শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

আসন্ন জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, চট্টগ্রাম  নগরের উদ্যোগে শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ অনুষ্ঠিত হয়।

- Advertisement -

‎‎‎  আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত  সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি রিপা মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং নগরের সাধারণ সম্পাদক নেভী দে এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক দীপা মজুমদার, সদস্য মোহাম্মদ  আবদুল্লাহ নেওয়াজ।

- Advertisement -shukee

‎বক্তারা বলেন, ‎‎স্বাধীনতার পর থেকে যতগুলো সরকার ক্ষমতায় এসেছ,  প্রত্যেকেই কম বা বেশি মাত্রায় শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারীকরণের দিকে নিয়ে গিয়েছে।  বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর চরম পরিণতি আমরা দেখেছি। একদিকে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাটের সংস্কৃতি চালু ছিল, টাকা পাচার হয়েছে। অন্যদিকে অর্থের স্বল্পতার দোহাই দিয়ে জাতির মেরুদণ্ড তথা শিক্ষা খাতকে পরিকল্পিতভাবে দেউলিয়া করা হয়েছে। দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলে শিক্ষা বাজেট কখনো জিডিপির ২ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেনি, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি এদেশের ছাত্র সমাজের বিপুল প্রত্যাশা ছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারও কার্যত আওয়ামী লীগের দেখানো সেই একই পথে হেঁটেছে। ‎গত তিনটি অর্থবছরের শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,বরাদ্দের অংকে সামান্য বৃদ্ধি ঘটলেও জিডিপির অনুপাতে তা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের চরম উদাসীনতা ও শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া আর কিছুই নয়। বাজেটের আকার বাড়লেও জাতীয় আয়ের তুলনায় শিক্ষার বরাদ্দ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী একটি উন্নয়নশীল দেশের বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক। এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালেও দেখা যায়, ভিয়েতনাম তার বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ, মালয়েশিয়া ১৯ শতাংশের উপরে এবং এমনকি নেপালও বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। স্পষ্টতই, বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকেছে।

‎বক্তারা বলেন, ‎শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল সনদ প্রদানের কারখানায় রূপ নিয়েছে। গবেষণায় নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না।প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা ক্রমান্বয়ে বেসরকারী করণ হচ্ছে। স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষার উপকরণ নেই।

‎বক্তারা আরো বলেন,‎বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এক বিশেষ সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রত্যাশার অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনে সরকার ভূমিকা রাখবে এটা প্রত্যাশা। এছাড়া শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও অংশ। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আপনারা বিগত সরকারগুলোর মতো শিক্ষার খাতকে অবহেলার চোখে দেখবেন না। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আপনাদের গণতান্ত্রিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বক্তাগণ শিক্ষার বেসরকারিকরণ ও বানিজ্যিকীকরণ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও