ঢাকা প্রতিনিধি *

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শুরু হয় শপথগ্রহণ পর্ব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং পরে গোপনার শপথ নেন ফারুক-ই-আজম। শপথ গ্রহণ শেষে শপথ বইয়ে সই করেন নতুন উপদেষ্টা।
এর আগে গত ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৪ উপদেষ্টা শপথ নেন। এরপর রোববার (১১ আগস্ট) আরও দুই উপদেষ্টা শপথ নেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৭ উপদেষ্টার মধ্যে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে গত ৮ আগস্ট শপথ নিতে পারেননি। তিনি রবিবার (১১ আগস্ট) রাতে দেশে পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়।
ফারুক–ই–আজম জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ গ্রামের গুল মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়িতে । নিম্নবিত্ত এক কৃষক পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন তিনি। ফারুক–ই–আজম ১৯৬৬ সালে হাটহাজারীর কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চরম দারিদ্র্যের কারণে ভাগ্য উন্নতির আশায় তিনি ১৯৬৭ সালের আগস্ট মাসে মাত্র ৫০ টাকা নিয়ে খুলনায় চলে যান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকালে তিনি খুলনা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছান। ৬ মে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। এই অবস্থায় তিনি একদিন শুনলেন, নৌবাহিনীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুট করা হবে। তিনি লাইনে দাঁড়ালেন এবং নির্বাচিত হন। পলাশিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ১ আগস্ট অপারেশনের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান অপারেশন জ্যাকপট। সারা দেশে একই সময়ে সব বন্দরে একযোগে আক্রমণ চালানো হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে আক্রমণের জন্য ২০ সদস্যের তিনটি দল নির্বাচন করা হয়। একটি দল চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাতে পারেনি। বাকি দুটি দলের ৩৭ জন সদস্য অংশ নেন। অধিনায়ক ছিলেন এ ডব্লিউ চৌধুরী ও উপ-অধিনায়ক ছিলেন ফারুক-ই-আজম।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দক্ষতা ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি নৌবাহিনীতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
ফারুক–ই–আজম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম বিজয় মেলার অন্যতম সংগঠক এবং পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

