৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সনাতন ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে অসুর নিধন করে সুর-সত্য-সুন্দর-মঙ্গলের বার্তা প্রদান করে কৈলাষে ফিরে যাচ্ছে। একে আমরা বিসর্জন বা নিরঞ্জন যাই বলিনা কেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তরে চির জাগরুক থাকবেন। তিনি করোনা মহামারী বিনাশে এবারে শারদীয় দুর্গোৎসব সংযম শৃঙ্খলায় শান্তি সম্প্রীতির জয়গান গাওয়া হয়েছে। তার সুর প্রতিদিন প্রতিক্ষণ অনুরণিত হোক।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন

আজ সোমবার বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর পুজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি এডভোকেট চন্দন তালুকদার। সভায় বক্তব্য রাখেন-প্রশাসকের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেম, চসিক পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি চসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ঝুলুন কুমার দাশ, মহানগর পুজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত, লায়ন আশিষ ভট্টাচার্য্য, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সুমন দেবনাথ, রত্নাকর দাশ টুনু, হিল্লোল সেন, মিথুন মল্লিক, এডভোকেট নটু বিশ্বাস, চসিক পুজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রতন চৌধুরী, রুমকি সেনগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন-উপ-পুলিশ কমিশনার বন্দর কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ডিবি আবু বক্কর সিদ্দিক, চসিক উপ-সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, সহকারী প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমীর মহাজন লিটন।

প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের দেশে ধর্ম চর্চা আছে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই। কিছু কুপমণ্ডুক অশুভ উদ্দেশ্যে  ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। তাদের এই অপচেষ্টা আর চালানোর অবকাশ নেই। এখন ধর্ম পরিচয়ে কোনো মানুষকে অবহেলা করা যাবে না। সংবিধানের ঘোষণাকে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে শৃঙ্খলার সাথে দুর্গা পূজা সম্পন্ন করায় মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

জেএমসেন হলের মণ্ডপে চসিক প্রশাসক সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন সনাতন ধর্মাবম্বীদের করোনা মহামারী থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আজ সোমবার  সকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় একথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রকাশ দাশ অসীত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রত্মাকর দাশ টুনু, লায়ণ দুলাল চন্দ্র দে, রিপন রায় চৌধুরী, অমিত ঘোষ।

আর পড়ুন:   শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল - মেয়র নাছির চসিক নির্বাচন নিয়ে যে বার্তা দিলেন…  

চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, আবহমানকাল থেকে বাঙালি জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের মধ্যে দিয়ে আমাদের এ বাংলাদেশে বসবাস করে আসছে। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমার প্রত্যাশা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে আপনাদের দুর্গাপূজা সফল হবে। প্রশাসক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট আগামী বছর যাতে করোনামুক্ত বিশ্বে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করা যায় সেই প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। এসময় প্রশাসক পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যে কোনো প্রয়োজনে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুম ও তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন। পরে তিনি পূজামণ্ডপ সংলগ্ন সড়ক ও নালার পরিচ্ছন্নতা ও পানি চলাচল স্বাভাবিক আছে কিনা তা প্রত্যক্ষ করেন।

প্রশাসকের নিকট পৌরকর বাবদ প্রায় ১৯ লাখ টাকার চেক প্রদান প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে পৌরকর বাবদ প্রায় ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়।গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের হাতে চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে পৌরকরের এ টাকা পরিশোধ করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালরে রেজিস্ট্রার খুরশীদুর রহমান। চেক গ্রহণকালে প্রশাসক বলেন, পৌরকরের ওপর চট্টগ্রামে উন্নয়ন নির্ভর করে। আমি নগরবাসীর ওপর করের বোঝা চাপাতে চাইনা। সরকারি যেসব সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠনের বকেয়া কর পরিশোধ করলে নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত করা সম্ভব হবে। এসময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, ৫নম্বর রাজস্ব সার্কেলের কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন কাজের ঝটিকা পরিদর্শনে সুজন

নগরীর স্ট্যান্ড রোডে ওয়াসার সংযোগ লাইনের লিকেজের কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘স্ট্যান্ড রোড’ সড়কের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এ সড়কের বিভিন্ন অংশে জনদুর্ভোগ হচ্ছে। এই সংবাদ শুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন গত রবিবার সন্ধ্যায় স্ট্যান্ড রোডে ও ওই রোডের রশিদ বিল্ডিং ঢাকা ডিটি বাই লেনের বিভিন্ন অংশ ঝটিকা পরিদর্শনে যান। এসময় কর্পোরেশনের প্রশাসকের একান্ত সচিব মো.আবুল হাসেম, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, সহকারী প্রকৌশলী মজিবুল হায়দার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর সোলেমান, চন্দন দাশ প্রশাসকের সাথে ছিলেন।

আর পড়ুন:   হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ওয়াসার সংযোগ লাইনের লিকেজের কারণে স্ট্যান্ড রোডের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এ সমস্যা সমাধানে স্ট্যান্ড রোডের উন্নয়ন কাজের তদারকির দায়িত্বরত কর্পোরেশনের প্রকৌশলীদের উক্ত রোডের ওয়াসার চলমান কাজের প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা বলে তাদের সংযোগ লাইন দ্রুত মেরামত করার জন্য তাগিদ দিতে বলেন। প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষের উচিত কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করে তাদের সংযোগ লাইনের লিকেজের কাজ দ্রুততার সাথে শেষ করা। সমন্বয়হীনভাবে কোনো কাজ করলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়াসা, চউকসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে বরাদ্দ দিয়েছেন।  কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা গাফিলতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। তিনি ওয়াসার সংযোগ লাইন মেরামত ও কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া স্ট্যান্ড রোডের রশিদ বিল্ডিং এলাকায় ভারি যানবাহন চলাচল এড়িয়ে চলার জন্য পরিবহন মালিক ও চালকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ করেন। এসময় প্রশাসক ওয়াসার সংযোগ লাইনের মেরামতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে তাদের ব্যবস্থাপনা পরিালকের সাথেও কথা বলবেন বলে স্থানীয় জনগণকে আশ্বাস দেন। এসময় স্ট্যান্ড রোডের বেশ কিছু স্থানে সড়ক বাতি জলে না বলে স্থানীয়রা    প্রশাসককে অবহিত করলে, তিনি তাৎক্ষণিক কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে বাতি লাগানোর ব্যবস্থা নিতে বলেন।

উল্লেখ্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জাইকার অর্থায়নে নগরীর স্ট্যান্ড রোডের এই উন্নয়ন কাজ করছে। এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।