Sunday, 11 October 2026

[the_ad id='15178']

 ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামানোর আশা ডিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

- Advertisement -

শনিবার (১০ অক্টোবর ) হাটহাজারীর ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এ আশার কথা জানান। এর আগে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক।

- Advertisement -shukee

হাটহাজারীতে সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ ছিটান তিনি। এ সময় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডও প্রয়োগ করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবরে তা অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে।

এর আগে কর্ণফুলীর কর্মসূচিতে তিনি জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল। সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে। একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।

পরে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়। ওই কর্মসূচিতে সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযানের জন্য ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সংগ্রহ করা হয়। ৩ অক্টোবর কর্ণফুলীতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও