৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম নগরীর সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত স্লোগান ‘নগর সেবায় ক্যাবাভান’। ‘ক্যারাভান’ শব্দের মানে কাফেলা। আর এই ‘ক্যারাভান’ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে সাপ্তাহের প্রতি বুধবার নগরবাসীর দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন। শুনছেন নগরবাসীর সুবিধা-অসুবিধার কথা। আজ বুধবার দুপুরে তিনি আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড়, বেপারী পাড়া, ছোটপুল হয়ে বড়পুল পর্যন্ত ‘ক্যারাভান’ নিয়ে যান। এই কর্মসূচির জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। কিছু পথ স্কুটি চালিয়ে কিছু পথ  হেটে লোকজনের সাথে কুশালাদি বিনিময়ের পাশাপাশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হয় কিনা, সড়ক বাতি নিয়মিত জলে কিনা তিনি জানতে চান। এসময় রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে থাকা নগরবাসী প্রশাসকের অভিনব এই কর্মসূচিকে অভিনন্দন জানান এবং প্রশংসা করেন। তখন প্রশাসক রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা নগরবাসীকে কোভিড-১৯ সচেতনতায় সাবান ও মাস্ক বিতরণ করেন।

আগ্রাবাদ চৌমুনী মোড়, বেপারী পাড়া, ছোটপুল হয়ে বড়পুল পর্যন্ত ‘ক্যারাভন’ কর্মসূচিতে সাবান ও মাস্ক বিতরণ করছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

এসময় সাবেক কাউন্সিলর মো. হোসেন, প্রশাসকের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মো. তৈয়ব, অসীম বড়ুয়া, মীর্জা ফজলুল কাদের, বিপ্লব কুমার দাশ, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদল আলম, আবদুর রহমান মিয়া, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হাজী মো. জাহাঙ্গীর, কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী সবুজ, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ, সমীর মহাজন লিটন ‘ক্যারাভান’ এর সাথে ছিলেন।

এ সময় বিভিন্ন স্পটে পথ সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি আপনাদের সুখ দুঃখের সাথী হতে চাই। আপনাদের নিকট আমার আহ্বান থাকবে আপনারা নগরীকে পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ও মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমাকে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনেকে সহযোগিতা করবেন। সড়ক, ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও বাজার বসাবেন না। সড়ক গাড়ি চলাচলের, ফুটপাত জনগণের হাটার জন্য। সড়ক-ফুটপাত দখল করে নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমি আপনাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করবো। না সরলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। তিনি সে সময় আগ্রাবাদ চৌমুহনী মোড়ের বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট ঢুকে তাদের পঁচা-বাসী খাবার যাতে বিক্রি না করে সে বিষয়ে সতর্ক করেন। প্রশাসক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন খাবার বিক্রি করলে কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন। তখন তিনি বলেন, নগরীর ৬০ লাখ মানুষ হলো আমার কর্মী বাহিনী। আপনারা সকলেই আমার কাজের অংশীদার। প্রায় ঘণ্টা খানেকের এ কর্মসূচিতে প্রশাসক যে সকলস্থানে নালার স্ল্যাব ভাঙা সেসব স্থানে দ্রুত নতুন স্ল্যাব বসাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের ব্যবস্থা নিতে বলেন। অনেক স্থানে যারা অবৈধ স্থাপনা ও নির্মাণ সামগ্রী রেখে নালার স্ল্যাব ভেঙে ফেলেছে তাদের দ্রুত নিজখরচে নতুন স্ল্যাব নির্মাণ করে কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় তিনি বসিয়ে দিতে বলেন । প্রশাসক সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সড়ক দখল করে কোনো ধরণের অবৈধ বাজার বাসানো যাবে না উল্লেখ করে বলেন, যদি আমার ঘোষণা না মেনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। তিনি নগরবাসীকে নাগরিক দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হয়ে নগরীকে বাসযোগ করে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আর পড়ুন:   বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মাইন্ড এইড হাসপাতাল,  গ্রেপ্তার মালিক 

মহেশ খালের উন্নয়কাজ পরিদর্শন : ক্যারাভান কর্মসূচি শেষ করে প্রশাসক ২৬নম্বর হালিশহর ওয়ার্ডের বি-ব্লকের পাশে জাইকার অর্থায়নে চলমান মহেষখালের সীমানা প্রাচীর, সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজের নির্মাণ কাজ ঠিকাদার তিন বছর যাবত বন্ধ করে রেখেছে এসংবাদ শোনে তা সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এসময় তিনি কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগণের অভিযোগ শোনে ঠিকাদারের সাথে কথা বলেন। ঠিকাদার আগামী বুধবারের মধ্যে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে প্রশাসককে কথা দেন।

উল্লেখ্য, মহেশ খালের এ সীমানাপ্রাচীর, সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি তিনটি ব্রিজ, ড্রেন নির্মাণে জাইকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাইকার প্রকৌশলীদের সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে মোট ২২শ ৩৭ মিটারের মধ্যে ৯শ ১০ মিটার আরসিসি সীমানা প্রাচীরের ৬৭০ মিটারে মধ্যে ৪৭০ মিটার আরসিসি ড্রেন ও তিনটি গার্ডার ব্রিজের ডেক স্ল্যাবের কাজ সম্পন্ন হয়েছে । এসময় কর্পোরেশনের প্রকৌশলীগণসহ জাইকার সিনিয়র প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন ও প্রকৌশলী ফারুক হোসেন প্রশাসকের সাথে ছিলেন।