নিজস্ব প্রতিবেদক *

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একই সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দুর্নীতিবন্ধে ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বীজ বপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণ করবে সরকার। ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে সারাদেশে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১৩টি বিশেষ সুবিধার মধ্যে মসজিদে হজ্জ যাত্রীদের প্রশিক্ষণসহ পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকছে

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে আধুনিক ও সুসজ্জিত এ মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, বিশ্বব্যপী জঙ্গীবাদের কারণে মানুষ হত্যা করে ইসলামের ভাবমূর্তী ক্ষূন্ন করা হচ্ছে।সন্ত্রাস , জঙ্গীবাদের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক বলন্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।

নির্মিত এ মডেল মসজিদগুলো ইসলাম প্রচার ও বিকাশে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি মানুষের নিজ ধর্ম পালনের অধিকারে বিশ্বাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম ধর্ম হচ্ছে সবচেয়ে সহনশীল ধর্ম। যে ধর্ম মানুষের অধিকার দেয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে তৈরি করার শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষাটা যেন সবাই পায় সেটা আমরা চাই। আমি আশা করি আমাদের মডেল মসজিদের মাধ্যমে ইসলামের বাণী প্রচার হবে, ইসলামের সংস্কৃতির প্রচার হবে, ইসলামের মর্মবাণী সকলে, সকল ধর্মের মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে। সেদিকে খেয়াল রেখে এটা আমাদের করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের অনেক খেদমত করে গেছেন। তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং তিনিই ইসলামিক ফাউন্ডেশনটা তৈরি করে গিয়েছিলেন। ইসলামের প্রচার-প্রসারে বাংলাদেশও যেন ভবিষ্যতে অবদান রাখতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ৫০টি মসজিদের উদ্বোধন করছি।

আর পড়ুন:   কোনো গ্রাহক যেন প্রতারণার শিকার না হয়-ভূমিমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমরা লেবাসসর্বস্ব ইসলামে বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে।

তিনি বলেন, আমরা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, এ ইসলামের চর্চা এবং মূল্যবোধের চর্চা যেন ভালোভাবে হয়, ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ যেন হয়, ইসলামের মর্মবাণীটা যেন মানুষ ভালোভাবে বুঝতে পারে সেটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। আমরা দেখেছি ধর্মের নাম দিয়ে কীভাবে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্বব্যাপী দেখিছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে মানুষ খুন করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা এবং মানুষকে খুন করলে নাকি বেহেশতে চলে যাবে; আমার প্রশ্ন যারা এ পর্যন্ত খুন-খারাপি করেছে তারা কে কে বেহেশতে গেছে সেটা কি কেউ বলতে পারবে? কেউ বলতে পারবে না। কিন্তু সবথেকে সর্বনাশ করে গেছে পবিত্র ইসলাম ধর্মের, যে ধর্ম শান্তির ধর্ম, যে ধর্ম মানুষকে অধিকার দিয়ে গেছে। আমি মনে করি সারাবিশ্বে সব থেকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো এই মুষ্টিমেয় লোক জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, মানুষ হত্যা করে, বোমা মেরে, খুন-খারাপি করে আমাদের এ পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করছে। এটা আমাদের ধর্মের পবিত্রতা শুধু নষ্ট করছে না, ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারাবিশ্বে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত ওলামা, অভিভাবক, শিক্ষক সকলকে অনুরোধ জানাব- এ পথ সর্বনাশা পথ, এটি হতে সকলে যেন দূরে থাকে সে জন্য সকলকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ধর্মের চর্চা করতে হলে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, মানুষের কল্যাণ করতে হবে, মানুষের সেবা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের অকল্যাণ করে, মানুষ হত্যা করে, একটা পরিবারকে ধ্বংস করে বেহেশতে যেতে পারবে না। এটা ভুল কথা। মডেল মসজিদ, এ মসজিদের মাধ্যমে আমাদের ইসলাম, আমাদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দাওয়াতি কার্যক্রম সেগুলো যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রসার, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, এগুলো থেকে মানুষ যেন দূরে থাকে।

আর পড়ুন:   চসিকের তিনটি মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা

তিনি বলেন, বরং মানুষ যেন আমাদের ধর্মের যে মূলকথা সেটা যেন মানুষ সঠিকভাবে শিখতে পারে, জানতে পারে। ধর্মের চর্চা করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষ যেন জানতে পারে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সবদিকে আমাদের ব্যাপ্তি সারাবিশ্বে। সবকিছুতেই তো মুসলমানরা আগে এগিয়ে এসেছে। সবসময় মুসলমানরাই সামনে ছিল। সভ্যতার দিক থেকে মুসলমানরা সবসময় আগে ছিল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে শুরু করে মুসলমানরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রে, জোত্যির্বিদ্যা- সবকিছুতেই মুসলমানরা এগিয়ে ছিল। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে- বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে। আজ কেন মুসলমানরা পিছিয়ে থাকবে। সেটিই আমার প্রশ্ন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এ মসজিদগুলো পেয়েছি, আমরা এটাই চাচ্ছি- প্রতিটি জেলা-উপজেলায়। আমরা চাই যে আমাদের পবিত্র ধর্ম সম্পর্কে মানুষ সচেতন হবে। এ মসজিদগুলোতে সে ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের এ দিকে দৃষ্টি দিতে হবে যেন ধর্মীয় দৃষ্টিতে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতা, মাদক, মাদকের হাত থেকে মানুষ যেন মুক্ত হতে পারে তার জন্য সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। এসবের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ মসজিদকে আমরা সেইভাবে তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, ইসলাম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যাতে বৃদ্ধি পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা মসজিদগুলো করেছি। আজ আমি সত্যিই খুব আনন্দিত, মডেল মসজিদগুলো হতে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে, ইসলামের সঠিক জ্ঞানচর্চা হবে, মুসলমানরা আরও সচেতন হবে, জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে যাবে।