চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটাইজেশন এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নগরীর দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা সম্ভব। প্রতিবন্ধী, শিশু, বয়স্কদের জন্য বিশেষ সুবিধা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা, শিশুদের দুধ খাওয়ানোর স্থান, সার্বক্ষণিক মহিলা এ্যাটেনন্ডের ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা, লকারের ব্যবস্থা সহ বিশুদ্ধ খাবার পানি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা আধুনিক নগরী রূপায়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি আজ মঙ্গলবার টাইগার পাসস্থ চসিকের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ওয়াটার এইড এর কান্টি ডিরেক্টর হাছিন জাহানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় আরো অংশ নেন কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম চৌধুরী, ওয়াটার এইডের কান্টি ডিরেক্টর হাছিন জাহান, পলিসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ , ডিরেক্টর হোসেন ইশরাত আদিব ও ম্যানেজার বি.এম জাহিদুল ইসলাম। প্রতিনিধি দল বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচী পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় বলা হয় বিশ্বের ২৮ টি দেশে ওয়াটার এইড এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের জরিপে চট্টগ্রাম নগরীতে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বেশিরভাগ টয়লেটেই নারী ও প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারের জন্য বিশেষ সুবিধা নেই। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে নগরীতে আরো টয়লেট স্থাপন, টয়লেটের সেবার মান উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া চসিকের সাথে যে তিন বছরের চুক্তি ছিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মেয়াদের নবায়ন সহ পয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (FSM)  বন্ধ হয়ে যাওয়া প্লান্ট চালু করার ক্ষেত্রে চলাচলের রাস্তার কারণে যে সমস্যা হয়েছে তা সমাধানের আবেদন জানান। মেয়র ওয়াটার এইড প্রতিনিধি দলের আবেদনে সাড়া দিয়ে মেয়াদের চুক্তি নবায়ন ও পয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট চালু করতে চলাচলের যে সমস্যা হয়েছে তা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম নগরীকে বিশ্বমানের পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়তে চাই

জাইকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর প্রজেন্টেশন কর্মসূচীতে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আমি চট্টগ্রাম নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেখতে চাই। নগরবাসী যাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে পারে এবং সচেতন হয় সেই ব্যাপারে ওয়েবসাইটে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভার্সন এর মাধ্যমে প্রতিবছর বার্ষিক প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মেয়র চট্টগ্রাম নগরীকে একটি বিশ্বমানের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর টাইগারপাসস্থ চসিক মেয়র দপ্তরে জাইকা কর্তৃক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ২০১৯-২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন। পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন জাইকার ন্যাশনাল ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী মো. গোলাম সরওয়ার। পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন কালে ডেপুটি টিম লিডার আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে কঠিন ও তরল বর্জ্য দূষণমুক্ত পরিবেশে অপসারণ করা যায় সেই বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করেন। ইতোমধ্যে জাইকা নগরীর বর্জ্য অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বেশকিছু যানবাহন, যন্ত্রাংশ ও অটো ভ্যানগাড়ি দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে ময়লা অপসারণের ক্ষেত্রে পরিবেশের নিরাপত্তা ও বায়ু দূষণের বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়। আধুনিক বিশ্বে থ্রি-আর অর্থ্যাৎ রিসাইকেল, রিডিউস ও রিইউস এই তিন পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরকম আরো আধুনিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আলোচনায় ওঠে আসে। এছাড়া এবছরে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ল্যান্ডফিল্ডে ইনসিনেটর এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে মেয়রকে অবহিত করেন। মেয়র নগরীর বর্জ্য অপসারণে আরো কম্পেক্ট গাড়ির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জাইকার প্রতি আহ্বান জানান।

আর পড়ুন:   আমরা মেনে নেব না তাদের প্রভুত্ব

এসময় চসিক এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সচিব খালিদ মাহমুদ, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদুল আলম চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী জয় সেন বড়ুয়া ও জাইকার প্রকৌশলী মাহমুদ ইবনে সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

মনোরেল চালুর ব্যাপারে সকল সেবা সংস্থার পরামর্শ নেয়া হবে

উইটেক চায়না প্রতিনিধি দলের মনোরেল স্থাপনের খসড়া প্রস্তাবনা গ্রহণ করছেন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম নগরীর যাতায়ত ব্যবস্থায় গতি আনতে মনোরেল চালুর প্রস্তাব নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে আজ মঙ্গল বিকেলে নগরীর টাইগার পাসস্থ কর্পোরেশনের নগর ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাত করেছেন চায়না প্রতিষ্ঠান উইটেক (Wetech) এর একটি টিম। চায়না কোম্পানীর এ টিম সাক্ষাত করতে এলে মেয়র তাদেরকে স্বাগত জানান। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চায়না কোম্পানী সিআরসিসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ওঠে আসে। প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, মনোরেল ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রাম নগরীর জন্য কতটা বাস্তব সম্মত তার সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। মনোরেল চালুর জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন এর চলাচলের রুট নির্ধারণ করা। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম নগরকে ঘিরে যে সেবা সংস্থাগুলো আছে তাদের মতামত নেয়া প্রয়োজন। এ মতামতের ভিত্তিতে উইটেক-এর প্রস্তাবণাকে বিবেচনায় নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সচিব খালেদ মাহামুদ, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, উইটেক (Wetech) কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি মেং (Li Meng),  মেট্রোরেল প্রকল্পের ও কোডাওয়ারি (Kodawri) ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানীর প্রকৌশলী আবিদ রহমান তানভীর, মাওয়া গ্রুপের পরিচালক আহনাফ আকিব, দিদার আলম প্রমুখ।

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত

চসিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার নগরীর চকবাজার ও লালদীঘি পাড়স্থ মহল মার্কেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স আদয়ের লক্ষ্যে রাজস্ব সার্কেল-২ এর আওতাধীন চকবাজার মহল্লায় বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৭ লাখ ৮৩ হাজার ২শত ২৫টাকা ও বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ১ লাখ ১৪ হাজার ১শত ৮৫টাকা আদায় করা হয়। একই অভিযানে রাজস্ব সার্কেল-৩ এর আওতাধীন মহল মার্কেট হতে ৯৭ হাজার ৭শত ৫০টাকা ও ওমর আলী মার্কেট থেকে  ৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ও ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ৫০ হাজার ৯শত ৮০টাকাসহ সর্বমোট হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯শত ৭৫টাকা এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ১শত ৬৫টাকা আদায় করা হয়। অভিযানে ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা পরিচালনা দায়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু পূর্বক ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়কল্পে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আদালত পরিচালনা করেন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্পেসাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস। অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে সহায়তা করেন সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।