১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

রেমিট্যান্স ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে । বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে এসে সে ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল। এতে টানা আট মাস পর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরল রেমিট্যান্স।

গত ডিসেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬২ কোটি ৯০ লাখ (১.৬২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এটি নভেম্বর মাসের তুলনায় ৭ কোটি ডলার বেশি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভাটা গেছে। এই মহামারির মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছিলেন। এতে প্রথম দিকে প্রতি মাসেই বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। তবে গত এপ্রিল মাসের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স কমতে থাকে। গত ডিসেম্বরে এসে তার অবসান হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা ১৬২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ধরে)। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ কোটি ডলার কম। গত বছরের ডিসেম্বর ২০৫ কোটি ০৬ লাখ  ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

এদিকে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে ২ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। ২০২০ সালের পুরো সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৭৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত এক বছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

অবশ্য গত ছয় মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের ছয় মাসের তুলনায় নেতিবাচক। গত ছয় মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ২৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। আগের বছরের শেষ ছয় মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এ সময়ে ২৭০ কোটি ডলার কম রেমিট্যান্স এসেছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, গত বছরে ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা পেয়ে আসছেন। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ে রেমিট্যান্স। পরে অবশ্য কমতে শুরু করে। এদিকে গতকাল রেমিট্যান্সে প্রণোদনা হিসেবে আরো দশমিক ৫ শতাংশ যুক্ত হবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে এখন থেকে আড়াই শতাংশ বা ১০০ টাকায় আড়াই টাকা প্রণোদনা পাবেন সুবিধাভোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় কমে আগস্টের তুলনায় ৯ কোটি ডলার। গত আগস্ট মাসে প্রবাসী আয় ছিল ১৮১ কোটি ডলার, যা জুলাই মাসের চেয়ে ৬ কোটি ডলার কম। জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা জুনের তুলনায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার কম। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার, যা মে মাসের তুলনায় ২৩ কোটি ডলার কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ২৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৭ হাজার ২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ২৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় অবৈধ চ্যানেলে বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বেড়েছে। তাছাড়া করোনার প্রভাবে প্রবাসীরা যেভাবে চাকরি হারিয়েছেন সেভাবে দেশের বাইরে নতুন শ্রমশক্তি নিয়োগ হয়নি।