বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

[the_ad id='15178']

রাজনীতিতে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা সময়ের দাবি

ড. মনওয়ার সাগর

রাজনীতিতে ভিন্ন মতাদর্শ থাকবে,এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। মতের পার্থক্য থাকবেই, বিতর্ক থাকবে, যুক্তি থাকবে। কিন্তু সেই মতাদর্শের ভেতরেও একটি মৌলিক বিষয় কখনো হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়,ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বোঝার সাহস।

- Advertisement -

আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, সত্যকে সত্য বলা এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলা একজন সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে না পারলে রাজনীতি আর আদর্শের জায়গায় থাকে না,সেটি তখন অন্ধ সমর্থনে পরিণত হয়। নিজের সমর্থিত দলের অন্যায়কে ন্যায় বলে গলা ফাটানো কোনো রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতার পরিচয় নয়; বরং এটি রাজনীতির সংস্কৃতিকে দুর্বল করে।

- Advertisement -shukee

তাই আজ সময় এসেছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর। নেতার নেতৃত্ব মানা যেতে পারে, কিন্তু নেতাকে পূজা করা, তৈল মর্দন করা কিংবা তাঁর অন্যায়কে নীরবে মেনে নেয়া, এসব সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ সুস্থ রাজনীতি কখনো অন্ধ আনুগত্যের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না; এটি দাঁড়িয়ে থাকে নীতি, সততা এবং জবাবদিহিতার উপর।

রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শুদ্ধ ও পরিশীলিত হতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি, কারণ শেষ পর্যন্ত তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্ব যদি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনাও স্বচ্ছতার পথে এগোবে।

এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন,সেটি হচ্ছে ‘ন্যায়পাল’। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭৭ নম্বর অনুচ্ছেদে (Article 77) ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির বিধান রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইনের মাধ্যমে এমন একটি পদ সৃষ্টি করতে পারে, যিনি সরকারি মন্ত্রণালয়, কর্মকর্তা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করবেন এবং প্রশাসনিক অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পদটি সংবিধানে থাকলেও এখনো কার্যকর করা হয়নি। অথচ একটি কার্যকর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান হলে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রশাসনিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারতেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ পেতেন।

এর পরে আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো জনগণের সচেতনতা।

কারণ গণতন্ত্র শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। জনগণ যদি অন্যায়কে অন্যায় বলতে শেখে, যদি দলীয় অন্ধত্বের বাইরে এসে সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়,তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতিও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার রাজনীতি নীতিনিষ্ঠ হয়, নেতৃত্ব জবাবদিহিমূলক হয় এবং জনগণ সচেতন থাকে।

তাই আজ সময় এসেছে,

ন্যায়কে ন্যায় বলার,

অন্যায়কে অন্যায় বলার,

আর একটি শুদ্ধ, জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার।

সুশাসনের পথে এগোতে হলে ন্যায়পাল ব্যবস্থাকে দ্রুত কার্যকর করা এবং রাজনীতিকে নৈতিকতার ভিত্তিতে দাঁড় করানো,এই দুটিই এখন সময়ের দাবি।

আজ অত্যন্ত দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে এ্যারেস্ট করা হয়,অথচ এই ভাষণটিই ছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র।

যে ওসি তাকে এ্যারেস্ট করেছে তার লজ্জা হওয়া উচিত।তিনি কি বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস জানেন না? বিএনপিতে কি একজন বিবেকবান এমপি- মন্ত্রী নেই যে,যিনি সাহস করে বলা উচিত এটা অন্যায়? এ কথা ১০০% নিশ্চিত যে, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের উপর ভর করেই বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসিন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা মনে করেছিল তারা বিএনপি’র পাশে না দাঁড়ালে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে। বিএনপি যদি রাজনৈতিক সমীকরণে ভুল করেন তাহলে ভবিষ্যতে আফসোস করতে হবে।

এদেশে এমনও লক্ষ লক্ষ লোক আছে যারা প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতি করেনা,আওয়ামী লীগ করেনা কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে আপোষহীন। সঠিক ইতিহাসের ক্ষেত্রে আপোষহীন।

লেখক পরিচিতি: কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও