৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, কর্মই হলো মানুষের ধর্ম। কর্মের মাঝেই শরীর-মন দুই’ই সতেজ ও প্রফুল্ল থাকে। কর্ম না করে, চুরি করলে বিত্ত অর্জন করা যায়, চিত্ত অর্জিত হয় না। তাই মানুষের মনের ময়লা দূর না হলে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। আচার সর্বস্ব ধর্ম-কর্ম করে কোনো লাভ নেই। মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে না দাড়ালে মনুষ্যত্ব অর্জিত হয় না। তিনি আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন বিএমএইচ ফ্যামিলি আয়োজিত সর্বজনীন দুর্গোৎসব উপলক্ষে দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সংগঠনটি মোট একশ সনাতন ধর্মাবলম্বীর মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করে।

দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের এডমিন মো. ফয়সালুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজনীতিক তপন চক্রবর্তী, রাজীব দে শম্ভু। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা সত্যপদ তালুকদার, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিবেদক রূমন ভট্টচার্যসহ জীবন মিত্র, রাজীব নন্দী রাজা প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনর প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার করোনার কারণে বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুরক্ষা নিয়ে সংযমের মাধমে পালন করা হয়। তিনি করোনার প্রকোপ আবারও বাড়তে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে, হিন্দু সম্প্রদায়কেও সংযমের মাধ্যমে দুর্গোৎসব পালনের আহ্বান জানান। এসময় প্রশাসক পাড়া মহল্লায় বাসস্থান ও প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের সামনের ময়লা আবর্জনা নিজ উদ্যোগে পরিস্কার রাখতে বলেন। কর্পোরেশনের পক্ষে থেকে প্রয়োজনে ময়লা সংগ্রহ করার থলে সরবরাহ করা হবে। এতে আপনারা নিজ-নিজ ময়লা-আজর্বনা জমিয়ে রাখবেন। কর্পোরেশনের সেবকগণ তা আপনাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, এশহর আপনাদের তাই আপনাদেরও নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। আমি চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য করার প্রয়াসে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিত কামনা করছি।পরে প্রশাসক সনাতনী দুঃস্থদের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।

আর পড়ুন:   আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে জার্মানির পথে প্রধানমন্ত্রী

বেপজা চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাতকালে সুজন

সাক্ষাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে আলাপরত বেপজা’র চেয়ারম্যান মেজর জেনালের এস.এম সালউদ্দীন ইসলাম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) জাতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। চট্টগ্রাম নগরীতে যে বড় দু’টি ইপিজেড রয়েছে তাদের সেখানে বিরাট কর্মী বাহিনী কাজ করছে। ইপিজেড দু’টি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সড়ক অবকাঠামো ব্যবহার করে তাদের নিত্য ব্যবসা বাণিজ্য পরিচলনা করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তাদের কাছ থেকে নূন্যতম একটি সাভিস চার্জ পেতে পারে। এই সার্ভিস চার্জ দিয়ে নগরীর সড়ক অবকাঠামোগুলো সংস্কার ও উন্নয়ন সম্ভব। তিনি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)  চেয়ারম্যানের সাথে বেপজার কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এই ব্যাপারটি অচিরেই একটি রিজিওনাল সেন্টারে পরিণত হবে। যানবাহন চলাচলের জন্য ভাল মানের রাস্তা ও অবকাঠামো প্রয়োজন। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে তা সম্ভব নয়। এই ব্যয় নির্বাহে বেপজার অংশীদারিত্ব চট্টগ্রাম নগরবাসী তো বটেই তার সুফল ভোগ করবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলও। তিনি আরো বলেন, বেপজা সরকারের কাছ থেকে অনেক ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধা পেয়ে থাকে। যেহেতু সিটি কর্পোরেশন তাদের শিল্পের গার্ভেজগুলোসহ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে অনেক সেবা দিয়ে যাচ্ছে, সেই বিবেচনায় যদি নূন্যতম একটি সার্ভিস চার্জ সিটি কর্পোরেশন পায়, তাহলে সত্যিকার অর্থে অবদান হিসেবে চিহ্নিত হবে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (বেপজা) চেয়ারম্যান মেজর জেনালের এস.এম সালউদ্দীন ইসলাম, প্রশাসকের বক্তব্যে সাড়া দিয়ে বলেন, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে অল্প সময়ে ভালো ভূমিকা রেখেছেন- যা প্রশসার দাবী রাখে। আমি সার্ভিস চার্জের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো এবং এ ব্যাপারে সবধরণের সহযোগিতা করবো। তিনি ইপিজেড এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাসেম, ইপিজেড এর জেনারেল ম্যানেজার মিসবাহ উদ্দিন মিসবাহ, বেপজা চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আলী ইশতিয়াক।

আর পড়ুন:   ১৭০জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও ১৭লাখ টাকা সম্মানী দিল চসিক