বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশি ‘অ্যাকশনে’ ছত্রভঙ্গ আন্দোলনকারীরা। যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক *

- Advertisement -

- Advertisement -shukee

কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনে চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রিজ এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শেষমেশ পুলিশি ‘অ্যাকশনে’ টিকতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করে পুরো এলাকা পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা বাজে নতুন ব্রিজে অবস্থান নেয়ার কথা থাকলেও তারা আসেন সাড়ে ১০টার দিকে। একে একে নতুন ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হলেও সেখানে আগে থেকেই অবস্থান ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এরই মধ্যে ছাত্ররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। পরে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে রাহাত্তারপুলের দিকে নিয়ে যায় পুলিশ।

আধঘণ্টা পরেই আনোয়ারা প্রান্ত থেকে দলে দলে শিক্ষার্থীরা আসতে থাকেন নতুন ব্রিজের দিকে। এ সময় তাদের সাথেও সংঘর্ষ বাধে পুলিশের। পুলিশি অ্যাকশনে টিকতে না পেরে একপর্যায়ে তারাও ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন নাজমুল হাসান (২৫)। তিনি সরকারি সিটি কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। এছাড়া সংঘর্ষে শিক্ষার্থী-পুলিশসহ আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

ঘটনাস্থলে থাকা নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারা (শিক্ষার্থী) রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছি। পুলিশের ওপর তারা পাল্টা আক্রমণ করেছে। তাদের যে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, এটা কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর হতে পারে না। আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং জনগণ দেখেছে এখানে তারা অসৎ উদ্দেশ্যে ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করার জন্য এবং নাশকতা সৃষ্টির জন্য সমবেত হয়েছিলো। বেশ কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এখনো অভিযান চলমান আছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপ-কমিশনার বলেন, ‘যান চলাচল সারাদিন স্বাভাবিক থাকবে। বেআইনি কোনো কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করবো না। আমরা অবশ্যই যৌক্তিক আন্দোলনে সহমর্মিতা জানাই। তবে সেই সুযোগে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, হামলা করে, আগুন দিয়ে যারা জনজীবনে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও