মানুষের চিরচেনা উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়েছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি আর নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই ট্রেনের ছাদে চড়ে বসছেন শত শত যাত্রী। পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে ঘরমুখো মানুষদের নিয়মনীতি বা প্রশাসনের কড়াকড়ি কোনো কিছুই যেন থামাতে পারছে না এই বিপজ্জনক এমন যাত্রাকে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে ঈদযাত্রার এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়।

সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। যাত্রীদের চাপে প্ল্যাটফর্মে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
ট্রেন স্টেশনে আসামাত্রই ওঠার জন্য টিকিটধারী ও টিকিটবিহীন সাধারণ মানুষের হুড়োহুড়ি এবং প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতে দেখা যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দৃশ্য দেখা গেছে ট্রেনের বগির সংযোগস্থল এবং ছাদে ওঠার ক্ষেত্রে।
ট্রেনের ভেতরের গাদাগাদি এড়াতে কিংবা টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী প্ল্যাটফর্মের লোহার স্ট্রাকচার ও ট্রেনের বগির পাইপ বেয়ে অনায়াসে ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ছেন। ছোট বড় বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ সাথে থাকা ব্যাগ নিয়েই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেনের ছাদে এবং ইঞ্জিনের পাশে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
স্টেশনে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মী ও রেলওয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাধা উপেক্ষা করেই যাত্রীরা হুড়মুড় করে ছাদে উঠছেন। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
কমলাপুর স্টেশনের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা অভিমুখী সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর ছাদে তিল ধারণের জায়গা নেই। ট্রেনের ছাদ যেন আরেকটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বগির ছাদ বেয়ে ওঠার সময় অনেকেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও সেদিকে কারও যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে বাড়ি ফেরা এক যাত্রী বলেন, ভেতরে প্রচণ্ড ভিড়, নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো অবস্থা নেই। পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে বাড়ি যেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়েই ছাদে উঠছি।
এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে ছাদ থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও যাত্রীদের মাঝে তার কোনো প্রভাব ফেলছে না।
প্রতি বছরই ঈদের সময় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলেও, সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব এবং এক প্রকার নিরুপায় হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন কেউ ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে না পারে। কিন্তু ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ এবং বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতার কারণে অনেক সময় শত চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষ নিজে সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে এই বিপজ্জনক যাত্রা বন্ধ করা কঠিন।
এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার কবির হোসেন জানিয়েছিলেন, এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে সেই নিরাপত্তার কড়াকড়িকে তোয়াক্কা না করেই যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে দেখা যাচ্ছে।

