১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আধুনিক যন্ত্রপাতির সংযোজন ও আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বন্দরের সংক্ষমতা আরও বাড়াতে সার্ভিস জেটি, ওভার ফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি নতুন টাগ বোট সংগ্রহ করেছে বন্দর। ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে এবং প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন বাড়াতে নিজস্ব অর্থায়নে আর্ন্তজাতিক মানের সুইমিং কমপ্লেক্স তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশকে এর মধ্য দিয়ে সক্ষমতার বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভিস জেটি উদ্বোধন করছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

বহুল প্রতিক্ষীত এ চার প্রকল্পের উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। অবশেষে আজ রবিবার সকাল ১০টায় বারিক বিল্ডিং মোড় এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভিস জেটি উদ্বোধন করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, সদস্য মো. জাফর আলম, সচিব মো. ওমর ফারুকসহ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বন্দরের জন্য ওয়েস্টার্ন মেরিন থেকে কেনা টাগবোট কাণ্ডারী ৬ হস্তান্তর, ওভার ফ্লো ইয়ার্ড ও সুইমিং কমপ্লেক্স উদ্বোধন।

নবসংগৃহীত টাগবোট হস্তান্তর ও নবনির্মিত সার্ভিস জেটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরে গতিশীলতা বেড়েছে, এটা আমাদের জন্য সুখবর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ১২ বছর ধারাবাহিকভাবে দেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, পুরো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধারা বজায় আছে। পৃথিবীর অনেক দেশ নেতৃত্বের কারণে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব না থাকলে আমরা এ স্বাধীন দেশ পেতাম না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। করোনার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ১২টি করে জাহাজ খালাস করা হয়েছে। চট্টগ্রামের যেখানে সামাজিক দুর্বলতা আছে চট্টগ্রাম বন্দর সেখানে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়। এখন থেকে আরও বেশি উদ্যমী হয়ে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। এটা আমার খুব ভাল লাগে, আমাকে প্রেরণা জোগায়। এই চট্টগ্রাম বন্দরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগ করতে চায়। দেশ যত এগিয়ে যাবে, ততো বেশি ষড়যন্ত্র তৈরি হবে। তাই আমাদেরকে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সামনে চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক কাজ। বেটারমিনাল, মাতারবাড়িসহ অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।