কোরবানীর ঈদের দিন চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও যত্রতত্র জবাইকৃত কোরবানীর পশুর চামড়া ফেলে দেয়া যাবে না। কোনো মৌসুমী ব্যবসায়ী যদি অন্যবারের ন্যায় চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে যত্রতত্র ফেলে দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে তৎপর থাকবেন। প্রয়োজনে জবাইকৃত প্রতিটি পশুর চামড়া আট থেকে দশ কেজি লবন দিয়ে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়া ও দুর্গন্ধ চড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাতীয় সম্পদ কাঁচা চামড়ার সংরক্ষণ, ক্রয় ও বিক্রয়, পরিবহণসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা সার্বক্ষণিক তদারকির লক্ষে আজ বিকেলে চসিক টাইগারপাসস্থ অস্থায়ী ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উল্লেখ্য দীর্ঘদিন পর সরকার এবার চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম। এতে অন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলী, কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মোহাম্মদ জাবেদ, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকতা ডিডিএলফি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর সহকারী পরিচালক ডা. কামরুল আযাদ, আনসার ভিডিপির রেঞ্জ কমান্ডার রাফিউল ইসলাম, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভুষণ দাশ, ইসলামী ফাউন্ডেশনে পরিচালক মো. সলিম উদ্দীন, বিসিক চট্টগ্রামের উপ মহাব্যবস্থাপক জামাল নাসের চৌধুরী, ডিআইজি অফিসের এসপি মো. হাসান বারী প্রমুখ। সভায় সিটি কর্পোরেশনের উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি বক্তব্যে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম বলেন, সরকার দীর্ঘ দিন পর এবার চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকেও বলা হয়েছে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে চামড়া সংরক্ষণে প্রচার প্রচারণা চালানো। শেষ মুহূর্তে যেহেতু সিদ্ধান্ত এসেছে এবার প্রাথমিকভাবে প্রচার প্রচারণা হিসেবে সিসিএলে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ তৎপর থাকবেন যাতে কোনো মৌসুমী ব্যবসায়ী যেখানে সেখানে চামড়া ফেলে যেতে না পারে।

সভায় বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে জানা গেছে , এবার সারাদেশে এক কোটির মতো পশু কোরবানী হবে। চট্টগ্রাম নগরে আট লাখ নয় হাজার পশু জবাই হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার এবার এক কোটি বর্গফুট চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তা হতে হবে লোমবিহীন (ওয়েভ ব্লু ) চামড়া। কাজেই পশু জবাই করার পর যেনতেন ভাবে পশুর চামড়া ও পশুর কান এবং মাথার চামড়া যেন তেনভাবে ছড়িয়ে ফেলে দেয়া যাবে না। কারণ বিসিক এবার পর্যাপ্ত লবন সরবরাহের ব্যবস্থা রেখেছে। কাজেই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লবণজাত করে তিন/চার দিন পশুর চামড়া সংরক্ষণ করতে পারবেন। চামড়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মফস্বলের  মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় লবণজাত করে চামড়া তিন/চার দিন সংরক্ষণ করতে পারবেন। সংরক্ষণ করা গেলে মফস্বলের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন আশা করি।

আর পড়ুন:   সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ শিশুর মৃত্যু, আহত ১৭

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান তারা এবার কোরবানীর পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া ছড়ানোর প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়ে বিশ হাজার লিফলেট ছাপিয়েছেন। যা মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও নগরবাসীর মাঝে বিলি করা হবে। কারণ চামড়া সংরক্ষণ করে মাদ্রাসা ও এমিতখানাগুলো। কাজেই যথাযথ প্রচারে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন তৎপর থাকলে চামড়া শিল্প এবার লাভজনক হবে বলে আশা করি।

নগরবাসীকে সিটি মেয়রের ঈদুল আযাহার শুভেচ্ছা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ঈদুল আযহা উপলক্ষে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আজ সোমবার সকালে এক শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, করোনা মহামারীর বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা এবারের পবিত্র ঈদুল আযহাসহ চারটি উৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছি। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারীর বিশেষ পরিস্থিতিতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন নিজের ও পরিবারের বিপদ ডেকে না আনি। নগরবাসীর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে আপনার স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা মেনে ঈদ উদযাপন করুন। গরুর হাটে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। কোরবানীর জবাইকৃত পশুর রক্ত গর্তে ভরে মাটিতে পুঁতে ফেলুন। এসব রক্ত পানির সাথে মিশে নালা-নর্দমায় গিয়ে পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াবে। কাজেই নিজে সুরক্ষিত থাকুন ও নগরবাসীকে নিরাপদে রাখুন। মেয়র বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নগরবাসীকে সুরক্ষিত রেখে অতিমারীর ঈদগুলোও যেন উদযাপনের তৌফিক দান করেন সেই প্রত্যাশা করি।

মোহরা ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য করছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

মোহরা ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, করোনাকালে নগরীর নিম্নআয়ের প্রতিটি বিপন্ন মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার সামগ্রী আপদকালীন সময়ের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ। এ উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এ দুঃসময়ে মানুষের পাশে যারা দাঁড়াতে পারবেন তারাই সত্যিকার অর্থে মহৎ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেন। তিনি আজ সোমবার সকালে মোহরা ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর উপহার (অর্থ ও ত্রাণ) বিতরণকালে এ কথা বলেন। মোহরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী নুরুল আমিন মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত খাদ্য সহায়তা বিতরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও চউকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ফারুক, নুরুল আলম, এস.এম. আনোয়ার মির্জা, হাজী আবু তাহের, মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মেয়র আরো বলেন, লকডাউন শিথিলতাকালে কোনোভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা নয়। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি স্বরূপ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, সংক্রমণের উর্ধ্বগতি সত্যিই উদ্বেগজনক। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাধ্যাতীত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন প্রয়োজন নিজে সচেতন থেকে অন্যেকেও সচেতন করা।

আর পড়ুন:   খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে
পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণ করছেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী

পশ্চিম বাকলিয়ায় ত্রাণ বিতরণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎপরতার কারণে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে আমরা বিশ্বের অনান্য দেশের চাইতেও অনেক ভাল আছি। গত ১ বছর যাবত প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জীবন-জীবীকার সংকট মোচন ও প্রাণ বাঁচাতে করোনার টিকা, অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হয়তো বা এ সহায়তা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, তবুও এ দুযোর্গকালে এইটুকু সহায়তাও কম নয়। আমাদের নিজেদের সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় রেখে সাবধানে চলাচল করতে হবে। অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাজে বের হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। তিনি আজ সকালে ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ডিসি রোডস্থ সাবেক এমপি এম কফিল উদ্দীন এর বাড়ির সামনে গরীব দুঃস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার (খাদ্য সহায়তা) বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। কাউন্সিলর শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. মুসা, শামসুল হক, মো. আনোয়ার হোসেন, এম.এ হান্নান, সরোয়ার আলম, আব্দুল মালেক, জামাল আহমেদ, ওমর ফারুক সনেট, আব্দুল হাকিম ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নাছির উদ্দিন মজুমদার, স্বেচ্ছা সেবক লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, ছাত্রনেতা সমর দাশ প্রমুখ। মেয়র আরো বলেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। আমরা অনেকেই নিয়ম কানুন মানতে চাইনা বলে সংক্রমণের উর্ধ্বগতি অবতারণা হচ্ছে অন্যদিকে যত্রতত্র নালা-নর্দমা-খালে পলিথিন ফেলার কারণে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা হয়ে জলজট সৃষ্টি হচ্ছে।

পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ইজারাদারকে জরিমানা করছেন চসিক ম্যাজিস্ট্রেট

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আজ সোমবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন পোস্তারপাড় কোরবানীর পশুর বাজার, চান্দগাঁও থানার কর্ণফুলী কোরবানীর পশুরহাট ও পাঁচলাইশ থানার বিবিরহাট কোরবানীর পশুর বাজার মনিটরিং করা হয়। এ সময় করোনাভাইরাজ জনিত রোগের বিস্তার রোধে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় ইজারাদারদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রুজু পূর্বক ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য ইজারাদারদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। অভিযানকালে ম্যজিস্টেট পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন এবং নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনাও প্রদান করে। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে সহায়তা করেন সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্য বৃন্দ।