সীতাকুণ্ড উপজেলায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃষির আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি মাঠে পৌঁছে দিতে “কৃষি ভলান্টিয়ার” সংগ্রহ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
সোমবার (৮জুন) উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহর পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্র, ব্যবসায়ী, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকসহ ৩২ জন কৃষি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ইউনিয়নভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়া হবে। অনুষ্ঠানে এ উদ্ভাবনী উদ্যোগের উদ্যোক্তা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ কৃষিতে ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ভলান্টিয়াররা হবেন কৃষি অফিস ও কৃষকের সেতু। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষির নতুন নতুন তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন। এতে উৎপাদন বাড়বে, খরচ কমবে।” উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. কল্লোল বড়ুয়া বলেন, খামার ব্যবস্থাপনা, গবাদিপশুর চিকিৎসা, ভেক্সিনেশন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে ভলান্টিয়াররা খামারিদের সহায়তা করবেন। উপজেলা মৎস্য অফিসার মোতাছিম বিল্লাহ জানান, পুকুরে মাছ চাষ, রোগ নির্ণয় ও উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণেও তারা কাজ করবেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অফিস সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহআলম।
অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ারদের কর্মপরিকল্পনা, সাপ্তাহিক রিপোর্টিং ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে মাঠের তথ্য অফিসে পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত কৃষক ও ভলান্টিয়ারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা সরকারি দপ্তরের সাথে একত্রে কাজ করে সীতাকুণ্ডের কৃষিকে দেশের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কৃষকরা জানান, মাঠে তাৎক্ষণিক পরামর্শ পেলে ফসলের ক্ষতি কমবে এবং লাভ বাড়বে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বাছাই শেষে কৃষি ভলান্টিয়ারদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

