চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ক্যাম্পে গুলি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গেল রবিবার রাত দুইটার দিকে এই হামলা চালানো হয়। র্যাব বলছে, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়েছে তারা।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খুদেবার্তা পাঠিয়ে এসব তথ্য জানান। সেখানে বর্তমানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

রাতে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগরে যাওয়ার যে সড়ক রয়েছে সেটি কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রাতে আলী নগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নবনির্মিত ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সকাল থেকে যৌথবাহিনীর হাজার খানেক সদস্য অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযানে সন্দেহভাজন অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থিত তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করে সন্ত্রাসীরা। বিপরীতে তারাও পাল্টা গুলি চালায়। রাত ৩টা পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। পুরো জঙ্গল সলিমপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাতে আলীনগরে নির্মাণাধীন র্যাবের একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে আলীনগরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সড়ক কেটে দেয়া হয়।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যারা হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে একটি সড়ক পাহাড়ের ভেতরে ঢুকে গেছে। সে পথেই সলিমপুর শুরু। এলাকাটি জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর অংশে বিভক্ত। এখানে তিন হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্টো অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এবার অভিযানের পর গা ঢাকা দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে র্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকি বসানো হয়েছে।
৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন; মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক, গোলাম গফুরসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী পলাতক। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের দখলে। আলীনগর এলাকা দখলে ছিল ইয়াসিন বাহিনীর।
চট্টগ্রাম র্যাবের কমান্ডার হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ আমাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা অভিযান শুরু করছি। সেখানে কোনো সন্ত্রাসী পক্ষকে ছাড় দেব না।

