নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, জবাবদিহি ও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ লক্ষ্যে সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিদর্শনে আসা জাইকা গভর্ন্যান্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মেয়র এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আমি দায়িত্বগ্রহণের পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাংগঠনিক দক্ষতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন সূচকে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সেরা হওয়ার স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ অর্জন চসিকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। তবে এই অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে চসিককে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
“সিটি কর্পোরেশনকে শুধু একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে হবে না; নগরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নগরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক সংস্থা কাজ করে। এসব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নাগরিকদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হলে নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সেবা প্রদান ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়বে এবং নাগরিকদের কাছে সেবার জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।”
মতবিনিময়কালে জাইকা গভর্ন্যান্স টিমের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকার স্থানীয় সরকারবিষয়ক উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা (Mr. Akira Munakata), জাইকার নগর সুশাসন বিশেষজ্ঞ মো. হেলাল উদ্দিন (Md. Helal Uddin) এবং জাইগোর কর্মসূচি সমন্বয়ক কাশফিয়া তাবাসসুম (Kashfia Tabassum)।
পরিদর্শনকালে জাইকা গভর্ন্যান্স টিম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চলমান সি-ফোর-সি-টু (C4C2) কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং তৃতীয় সিটি গভর্ন্যান্স অ্যাসেসমেন্টের (CGA) প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়। এ সময় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা প্রদান ব্যবস্থাও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সিটি লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (CLCC) নিয়মিত সভা আয়োজন, সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া বার্ষিক প্রশাসনিক প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রস্তুত ও উপস্থাপন, তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিবেদন প্রণয়নের মান উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
নির্ধারিত বিএসিএস (BACS) ভিত্তিক ফরম্যাট অনুসরণ করে বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তৃতীয় সিটি গভর্ন্যান্স অ্যাসেসমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোর অগ্রগতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হয়।
এ সময় জাইকা গভর্ন্যান্স টিম সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন করে বর্জ্য সংগ্রহ, স্থানান্তর ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে চসিকের আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে জোনাল পর্যায়ে নাগরিক সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শনের মাধ্যমে সি-ফোর-সি-টু কার্যক্রমের আওতায় গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, নিয়মিত চর্চা ও টেকসই বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবা প্রদানের কার্যকারিতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
মেয়র বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত মূল্যায়ন, কার্যকর পরিবীক্ষণ এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চসিকের চলমান উদ্যোগগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে।

