শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

ইপসার রেইজ প্রকল্পের জব ফেয়ার: কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডস্থ এশিয়ান এসআর হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

- Advertisement -

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ জব ফেয়ারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবক-যুবতী এবং বিভিন্ন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

- Advertisement -shukee

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু। প্রকল্পের ওপর মূল উপস্থাপনা করেন রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়ক মোস্তাক আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার সহকারী পরিচালক কাজী ফারহানা ইদ্রিস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন, দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ খাতের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে রেইজ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণও কর্মজীবনে সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সঠিক প্রশিক্ষণ ও দৃঢ় মনোবল থাকলে সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। একইসঙ্গে চাকরি পাওয়ার পাশাপাশি কর্মপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দীর্ঘমেয়াদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সক্ষমতা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি আতিয়া চৌধুরী বলেন, দক্ষতা অর্জনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও বাস্তব কর্মঅভিজ্ঞতা তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক, টেইলারিং, শোকেস মেকিং ও বিউটিফিকেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে, যার মাধ্যমে অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই যুবশক্তিই দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে। তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রেইজ প্রকল্প তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

স্বাগত বক্তব্যে নাছিম বানু বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের অসংখ্য অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইপসা রেইজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ১,৩০৮ জনকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬৬ জন ছয় মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। প্রশিক্ষণে সফল অংশগ্রহণকারীদের নিয়েই এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল প্রশিক্ষণ প্রদান নয়; বরং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

প্রকল্প সমন্বয়ক মোস্তাক আহমেদ তাঁর উপস্থাপনায় জানান, পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত রেইজ প্রকল্পটি কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অনানুষ্ঠানিক খাতের যুবদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন (বিএমইডি), অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস কন্টিনিউটি (আরএমবিসি) এবং পূর্ববর্তী শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (আরপিএল) কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যাল, রেফ্রিজারেশন, অটোমোবাইল ও টেইলারিংসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

জব ফেয়ারে প্রায় ১৫০ জন অ্যাপ্রেন্টিস এবং ১০-১২টি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল ইন্টান রিফাইনারি, প্যাসিফিক জিন্স, জিএইচ হাওয়াই কো. লিমিটেড, বিডিজবস, বেঞ্চমার্ক, স্বপ্নীল বিউটি কেয়ার, রমা ফ্যাশন হাউস, গোপা রেফ্রিজারেশন, পতেঙ্গা রেফ্রিজারেশন এবং বাঁধন মেকওভার।

ফেয়ার চলাকালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবরা সরাসরি চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি আয়োজকদের  পক্ষ থেকে সিভি প্রস্তুতকরণ এবং চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের দক্ষতা বিষয়ক একটি ওরিয়েন্টেশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রেইজ প্রকল্প বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের যুবশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বাস্তবধর্মী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা বিকাশের মাধ্যমে এ প্রকল্প যুবসমাজের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও