২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোহাম্মদ সেলিম  *

স্কুলশিক্ষক থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান  এবং  সংসদ – সদস্য নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কীভাবে জাতীয় পর্যায়ে  প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়  তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এ বি এম আবুল কাসেম মাস্টার।  আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ ও পরোপকারী  ত্যাগি এ  রাজনৈতিক নেতা ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের  ২৪ নভেম্বর এদিনে ইন্তেকাল করেন।

১৯৯৬ সালে সাবেক মন্ত্রী  ইঞ্জিনিয়ার এলকে সিদ্দিকীকে হারিয়ে প্রথমবার চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে  এমপি নির্বাচিত হন মাস্টার আবুল কাসেম।  তৎকালীন সব মন্ত্রীকে সীতাকুণ্ডে এনে  রাস্তাঘাট, পুল কালভার্ট , মসজিদ- মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠোমো উন্নয়নে এক  নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি । তাঁরই প্রচেষ্টায় সীতাকুণ্ডে পল্লী বিদ্যুৎ, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রতিষ্ঠা ও সীতাকুণ্ড সদর ইউনিয়ন পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়।

মাস্টার কাসেম  ২০০৮ সালে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন। স্বীয় যোগ্যতার দ্বারা যে ত্যাগিনেতা সীতাকুণ্ডবাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমপি মানে জনগণের সেবক; আমজনতার সুখ-দুঃখের নিত্যসঙ্গী, জনপ্রতিনিধি মানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানী কিংবা জেলা শহরে বসে খবরদারি নয়। সীতাকুণ্ড থেকে এমপি হোস্টেল , সংসদ ভবন থেকে সচিবালয় প্রতিটি মুহূর্ত  ব্যয় করেছেন গণমানুষের কাজে। প্রতিবারই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়নের জন্যে  গ্রামীণ জনপদের প্রতিটি এলাকার মানুষের সমস্যা স্বচক্ষে দেখতে ছুটে যেতেন তিনি।

দল- মত নির্বিশেষে যেকোনো লোক , যেকোনো সময় এমপি কাসেমের শয়নকক্ষে পর্যন্ত গিয়ে মনের কথা বলতে পারতেন ।  তাঁর আমলে এমন কোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

প্রথমবার এমপি হওয়ার পর  তিনি প্যানেল স্পীকারের  দায়িত্ব পালন করেন ,দ্বিতীয়বার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক এমপি এ বি এম আবুল কাসেম মাস্টার

রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি এবিএম আবুল কাসেম চট্টগ্রাম শহরের কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন বেশ কয়েকবছর।  একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছাত্র, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা , সম্মান এবং ভালোবাসা অর্জন করেছেন।  শিক্ষকতা , রাজনীতি  ও দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাধে নির্বাচনী এলাকা সীতাকুণ্ড -উত্তর পাহাড়তলী ও উত্তর কাট্টলীর এমন কোনো বাড়িঘর নেই যেখানে আবুল কাসেম মাস্টারের পদধূলি পড়েনি । কারো প্রিয় স্যার, কারো প্রিয় কাশেমভাই হিসেবে তিনি এলাকবাসীর আত্মার আত্মীয় এবং দলমত , জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বসাধারণের প্রিয় নেতার আসনে অধিষ্ঠিত হন।

আর পড়ুন:   ড. নজরুল আনোয়ার  বিএসটিআই’র নতুন মহাপরিচালক

বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাসেম মাস্টার মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি কান্না গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করতেন। আমৃত্যু আওয়ামী লীগকে নিয়েই স্বপ্ন দেখেছেন, এ দলের জন্যই আজীবন লড়াই করেছেন। প্রতিপক্ষকে কখনোই হেয়প্রতিপন্ন কিংবা গালমন্দ করতেন না। এজন্যে তিনি শুধু নিজ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নয়, সর্বসাধারণের মধ্যে  তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনীতির এ  দিকপাল, ছায়ার মতো আগলে রাখতেন নেতা কর্মীদের,দেখাতেন স্বচ্ছ রাজনীতির পথ । রাজনৈতিক শিষ্টাচার, কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও রাজনৈতিক সততার উদাহরণ একমাত্র মরহুম এবিএম আবুল কাসেম মাস্টার।

গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সর্বোপরি সীতাকুণ্ডের মানুষের কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর সংগ্রামী মনন ও আন্তরিক কর্মনিষ্ঠা ইতিহাসের উজ্জ্বলতায় বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জীবন সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। জননেতা আবুল কাসেম মাস্টারের  ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা  এবং  তাঁর  বিদেয়ী আত্মার শান্তি কামনা করছি

কর্মসূচীঃ সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের  সাবেক সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব এ বি এম আবুল কাসেম মাস্টারের ষষ্ঠমৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ  ২৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

সকাল ৮টায় টায় খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল।  সকাল ৯টায় টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সেবামূলক সংগঠনের উদ্যোগে সলিমপুরস্থ মরহুমের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন।

বিকাল ৪টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসা মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।এতে সকলের উপস্থিতি এবং সহযোগিতা আন্তরিকভাবে কামনা করেছেন মরহুমের পুত্র সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন।

লেখক-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও  chatganrbani.com