২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রাষ্ট্রীয় কোষাগার ২০২০-২১ অর্থবছরে কর দিয়ে  সমৃদ্ধ করায় ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতার সম্মাননা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় আয়কর দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সেরা করদাতার সম্মাননা স্মারক ও ট্যাক্স কার্ড তুলে দেন প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

                                       প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

এসময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আপনারা করদাতারা যারা আছেন তারাই প্রকৃত দেশ প্রেমিক ও ঈমানদার মুসলমান। কারণ দেশ প্রেম না থাকলে খাঁটি মুসলমান হওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই মিলে একটু একটু করে দিয়ে হলেও সোনার বাংলাদেশ গড়বেন। আপনাদের দেয়া করের অর্থ আমরা জনগণের কল্যাণে বিনিয়োগ করি।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণিতে ৭৫ জন, কোম্পানি শ্রেণিতে ৫৪ জন ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ১২ জন করদাতাকে সম্মাননা দিয়েছে এনবিআর।

ব্যক্তি শ্রেণির প্রায় ১৮টি ক্যাটাগরিতে যে ৭৫ জনকে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা দেয়া হয়েছে তারা হলেন:

সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, খাজা তাজমহল, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, ট্রান্সকম লিমিটেডের লতিফুর রহমান ও পপুলার ডায়াগনস্টিকের ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. কোহিনুর ইসলাম খান ও এস এম আবদুল ওয়াহাব।

প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে আকরাম মাহমুদ, ডা. মো. মামুনুর রশীদ ও লুবনা নিগার।

নারী ক্যাটাগরিতে আনোয়ারা হোসেন, শাহনাজ রহমান, সেলিনা মাহবুব, ফারহানা মোনেম ও মোরশেদা নাসমিন।

তরুণ ক্যাটাগরিতে আহমেদ ইমতিয়াজ খান, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, মো. লুৎফর রহমান, মো. ফয়সাল হোসেন, মো. লুৎফর রহমান ও আনিকা তারান্নুম আনাম।

ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে পুরান ঢাকার হাকিমপুরী জর্দার ব্যবসায়ী মো. কাউছ মিয়া, নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাফিস সিকদার, মো. শওকত আলী চৌধুরী ও আলহাজ্ব আনোয়ার খান।

বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে মোহাম্মাদ ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, রুবাইয়াৎ ফারজানা হোসেন, লায়লা হোসেন ও এম এ হায়দার হোসেন।

আর পড়ুন:   এখন সরকারের কোর্টে বল : ড. কামাল

চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে ডা. জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান ও নার্গিস ফাতেমা।

সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর ও আব্দুল মুকিত মজুমদার, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

আইনজীবী ক্যাটাগরিতে শেখ ফজলে নূর তাপস, কাজী মোহাম্মদ তানজিবুল আলম, আহসানুল করিম, নিহাদ কবির ও তৌফিকা আফতাব।

প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান ও মো. জহুরুল ইসলাম।

স্থপতি ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, মো. রফিক আজম ও এনামুল করিম নির্ঝর।

অ্যাকাউন্ট্যান্ট ক্যাটাগরিতে মো. ফারুক, মাশুক আহমেদ এফসিএ, মো. মুশতাক আহমেদ।

নতুন করদাতা ক্যাটাগরিতে মোসাম্মৎ শাহিন আক্তার, মীযানুল করীম, রোকশানা পারভীন, মো. সালাহ উদ্দিন, রাশেদা আক্তার চৌধুরী, বাধন বনিক ও মো. রিয়াদ উর রহমান।

খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটার মো. মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবাল খান ও সৌম্য সরকার।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে সুর্বণা মোস্তফা, বিদ্যা সিনহা মীম ও বাবুল আহমেদ।

গায়ক-গায়িকা ক্যাটাগরিতে তাহসান রহমান খান, এসডি রুবেল ও কুমার বিশ্বজিৎ।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে মাহমুদুল হক, খন্দকার মনির উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কোম্পানি পর্যায়ে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পাওয়া ৫৪ প্রতিষ্ঠান হলো:

ব্যাংকিং ক্যাটাগরিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি), ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ও ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।

অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও ডেল্টা ব্রাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড। টেলিকমিউনিকেশন ক্যাটাগরিতে গ্রামীণ ফোন লিমিটেড।

প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে উত্তরা মোটর্স লিমিটেড, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও উত্তরা অটোমোবাইলস লিমিটেড।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ক্যাটাগরিতে নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও প্রাণ ডেইরি লিমিটেড।

জ্বালানি ক্যাটাগরিতে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি ও পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড।

পাট শিল্পে, আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, আইয়ান জুট মিলস লিমিটেড ও আই আর খান জুট মিলস লিমিটেড।

আর পড়ুন:   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল

স্পিনিং ও টেক্সটাইল ক্যাটাগরিতে কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড, বাদশা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, নোমান টেরিটাওয়াল মিলস, নাহিদ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস, ইসমাইল আঞ্জুমান আরা ফেব্রিক্স, প্রিমিয়ার ও নাহিদ কটন মিলস লিমিটেড।

ওষুধ ও রসায়ন ক্যাটাগরিতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনেটা।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে- মিডিয়া স্টার লিমিটেড, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ, ট্রান্সক্রাফট ও সময় মিডিয়া লিমিটেড।

রিয়েল এস্টেট ক্যাটাগরিতে- রেব-আরসি প্রাইভেট লিমিটেড, রিজভি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও বে ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

তৈরি পোশাক ক্যাটাগরিতে ইউনিভার্সেল জিন্স, ইয়ংওয়ান হাইটেড স্পোর্টসওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ, জাবের এন্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স, রিফাত গার্মেন্টস, স্কয়ার ফ্যাশন, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ ও হামিম ডেনিম লিমিটেড এবং চামড়া শিল্পে- বাটা সু কোম্পানি, এপেক্স ফুটওয়্যার, লালমাই ফুটওয়্যার ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পেয়েছে।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আমেরিকান টোব্যাকো, আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স, সাধারণ বিমা করপোরেশন ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেড ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা পেয়েছে।

করদাতা পর্যায়ের আরও ১২টি প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন। এরমধ্যে ফার্ম ক্যাটাগরিতে- চট্টগ্রামের মেসার্স এস এন করপোরেশন, সিলেটের মেসার্স মো. জামিল ইকবাল, মেসার্স এ এস বি এস ও ফেনীর মেসার্স ছালেহ আহম্মদ।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ও সেতু কর্তৃপক্ষ। ব্যক্তি সংঘ ক্যাটাগরিতে আশা ও সেনা কল্যাণ সংস্থা হেড অফিস।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ব্যুরো বাংলাদেশ, রফিক কন্সট্রাকশন কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, আরকে পাওয়ার প্রাইভেট ও সেন্টার ফর ডেভেলমেন্ট ইনোভেশন অ্যান্ড প্রাকটিসকে সেরা করদাতা সম্মাননা ও ট্যক্সকার্ড দেয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্স কার্ডধারীরা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন। যেকোনো ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা চিকিৎসা সেবায় তারা অগ্রাধিকার সুবিধা ভোগ করবেন।