সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

এনসিটি ও সিসিটি ইজারার উদ্যোগ বন্ধের দাবি বন্দর রক্ষা কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের প্রাণকেন্দ্র  নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

- Advertisement -

রবিবার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখারও দাবি জানানো হয়েছে।

- Advertisement -shukee

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১ জুলাই সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়র উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।

লিখিত বক্তব্যে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

তাই বন্দরের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নেগোসিয়েশন কমিটিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করেছে।

বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত জাতীয় সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় টার্মিনাল দুটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এনসিটির বার্ষিক সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউস হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। এছাড়া চলতি বছরের মে মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ডও স্থাপিত হয়েছে। এসব অর্জন দেশীয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার প্রমাণ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চূড়ান্ত চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বেড়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেয়া হলে বন্দরের আয়ের একটি বড় অংশ মুনাফা হিসেবে বিদেশে চলে যাবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার নিকটবর্তী হওয়ায় এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তাঁরা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, পানগাঁও টার্মিনাল ও লালদিয়া চর-সংক্রান্ত সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানান এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো গোপন চুক্তি না করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি ও সিসিটি কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সব উদ্যোগ বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় সব টার্মিনাল পরিচালনা, বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি প্রকাশ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী গোপন সমঝোতা বন্ধ এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা, জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও