প্রান্তিক যুবদের নাগরিক নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে “জাগরণ” প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা আজ বৃহস্পতিবার ইপসা মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র সীতাকুণ্ড ক্যাম্পাসে মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম মফিজুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) এর আওতায় সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের উন্নয়ন সহায়তায় ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইউথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) এবং অগ্রগতি সংস্থা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সহকারী পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মো. আব্দুল হান্নান আলম এবং আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বিওয়াইএলসি চট্টগ্রাম আলী আশরাফ। ইপসার পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান এর সভাপতিত্বে ও প্রকল্পের মূল উপস্থাপনা পরিবেশন করেন জাগরণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ আচার্য্য এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মোরশেদ হোসেন মোল্লা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম ,সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফন নেছা বেগম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব; সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই উপজেলার ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
“জাগরণ” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিক সচেতনতা, নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রান্তিক যুবদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক স্থানীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা তৈরি করা।

প্রকল্পের প্রধান মোহছিনা মিনা বলেন,প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়ন এবং মীরসরাই উপজেলার দুটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত।
জাগরনের পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৪,৩৮৫ জন সরাসরি এবং ১০,১৫০ জন পরোক্ষ সুবিধাভোগীকে সম্পৃক্ত করা হবে, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যুব। মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৩০টি যুব দল গঠন, নেতৃত্ব ও নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ, পিয়ার-লেড সেশন, ইউনিয়ন উন্নয়ন সমন্বয় কমিটিতে (ইউডিসিসি) যুবদের অংশগ্রহণ, আন্তঃপ্রজন্মীয় সংলাপ, কমিউনিটি রেডিও ও টক শো এবং অনলাইন ক্যাম্পেইন। প্রকল্পটি এসডিজি ৪, ৭, ১৬ ও ১৭-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সভায় জাগরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ আচার্য্য বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় শাসন ও নীতিনির্ধারণে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো অপ্রতুল। অংশগ্রহণকারীরা কিশোরদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে সুরক্ষায় এই বয়সী তরুণদেরও প্রকল্পের আওতায় আনার সুপারিশ করেন।
প্রধান অতিথি ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী প্রকল্প- যা যুবদের নাগরিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করবে এবং সরকারের বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সমাপনী বক্তব্যে সেমিনারের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জাগরণ প্রকল্পটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে- যা বাংলাদেশ সরকারের যুব নীতি-২০১৭-এর কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

