নগরীতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহী হয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে আজ সোমবার সকালে টাইগার পাসস্থ নগর ভবনে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাত করেছেন ইউনিফাই হোল্ডিংস প্রাইভেট লি: এর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দল তাদের সম্ভাব্য প্রকল্পের একটি সচিত্র প্রতিবেদন মেয়রের কাছে উপস্থাপন করেন। মেয়র ইউনিফাই হোল্ডিংস-এর বক্তব্য শুনে বলেন, চসিক কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি সেবা প্রতিষ্ঠান। আমাদের একটি জেনারেল ও একটি মাতৃসদন হাসপাতাল সহ ৪১ টি ওয়ার্ডে আরো বহু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু আছে। কাজেই বেসরকারি পর্যায়ে যদি কোনো হাসপাতাল নির্মাণ করার প্রস্তাব আসে, তবে সেক্ষেত্রে নগরবাসীর স্বার্থ বা নগরবাসী সুলভে চিকিৎসা সেবা পাবে কি না তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইউনিফাই হোল্ডিংস লি: এর প্রতিনিধি দল জানান তাদের প্রস্তাবিত ৫০০ শয্যার হাসপাতালের মধ্যে ২০০ সাশ্রয়ী শয্যা , ১০০ শয্যা কোভিড রোগিদের জন্য ও বাকি ২০০ শয্যা সাধারণ রোগিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যবস্থা রাখা হবে। এ হাসপাতালটি নির্মাণ করতে গেলে প্রায় ২ একর জমি প্রয়োজন। এই জমি সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে পাওয়া গেলে ৫০০ শয্যা হাসপাতালে অবকাঠামো নির্মাণ সহ যাবতীয় খরচ ইউনিফাই হোল্ডিংস লি: কর্তৃপক্ষ বহন করবে। মেয়র ইউনিফাই হোল্ডিংস লি: এর প্রস্তাবটির উপর পর্যবেক্ষণ করে কি ধরণের সহায়তা করা যায় তা জানাবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সচিব খালেদ মাহামুদ, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, ইউনিফাই হোল্ডিংস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ সাহা, সাইফ আহমেদ, মো. ইমরান ইলিয়াস।

বিএমডিএফ’র প্রকৌশলীদের সাথে স্বাক্ষাতকালে মেয়র

মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী দপ্তরে সাক্ষাতে বিএমডিএফ’র প্রকৌশলীবৃন্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপম্যান্ট ফান্ড বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা পুষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের অনেকগুলো উন্নয়ন কাজ সাধিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ফইল্লাতলী কিচেন মার্কেট ও দক্ষিণ আগ্রাবাদের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ এ প্রতিষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। যা সন্তোষজনক, তবে যে কাজগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে আহ্বান জানান। আজ সোমবার সকালে টাইগার পাসস্থ নগর ভবনে বিএমডিএফ’র প্রকৌশলীরা সাক্ষাত করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। তিনি নগরীর জলজটের ভোগান্তি প্রসঙ্গে আরো বলেন, যে কোন উন্নয়ন কাজ করতে গেলে সামান্য ভোগান্তি জনগণকে মেনে নিতে হয়। তাই বলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার প্রক্কালে নগরবাসী সামান্য বৃষ্টির কারণে জল ডুবতে হবে তা কোনো অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। নগরীতে যে মূল খালগুলো দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো সে খালগুলো চউকে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাঁধ দেয়ার ফলে পানি অপসারিত হতে পারে নি বিধায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এক মাস আগে থেকে চউককে বাঁধ অপসারণের জন্য অনুরোধ করার পরও তা অপসারণ না করায় এই জনদুভোর্গ পোহাতে হয়েছে বলে জানান। সামনে পুরো বর্ষা মৌসুম পড়ে আছে বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে বাঁধ অপসারণ করার জন্য চউককে অনুরোধ জানান।

আর পড়ুন:   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দল

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, বিএমডিএফ’র প্রকল্প পরিচালক আশরাফুজ্জামান, প্রকৌশলী এ.কে.এম কামরুজ্জামান, সৈয়দ হাছিনুর রহমান, চসিক নির্বাহী আবু সাদাত মো. তৈয়ব, বিপ্লব দাশ, মো. ফরহাদুল আলম প্রমুখ।

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত

চসিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আজ সোমবার নগরীতে ভ্রামমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব সার্কেল-৫ এর আওতায় ওয়াসা মোড়, কাজির দেউরী ও এনায়েত বাজার এলাকায় বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯ শত ৭ টাকা ও বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই দিনে রাজস্ব সার্কেল-৮ এর আওতায় ইপিজেড এলাকায় বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ২৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। উভয় অভিযানে ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা পরিচালনা দায়ে ০৭ টি প্রতিষ্ঠানের থেকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায়কল্পে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে পৃথক পৃথকভাবে ভ্রামমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের উল্লেখিত রাজস্ব সার্কেলের কর কর্মকর্তা, উপ-কর কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।