সাদার্ন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক অব বাংলাদেশ (এনকিউএফবি)’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সরওয়ার জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, “বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো বাস্তবায়নের উপর জোর দেয়া জরুরি। দেশে বিভিন্ন স্তরের বহুমুখি শিক্ষা ব্যবস্থাকে বর্তমান সরকার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুপরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনায়ন এবং গুণগতমান নিশ্চিত করতে নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষার স্তর পর্যন্ত উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি মনে করি, ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত হলে এবং তা বাস্তবায়ন শুরু হলে দেশের উচ্চশিক্ষার যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষার মান বিশ্ব পর্যায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সাদার্ন ইউনিভার্সিটি। হেকেপ প্রজেক্টেও সফলতা অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের মধ্যে দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কর্মমুখি শিক্ষা, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনের উপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের স্কেলে গ্রহণযোগ্য করতে হবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক ।

অধ্যাপক সরওয়ার জাহান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অথার্য়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন(ইউজিসি) নির্দেশনায় হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। হেকেপ প্রজেক্টের সহযোগিতায় শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের প্রস্তাবিত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এই ইউনিভার্সিটি।

অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান উচ্চ শিক্ষায় জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন এবং কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মতামত এবং বিভিন্ন বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে ১০টি বিএসি স্ট্যান্ডার্ডের বিষয় তুলে ধরে মানদণ্ড অনুসরণ করার প্রস্তাব দেন । সকল বিভাগে মানসম্মত শিক্ষার বাস্তবায়নের জন্য বিএসি মানদণ্ডে আরও কর্মশালা আয়োজনে পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

আর পড়ুন:   বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে

ভার্চুয়াল কর্মশালায় আরও যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, উপদেষ্টা, বিভাগীয় প্রধানগণ, রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সব বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।