদ চৌধুরী (টিটু) এবং মোছাম্মৎ মণিকা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে বরণ জানান এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

মেয়র তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম নগরীর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও কার্পেটিং কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে খাল-নালা পরিষ্কার ও পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নগরীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

এ সময় মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং সুস্থ সমাজ গঠনে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা—যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পিএইচপি মোটরসের সঙ্গে রবির চুক্তি স্বাক্ষরিত

দেশের স্বনামধন্য মোবাইল অপারেটর ‘রবি এলিট’ এবং পিএইচপি মোটরসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই এমওইউর মাধ্যমে রবির এলিট গ্রাহকদের জন্য অটোমোবাইল খাতে বিশেষ সুবিধা ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিশ্চিতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকার তেজগাঁয় রবি প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায়, রবি এলিট গ্রাহকরা পিএইচপি মোটরস থেকে নতুন পেরাডোয়া গাড়ি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এই অফারটি মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড পেরাডোয়ার বিভিন্ন মডেল- আরুজ (এসইউভি), বেজা (সেডান), মাইভি (হ্যাচব্যাক) ও অ্যাক্সিয়া (হ্যাচব্যাক)’ এবং পেরাডোয়ার সিরিজের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসব গাড়ি বাংলাদেশে পিএইচপি মোটরস বাজারজাত করছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত গাড়ি কেনার অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে পিএইচপি মোটরসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক তাসির করিম, মার্কেটিং ম্যানেজার এহসান আহমেদ এবং সেলস অ্যাডভাইজার ফাহিম আহমেদ ও আল-মুজাহিদ। অন্যদিকে রবি আজিয়াটা পিএলসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস বিভাগের পরিচালক মানিক লাল দাস, লয়্যালটি অ্যান্ড পার্টনারশিপ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার তাসনিয়া আফরিন, ম্যানেজার তানভীর আলম চৌধুরী এবং লয়্যালটি অ্যান্ড কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ মার্কেট অপারেশনস বিভাগের ম্যানেজার মো. আল মামুন।

পিএইচপি মোটরসের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক তাসির করিম ও রবি আজিয়াটার পক্ষে কাস্টমার ভ্যালু সলিউশনস বিভাগের পরিচালক মানিক লাল দাস স্বাক্ষর করছেন

 

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল রিপসা কমিটি চট্টগ্রাম জোনের উদ্যোগে বর্ষবরণ উদযাপন

গতকাল ১৪ এপ্রিল নগরীর ন্যাশনাল মেরিটাইমস ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ চট্টগ্রাম রোটারি রিপসা টিমের উদ্যোগে দিনব্যাপী রোটারি বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান রোটারিয়ান পিপি মিনহাজ উদ্দিন নাহিয়ান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রিপসা কোঅর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি আজিজুল হক, রোটারিয়ান পিপি মনিরুজ্জামান, রোটারিয়ান সিপি আবু তৈয়ব, রোটারিয়ান পিপি এমদাদুল আজিজ, ডিপুটি কোর্ডিনেটর ও নববর্ষ উদযাপন কমিটির কোর্ডিনেটর রোটারিয়ান সিপি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নান্টু, ডিপুটি কো- অডিনেটর রিপসা রোটারিয়ান সিপি ইব্রাহিম হাসান,মেম্বার সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিপুটি কোর্ডিনেটর সিপি মো. আরশাদ চৌধুরী, রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট সওকত আউয়াল চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর পিপি এস এম জমির উদ্দিন, পিপি উত্তম কুমার ব্যানার্জি, রোটারিয়ান এডভোকেট সাহাদাত হোসেন, রোটারিয়ান সিপি মো. নাঈম উদ্দিন,রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রেজিস্ট্রেশন কো-চেয়ার রোটারিয়ান আসরাফু আলম।

প্রেসিডেন্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান সৈয়দা কামরুন নাহার, রোটারিয়ান তাহিয়া কবির, রোটারিয়ান আফিয়া খাতুন মীরা, রোটারিয়ান রোকসানা ফারুক, রোটারিয়ান সাবিনা কাইয়ুম, রোটারিয়ান রওশন আক্তার, রোটারিয়ান কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু, রোটারিয়ান মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, রোটা: আনারুল কবির চৌধুরী, রোটারিয়ান আনিসুর রহমান, রোটারিয়ান খন্দকার মো. এমদাদুর রহমান, রোটারিয়ান এম এ মতিন, রোটা: শহিদুল ইসলাম, রোটারিয়ান আবু বকর সিদ্দিক, রোটারিয়ান আশরাফুল আলম রোটারিয়ান আব্দুল্লাহ মিলন, রোটারিয়ান শ্যামল কান্তি মজুমদার, রোটারিয়ান মো. আলী মিয়া।

অনুষ্ঠানে ২৯ টি রোটারি ক্লাবের সিনিয়র রোটারিয়ান, প্রেসিডেন্ট বৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুরুতে চট্টলাকুড়ি শিল্পীদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী নৃত্যের পর আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় নাচ,গান, আবৃত্তি, বাঙালি ফ্যাশন-শো, রোটারি পরিবারের শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সকল রোটারিয়ান ও পরিবারের সকল ছেলেমেয়েদের জন্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন করা হয়।

উপভোগ্য অনুষ্ঠানে সকালে নাস্তা পাটিসাপটা পিঠা, সিংগারা, তরমুজ,ফুট, তেঁতুলের চা কফি,বাঙালিয়ানায় পান্থা- ইলিশ নান রকম ভর্তায় সবাই মধ্যাহ্য ভোজ ও বিকালে জিলাপি, চটপটি,চা কফি আয়োজনে প্রানবত উপভোগ্য। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ গ্রহণ কারিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন পহেলা বৈশাখ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল, সর্বজনীন এবং প্রাণের উৎসব এটি কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, হাজার বছরের সংস্কৃতি এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হওয়ার এক অনন্য মহামিলন মেলা। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং আধুনিক জীবনের বাস্তবতায় উৎসবের ধরনে এখন এক চমৎকার পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশাল জনসমাবেশ বা অতি-আড়ম্বরের চাকচিক্য ছাপিয়ে এখনকার সময়ে মানুষ অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উৎসবের গুণগত মান, গভীরতা এবং আত্মিক সংযো সংযোগের ওপর। আড়ম্বর কমিয়ে এই যে ছোট পরিসরে কিন্তু অর্থবহ ও গভীর এই ও গভীর ব্যঞ্জনায় উৎসব পালন, এটিই মূলত রোটারি পরিবারের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আসলাম চৌধুরী এমপির সাথে এসজেএফ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজ (১৫এপ্রিল) বিকেলে সীতাকুণ্ডের এমপি জননেতা আসলাম চৌধুরী এফসিএর সাথে তাঁর ফৌজদারহাটের বাসভবনে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম (এসজেএফ) নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। অত্যন্ত আন্তরিকতা,ভাবগম্ভির ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় হয় এবং বক্তাদের বক্তব্য তিনি মনোযোগসহকারে শোনেন- যা ছিল অভূতপূর্ব। এসময় তিনি এসজেএফ’র সীতাকুণ্ডের সমস্যাসম্বলিত ১৯দফা কর্মসূচি ধৈর্যসহকারে পড়েন এবং তা পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নীতি-আদর্শ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন এসজেএফ’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মশিউর রহমান খান,সভাপতি আজিজ আহমেদ চৌধুরী,সহ-সম্পাদক আলাউদ্দিন চৌধুরী,সহ-সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহম্মেদ জুয়েল,সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক সঞ্জয় রায়, যুব ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আর কে দাশ (রবিন্স), সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাপস কর, তথ্য ও সম্প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক হাকিম মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক সুজিত পাল, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এসময় উপস্থিত সীতাকুণ্ড পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

লায়ন আসলাম চৌধুরী এমপিকে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন

সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানের মধ্যমণি লায়ন আসলাম চৌধুরী এমপি সামাজিক সংগঠন-সর্ম্পকিত নানা নিয়ম-নীতি বিশ্লেষণ করে বলেন, সামাজিক সংগঠন পরিচালনা ও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা খুবই কঠিন কাজ। সংগঠন স্থাপন করা বড়কথা নয়, টিকিয়ে রাখা হলো মূল চ্যালেঞ্জ। সংগঠনের গঠনতন্ত্র সঠিক ও বাস্তবসম্মত না হলে উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতাদের অস্তিত্বসঙ্কটে পড়তে হয়। তাই, অনেক হিসেব-নিকেশ করে বুদ্ধিমত্তার সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। পরে আসলাম চৌধুরী এমপিকে সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরাম নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য,১মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় সীতাকুণ্ড জনকল্যাণ ফোরামের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে  ‘রূপসী সীতাকুণ্ড’ নামক স্যুভেনির প্রকাশ, আলোচনা,গুণিজন সংবর্ধনা,গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণসহ নানান মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (র.) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন চসিক মেয়র

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার ও মসজিদ ওয়াকফ এষ্টেটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. মো. শাহাদাত হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে।

সম্প্রতি গঠিত পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও নগর প্রশাসনের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব হিসেবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সম্পৃক্ততায় মাজার পরিচালনার সার্বিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।

মাজার এর উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহের সুষ্ঠু আয়োজন কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মাজারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হযরত খাজা গরীব উল্লাহ শাহ্ (রঃ) মাজার দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের আধ্যাত্মিক মিলনস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে এর ঐতিহ্য ও কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এই শহর শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার শহর। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নৈশ ভোজ ও এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সপরিবারে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অসময় ব্যান্ড ও চসিকের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গান ও নাচের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের কাজের ভুল ধরিয়ে দেবেন, সমালোচনা করবেন, এভাবেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র জানান, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে দুইটি ল্যান্ডফিল থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া একটি ল্যান্ডফিল থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যান্ডফিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে মেয়র বলেন, গত বছর আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছি। এ বছর খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে এবং হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ চলমান রয়েছে।

মেয়র জানান, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সুবিধা পাবে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন মাঠ উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।

মেয়র বলেন, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

‘চট্টগ্রাম অ্যাপ’ চালুর ঘোষণা দিয়ে মেয়র জানান, নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত সমাধানে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি সমস্যার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন।

স্বাস্থ্যখাতে মেয়র জানান, ইতোমধ্যে ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে এনআইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শেষে মেয়র বলেন, নগর সরকার শক্তিশালী না হলে পরিকল্পিত নগরায়ন সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে পারব।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজ নাজমুল হাসান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, সিএমপির উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, এডিসি শামসুজ্জামান, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, সিইউজে’র সভাপতি রিয়াজ হায়দার, সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ সহ বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।

 

জ্বালানী খাতে সক্ষমতাবৃদ্ধিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নাই

সৌর, পানি ও বায়ু বিদ্যুতের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া জ্বালানীতে সক্ষমতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। কারণ জ্বীবাষ্মভিত্তিক জ্বালানীতে নির্ভরশীলতার কারণে পুরো দেশ ও জাতি এখন চরম সংকটে। জ্বালানি তেলের অভাবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আর জ্বালানীর অভাবে শিল্প, কলকারখানা, অফিস আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। টাকা থাকালেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। সে  জায়গায় যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানীখাতে সক্ষমতা বাড়ানো যেত তাহলে, অর্থনীতির চাকা সচল থাকতো। তাই এখন থেকেই জ্বীবাষ্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে নবয়ানযোগ্য জ্বালানীতে অধিক জোর প্রদান করতে হবে। একই সাথে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই জ্বালানীর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে তরুন প্রজন্মকে সচেতন করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সবুজ জ্বালানী বিষয়ক প্রচারণা কর্মসুচির মতো আরও গণসচেতনতামুলক কর্মসুচি আয়োজন করতে হবে।

১৫ এপ্রিল বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ, ‘ক্লিন’ এবং ‘বিডব্লিউজিইডি’-এর উদ্যোগে নগরীর কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সবুজ জ্বালানী বিষয়ক প্রচারণা কর্মসুচির আওতায় আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

কাপাসগোলা সিটিকরপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়া সভাপতিত্বে ক্যাব চট্টগ্রাম ক্যাব বিভাগীয় সংগঠক রাসেল উদ্দীনের সঞ্চালনায় প্রচারণা কর্মসুচির অংশ হিসাবে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মান্নান, ক্যাব চান্দগাও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার, প্রজেক্ট অফিসার রাইসুল ইসলাম, অ্যাডমিন অফিসার আবদুল মান্নান জিহাদ প্রমুখ।

রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে ৯ শ্রেণীর ছাত্রী সো্হাইলা করিম চৌধুরী, ২য় হয়েছে ৯ম শ্রেণীর তাহিয়াত তারান্নুম আরশি ও ৩য় হয়েছে ১০ম শ্রেণীর তুনাজ্জিয়া নুর। রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে ১০ শ্রেণীর উনাইছা আমরিন, ২য় হয়েছে ১০ম শ্রেণীর আদওয়া জাহান, ৩য় ১০ শ্রেণীর মৌমিতা দাস বর্ষা। এ প্রচারণা কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

কাপাসগোলা সিটিকরপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়া বলেন, জ্বীবাস্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশ আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। জ্বালানী তেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। টাকা থাকলেও জ্বালানী তেল আমদানিও করা যাচ্ছে না।সে কারণে আগামি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে সবুজ জ্বালানী বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও টেকসই জ্বালানি নিয়ে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা দরকার। তাহলে পুরো জাতি উপকৃত হবে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বীবাষ্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে দেশ জ্বালানী খাতে সক্ষমতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। যার কারণে ইরান যুদ্ধের ফলে টাকা থাকলেও জ্বালানী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানী নিরাপত্তা আজকে হুমকির সম্মুখীন। সেকারণে যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হতো তাহলে বিপদের সময় এধরনের হুমকিতে পড়তে হতো না। এ জন্য সবুজ জ্বালানীর সক্ষমতা বাড়াতে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগের বিকল্প নাই। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো, তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানির ব্যবহার সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

বাইফা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেন চট্টগ্রামের মেয়ে স্মিতা চৌধুরী

দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘বাইফা অ্যাওয়ার্ড’-এ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস) সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়ে, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট নির্মাতা স্মিতা চৌধুরী। সম্প্রতি মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়া অঙ্গনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ইতিমধ্যে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সৃজনশীলতার এক যুগ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে স্মিতা চৌধুরীর পদচারণা। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান তারকা শিল্পী তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনন্য সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশসেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায়। দক্ষ উপস্থাপনা এবং মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি কেবল পরিচিতিই পাননি, অর্জন করেছেন কোটি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল জনপ্রিয়তা

বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে স্মিতা চৌধুরীর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তবে কেবল সংখ্যা নয়, বরং তার কনটেন্টের গুণগত মানই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ইতিবাচক বার্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং দর্শকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিটি কাজে পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক উপস্থাপনশৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়।

বহুমাত্রিক ক্যারিয়ার

শুরুটা উপস্থাপনার মাধ্যমে হলেও সময়ের সাথে সাথে স্মিতা চৌধুরী নিজেকে বহুমাত্রিকভাবে গড়ে তুলেছেন। করপোরেট ইভেন্ট, লাইভ শো, ব্র্যান্ড প্রচারণা থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম- সবখানেই স্মিতা চৌধুরীর আত্মবিশ্বাসী বিচরণ লক্ষণীয়। তার পরিমিত স্মার্ট ভাষা জ্ঞান এবং সাবলীল বাচনভঙ্গি তাকে দেশীয় মিডিয়ায় একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

প্রতিযোগিতায় যারা আছেন

এবারের বিফা অ্যাওয়ার্ডে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে স্মিতা চৌধুরীর পাশাপাশি মনোনয়ন আরও পেয়েছেন আরএনআর, লিলিপুট ফারহান, সুনেহরা তাসনিম এবং চিত্ত মিডিয়া।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বাইফা চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত এবং ফ্যাশন অঙ্গনে সেরাদের পুরস্কৃত করে থাকে। এবারের আসরে অন্যান্য বিভাগে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, ইমরান মাহমুদুল এবং রুনা লায়লার মতো দেশবরেণ্য তারকারাও মনোনয়ন পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণার নাম স্মিতা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মিতা চৌধুরীর এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং সততার ফসল। তিনি যেভাবে নিয়মিত মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্ট উপহার দিচ্ছেন, তা দেশের ডিজিটাল মিডিয়া অঙ্গনে একটি সুস্থ ধারা তৈরি করতে সাহায্য করছে। তার এই অর্জন চট্টগ্রামের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি মিডিয়া অঙ্গনে কাজ করতে আগ্রহী উদীয়মান নতুন প্রজন্মের তরুন-তরুনী ও নির্মাতাদের জন্য এক বড় মাইলফলক।

বাইফা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেন চট্টগ্রামের মেয়ে স্মিতা চৌধুরী

দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ‘বাইফা অ্যাওয়ার্ড’-এ (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস) সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়ে, জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট নির্মাতা স্মিতা চৌধুরী। সম্প্রতি মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়া অঙ্গনে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ইতিমধ্যে এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য ভোটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সৃজনশীলতার এক যুগ

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে স্মিতা চৌধুরীর পদচারণা। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান তারকা শিল্পী তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অনন্য সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশসেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায়। দক্ষ উপস্থাপনা এবং মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি কেবল পরিচিতিই পাননি, অর্জন করেছেন কোটি দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল জনপ্রিয়তা

বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে স্মিতা চৌধুরীর অনুসারী সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। তবে কেবল সংখ্যা নয়, বরং তার কনটেন্টের গুণগত মানই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। ইতিবাচক বার্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং দর্শকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তার প্রতিটি কাজে পেশাদারিত্ব এবং আধুনিক উপস্থাপনশৈলীর প্রতিফলন দেখা যায়।

বহুমাত্রিক ক্যারিয়ার

শুরুটা উপস্থাপনার মাধ্যমে হলেও সময়ের সাথে সাথে স্মিতা চৌধুরী নিজেকে বহুমাত্রিকভাবে গড়ে তুলেছেন। করপোরেট ইভেন্ট, লাইভ শো, ব্র্যান্ড প্রচারণা থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম- সবখানেই স্মিতা চৌধুরীর আত্মবিশ্বাসী বিচরণ লক্ষণীয়। তার পরিমিত স্মার্ট ভাষা জ্ঞান এবং সাবলীল বাচনভঙ্গি তাকে দেশীয় মিডিয়ায় একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে।

প্রতিযোগিতায় যারা আছেন

এবারের বিফা অ্যাওয়ার্ডে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা বিভাগে স্মিতা চৌধুরীর পাশাপাশি মনোনয়ন আরও পেয়েছেন আরএনআর, লিলিপুট ফারহান, সুনেহরা তাসনিম এবং চিত্ত মিডিয়া।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বাইফা চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত এবং ফ্যাশন অঙ্গনে সেরাদের পুরস্কৃত করে থাকে। এবারের আসরে অন্যান্য বিভাগে শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, ইমরান মাহমুদুল এবং রুনা লায়লার মতো দেশবরেণ্য তারকারাও মনোনয়ন পেয়েছেন।

অনুপ্রেরণার নাম স্মিতা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্মিতা চৌধুরীর এই মনোনয়ন তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং সততার ফসল। তিনি যেভাবে নিয়মিত মানসম্মত ও ইতিবাচক কনটেন্ট উপহার দিচ্ছেন, তা দেশের ডিজিটাল মিডিয়া অঙ্গনে একটি সুস্থ ধারা তৈরি করতে সাহায্য করছে। তার এই অর্জন চট্টগ্রামের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি মিডিয়া অঙ্গনে কাজ করতে আগ্রহী উদীয়মান নতুন প্রজন্মের তরুন-তরুনী ও নির্মাতাদের জন্য এক বড় মাইলফলক।

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি প্লাস (এজেডইসি) সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এই ঋণ সহায়তা চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সংকট আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। কোনও দেশ এককভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা ব্যবস্থাপনা; জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়াও মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০ এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একা এমন সংকটে পড়েনি; তাই একক প্রচেষ্টায় এটি মোকাবিলা করা সম্ভব না। চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুরের পর সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নানা আয়োজনে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা নববর্ষ বরণ

‘দুরন্ত বৈশাখে, মাতি উৎসবে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণ করে নিলো সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আনন্দ কোলাহল আর উৎসবে মেতে উঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় আনন্দ শোভাযাত্রা, মেলা, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রতিযোগিতা।

সাউদার্ন বৈশাখী উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, রেজিস্ট্রার এ এফ এম মোদাচ্ছের আলী, বৈশাখী উৎসব আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জমির উদ্দিন, সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ চৌধুরী বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ,কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীরা।

এবারের মেলায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ১২টি স্টল অংশ নেয়।

স্টলগুলোতে স্থান পায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার ও পণ্যসামগ্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হরেক রকমের গ্রামীণ পিঠা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী।

সেরা তিনটি স্টল ও তিনটি বিভাগকে তাদের সুন্দর পরিবেশনার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। সেরা স্টলের পুরস্কার লাভ করে ফার্মেসি বিভাগ, দ্বিতীয় ইসলামিক স্টাডিজ ও তৃতীয় হয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে ইংরেজি বিভাগ, দ্বিতীয় ব্যবসায় প্রশাসন ও তৃতীয় স্থান লাভ করে ফার্মেসি বিভাগ।

নববর্ষ উপলক্ষে সকাল থেকেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে সাজ সাজ রব। দিনটা ছিলো অন্যান্য দিনের চেয়ে একেবারে ভিন্ন। রঙিন সাজে শিক্ষার্থীদের নাচ গানের ছন্দে ছন্দে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে বর্ণিল রঙে রঙিন। বাসন্তি রংয়ের বাহারি শাড়ি আর খোপা ছড়ানো বেলি ফুলের মালা আর পাজামা পাঞ্জাবি তরুণ তরুণীরা যেন চির চেনা বাঙালিত্বকে নিজের মধ্যে বরণ করে নেয়। সবার কন্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। সকলেরই কথা- আজ সব দুঃখ, সব গ্লানি, সব না পাওয়ার যন্ত্রণা মুছে যাক। আজ থেকে শুরু হোক নতুন দিনের, নতুন স্বপ্নের, নতুন বছরের।

সুখী সমৃদ্ধ আগামী এবং শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক জাতি- এ প্রত্যাশা নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

লিভারপুলকে আরেকবার হারিয়ে সেমিতে পিএসজি

লিভারপুলের সময়টা ভালো যাচ্ছে না । তবুও ম্যাচটি ঘরের মাঠে বলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অলৌকিক কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কোচ আর্নে স্লট। সেটি আর হলো কোথায়? আবারও পিছু তাড়া করল সেই বিবর্ণতা। এতে পিএসজির বিপক্ষে ঘরের মাঠেও হার দেখল অলরেডরা। বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে ২-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে চলে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে ৫১ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়েছে লিভারপুল। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মোটে ৫টি। অন্যদিকে, ৪৯ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১২টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রেখেছিল পিএসজি।

ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে লিভারপুল সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার ভেসে আসছিল। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে আর প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরাতে নিজেদের সবটুকুই করেছে লিভারপুল সমর্থকরা। তবে মাঠের খেলায় নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি ফুটবলাররা।

প্রথমার্ধে বল দখলে রেখে আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পিএসজি। যদিও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। লিভারপুলও ভুগেছে একই সমস্যায়। উল্টো তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে উগো একিটিকের চোট। স্ট্রেচারে করে তিনি মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন দলের প্রাণভোমরা মোহামেদ সালাহ।

মাঠে নেমেই সুযোগ তৈরি করেছিলেন সালাহ। তাঁর ক্রসে ভার্জিল ফন ডাইক গোলমুখে শট নিলেও পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনিয়োস অবিশ্বাস্য এক স্লাইডে দলকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

বিরতির পর আলেকসান্দার ইসাককে তুলে নিয়ে কোডি হাকপোকে নামান লিভারপুল কোচ। এই অর্ধে লিভারপুলের আক্রমণেও ধার বাড়ে। মোট ১৭টি শট নিলেও পিএসজির রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা

ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর দেখে পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন তিনি। ৬৮তম মিনিটে তরুণ তারকা রিও নুগোমাহোর একটি দুর্দান্ত শট রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনোভ।

লিভারপুল যখন গোলের জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই গোলেই লিভারপুলের ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায়।

এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে বার্কোলার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন দেম্বেলে।

বছরজুড়েই আলোচনায় থাকেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস

পর্দায় নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলেও বছরজুড়েই আলোচনায় থাকেন ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। বিভিন্ন শোরুমের ফিতা কাটা থেকে শুরু করে নানা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোশনে তাকে প্রায়ই দেখা যায়। এর বাইরে সামাজিক মাধ্যমে নিত্যনতুন লুকে ছবি পোস্ট করে ভক্তদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ান এই নায়িকা। তবে কাজের বাইরেও ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার ব্যক্তিগত জীবন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চড়াই-উতরাই পেরোনো এই তারকা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। সেখানে বিয়ের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ে কেন টার্নিং পয়েন্ট হবে? ওটা আসলে ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। খুব অল্প বয়সে আবেগতাড়িত হয়ে বিয়ে করাটা আমার জীবনের ভুল ছিল। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই ম্যাচিউরিটি না আসা পর্যন্ত কোনো মেয়েরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।’

ভবিষ্যতে নতুন করে ঘর বাঁধার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে রহস্য জিইয়ে রেখে অপু বলেন, ‘এই মুহূর্তেই এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মতো অবস্থায় নেই।’ এর বাইরে বর্তমান সময়ের ট্রল ও সমালোচনা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। অপু বিশ্বাস জানান, এসব নেতিবাচক বিষয় নিয়ে তিনি মোটেও বিচলিত নন। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব তিনি এড়িয়ে চলেন এবং মাঝে মাঝে বেশ উপভোগও করেন।

বলে রাখা ভালো, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল মেগাস্টার শাকিব খানকে বিয়ে করেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি অনুষ্ঠানে এসে বিয়ের কথা প্রকাশ করেন নায়িকা। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ এই দম্পতির আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের রয়েছে এক ছেলে সন্তান।

এর বাইরে সাক্ষাৎকারে শুটিং ফ্লোরের গল্পও উঠে আসে। আগের অপু বিশ্বাসই ভালো ছিলো- এমনটা জানিয়ে নায়িকা বলেন, ‘প্রিভিয়াসে একটু বেশি বাচ্চা ছিলাম। ক্যামেরার সামনে কী বলে ফেলতাম, কী করে ফেলতাম… কারণ ইমোশনের জন্য ক্যামেরা না। ক্যামেরা হচ্ছে পাবলিক ফেস করতে হয়।’

উল্লেখ্য, গেলো ঈদুল ফিতরে তার অভিনীত ‘দুর্বার’ সিনেমাটি মুক্তির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। তবে আসছে কোরবানির ঈদে তার নতুন সিনেমা ‘সিক্রেট’ মুক্তি পেতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এই সিনেমাটি নিয়ে এখনই কোনো স্পষ্ট কথা বলতে পারেননি ঢালিউড কুইন

ভারতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিস্ফোরণ, নিহত ১১

ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ের সিক সাক্তি জেলায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ওই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১১ জন কর্মচারী এবং আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাক্তি জেলার সিংঘিতারাই অঞ্চলে অবস্থিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটির মালিক বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হয় ২০২৫ সাল থেকে।

সাক্তি জেলা পুলিশ ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজ শুরু করে।

জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর মঙ্গলবার রাতে বলেন, চার জন কর্মচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন, আর বাকি সাত জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। আহত ২২ জন কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কারাখানাটির বয়লার ইউনিট তারা সরাসরি পরিচালনা করতে না। এনটিপিসি জিই পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড (এনজিএসএল) নামে অপর একটি কোম্পনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বয়লার ইউনিট পরিচালনা ও রক্ষাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল।

তবে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ হলো নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এই বিস্ফোরণকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত হবে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

সারা দেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ

আজ থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা । প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বঘোষিত সময়সূচি বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় প্রথম দিনের ‘বাংলা’ বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এই মেধা যাচাই কার্যক্রম শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

এর আগে, গত ৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় পরীক্ষার এই সূচি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য আড়াই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। আজকের পর আগামীকাল ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে দেশের তিন পার্বত্য জেলা- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এই জেলাগুলোতে পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত বিষয়ের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে এবারের বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এবারও পরীক্ষা পদ্ধতিতে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধরনের পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বেশি পাবে। পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রাখতে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বৃত্তি পরীক্ষা চালুর এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং মনোযোগী করে তুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা।