চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়া চার পর্যটককে লাইফবোটের সহায়তায় উদ্ধার করেছেন দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। গত সোমবার (১ জুন) এ ঘটনার একটি ভিডিও বুধবার (৩ জুন) যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল সাগরে ভেসে যাওয়া চারজনকে লাইফবোটে করে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ মে বিকেলে একই সৈকতে গোসল করতে নেমে ভেসে যান মুহাম্মদ রিফাত হোসেন (১৮) নামে এক তরুণ। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উপকূলীয় এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
ভাইরাল এ ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই পর্যটকদের সতর্কবার্তা অমান্য করাকে দায়ী করেছেন।
আবার কেউ কেউ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি না থাকাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্য নুরুল আমিন জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জোয়ার শুরু হলে অনেক পর্যটক সাগরে নামেন। একপর্যায়ে চারজন পর্যটক নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যান। বড় ঢেউ ও স্রোতের কারণে তাঁরা তীরে ফিরতে পারছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ও তাঁর সহকর্মী সফর আলী সৈকতে থাকা একটি লাইফবোটের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত পর্যটকদের সতর্ক করি। কিন্তু অনেকেই নির্দেশনা মানতে চান না। পরে বাঁশি বাজিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে তাঁদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনতে হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, চার পর্যটক ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে লাল পতাকা ও সতর্কবার্তাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

