ইতিহাসের প্রতিটি সময়েই কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা নিজেদের জীবনকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখেন না; বরং নিজেদের স্বপ্ন, শ্রম ও প্রজ্ঞা দিয়ে অন্যের জীবনেও আলোর দিশা দেখান। তাঁরা পথিক নন, পথপ্রদর্শক; তাঁরা অনুসারী নন, বরং নতুন পথের নির্মাতা। ড. মো. আরিফুর রহমান তেমনই একজন মানুষ একজন স্বপ্নের কারিগর, একজন মানবিক নেতা, একজন সমাজ রূপান্তরের নিরলস সৈনিক।
স্বপ্ন দেখা সহজ কিন্তু সেই স্বপ্নকে হাজারো মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত করা সহজ নয়। চার দশকেরও বেশি সময় আগে যে স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছিল সীতাকুণ্ডের মাটিতে, আজ তা “ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)” নামের বিশাল এক মহীরুহে রূপ নিয়েছে। এই মহীরুহের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রাম, সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান, আশা এবং উন্নয়নের গল্প। আর এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একজন দূরদর্শী স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মো. আরিফুর রহমান।

তাঁর নেতৃত্ব কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর নেতৃত্বের মূল শক্তি মানবিকতা। তিনি জানেন কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে একজন কর্মীকে সহযোদ্ধায় রূপান্তর করতে হয়, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে কেবল কাঠামোগত সাফল্যের নয়, মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছেও তিনি রয়ে গেছেন অসাধারণভাবে বিনয়ী। জ্ঞানের গভীরতা তাঁকে অহংকারী করেনি; বরং করেছে আরও উদার, আরও মানবিক, আরও প্রজ্ঞাবান।
ড. আরিফুর রহমান বিশ্বাস করেন, উন্নয়ন মানে কেবল অবকাঠামো নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়া। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ সহনশীলতা, মানবাধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পদচিহ্ন সুস্পষ্ট। তাঁর চিন্তা স্থানীয় বাস্তবতায় প্রোথিত হলেও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বজনীন। এ কারণেই তাঁর কাজ দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত ও স্বীকৃত হয়েছে।
একজন নেতার প্রকৃত সাফল্য তাঁর অর্জিত সম্মাননায় নয়, বরং তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত মানুষের সংখ্যায়। সেই বিবেচনায় ড. আরিফুর রহমান নিঃসন্দেহে সফল। কারণ তিনি শুধু প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেননি; তিনি নির্মাণ করেছেন স্বপ্ন দেখতে শেখা এক প্রজন্ম, তৈরি করেছেন দায়িত্বশীল মানবসম্পদ, জাগিয়ে তুলেছেন সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যয়।
আজ তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি তাঁর কর্মময় জীবন, তাঁর অবিচল সংগ্রাম এবং তাঁর আলোকিত নেতৃত্বকে।
মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা তিনি যেন ড. মো. আরিফুর রহমানকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, মানসিক প্রশান্তি ও অশেষ বরকত দান করেন। মানবকল্যাণে তাঁর পথচলা হোক আরও বিস্তৃত, আরও সমৃদ্ধ। তাঁর প্রতিটি মহৎ উদ্যোগ মানুষের কল্যাণে আরও বহুগুণ ফলপ্রসূ হোক।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় আরিফ ভাই।
আপনি দীর্ঘজীবী হোন, সুস্থ থাকুন, আলোকিত করুন আরও অসংখ্য জীবন। আপনার স্বপ্নের আলোয় উজ্জ্বল হোক আগামী দিনের বাংলাদেশ।

