রবিবার, ৩ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত জঙ্গল সলিমপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশের সন্ত্রাসীদের  অভয়ারণ্য খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুরে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছিন্নমূল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডিএডি পদমর্যাদায় মোতালেব নামে এক  র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া দুর্বৃত্তের হাতে জিম্মি রয়েছেন র‍্যাবের অন্তত ৩ সদস্য।

- Advertisement -

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

- Advertisement -shukee

র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) সিরাজুল ইসলাম।

নিহত র‌্যাব কর্মকর্তা

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে গত চার দশক ধরে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী। এলাকাটিকে বর্তমানে একটি ‘নিষিদ্ধ নগরী’তে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিচয়পত্র। বহিরাগত তো বটেই, এমনকি পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকারও সেখানে নিয়ন্ত্রিত। একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে।

এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে দুটি শক্তিশালী পক্ষ। ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’র নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’ নিয়ন্ত্রণে রাখছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। বর্তমানে এই দুই সমিতিতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

প্রশাসনের ওপর হামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের ওপর নারকীয় হামলা চালানো হয়। এতে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক এবং সীতাকুণ্ড থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সন্ত্রাসীরা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও গুলি চালাতে হয়।

এর আগে ২০২২ সালেও একাধিকবার র‍্যাব ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও, তাদের প্রস্থানের পরপরই পুনরায় শুরু হয় প্রকৃতির বুক চিরে মাটি কাটার উৎসব। মূলত প্রবেশমুখে থাকা অতন্দ্র পাহারাদারদের মাধ্যমে সংকেত পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আগেভাগেই পাহাড়ের ওপর অবস্থান নেয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়- যা উচ্ছেদ অভিযানকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও