১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সাথে তাল মেলাতে চট্টগ্রাম বন্দরের ফ্রিপোর্ট মোড় পুরাতন লেবার কলোনির জায়গায় ‘নিউমুরিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড’ নির্মাণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে নতুন করে আরো চার হাজার কনটেইনার রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর ফলে ভবিষ্যতে কনটেইনার জট তৈরির সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

বৈরি আবহাওয়া, যথাসময়ে পণ্য খালাস না করাসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের চাপ বেড়ে যায়। আমদানিকারকরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম পণ্য ডেলিভারি নিলেও বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনারের স্তূপ জমে যায়। ফলে বন্দরে কনটেইনারের চাপ তৈরির পাশাপাশি বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতো। তবে নতুন ইয়ার্ডের কারণে সে সমস্যা দূর হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, মূল জেটি, সিসিটি ও এনসিটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের এতদিন কনটেইনার ধারণক্ষমতা ছিল ৪৯ হাজার টিইইউস। তবে নিউমুরিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড তৈরির ফলে আরো চার হাজার টিইইউস কনটেইনার রাখার সুযোগ তৈরি হলো।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সম্প্রতি কাজ শেষ হবার পর তা আজ উদ্বোধন করা হয়। দুই পর্যায়ে নির্মিত ইয়ার্ডটির জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। ৩৪ একর জমিতে এই ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে মোট স্থান রয়েছে ৯০ হাজার ৫০০ বর্গফুট। ইয়ার্ডের গ্রাউন্ডে রাখা যাবে ৪ হাজার কনটেইনার।

সদ্য বিদায়ী ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে যা গত ৪৪ বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউস, ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউস, ২০১৮ সালে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ হাজার টিইইউস ও ২০১৭ সালে ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরে গতিশীলতা বেড়েছে, এটা আমাদের জন্য সুখবর। তবে এর মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, পুরো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রামের যেখানে সামাজিক দুর্বলতা আছে চট্টগ্রাম বন্দর সেখানে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগ করতে চায়।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. শাহজাহান বলেন, দিনকে দিন চট্টগ্রাম বন্দর এগিয়ে যাচ্ছে। নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। বন্দরে এখন ৫০ হাজার টিইইউএসেরও বেশি কনটেইনার রাখা যাবে। করোনার সময় বন্দর পুরোদমে সচল ছিল। আমরা আমাদের ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে হারিয়েছি। আমরা সব রেকর্ড ভেঙ্গেছি আমাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। আমাদেরকে আরো আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।