৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামে যে স্টীল মিলগুলো আছে আপনারা বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার। তবে আপনাদের ভারী যানবাহনগুলো সিটি কর্পোরেশনের সড়ক ব্যবহার করছে। এতে করে সড়কের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্তি বাড়তি চাপ বহন করতে হচ্ছে। এ জন্য সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করে আপনাদের ভারী যান চলাচলের উপযুক্ত করে রাখার জন্য একটি সার্ভিস চার্জ আমরা পেতেই পারি। আমি আশা করবো, আপনারা আপানাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে বসে চসিকের জন্য একটি সার্ভিস চার্জ আপনারাই নির্ধারণ করবেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসকের দপ্তরে স্টীলমিল মালিকদের সাথে সৌজন্য বৈঠকে প্রশাসক এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যে কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো স্থাপন করা হয়েছে, তা মোটেই পরিকল্পিত নয়। কথা ছিল বন্দরের ২০ কি.মি. পরেই কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো থাকবে। অথচ এই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বন্দরের প্রবেশ মুখে যত্রতত্রভাবে এসব ইয়ার্ডগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামে যানজট হচ্ছে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তিনি বলেন, পোর্ট কানেক্টিং রোডের স্টীলমিলগুলোর যে লরিগুলো পিসি রোড দখল করে রাখে, তা আগামী দুই একদিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে না নিলে সিটি কর্পোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ কোনো পাওনা থাকলে তা অতিসত্তর সময়ে পরিশোধ করার জন্য স্টীলমিল মালিকদের অনুরোধ জানান। শহরের সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রে আপনারা কর্পোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী করবেন বলে আমি আশি রাখি।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, রাজস্ব র্কমর্কতা সাহিদা ফাতেমা, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, বিএসআরএম’র পরিচালক তপন সেনগুপ্ত, কেএসআরএম’র পরিচালক সৈয়দ নজরুল আলম, আবুল খায়ের গ্রুপের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শহিদুল্লাহ চৌধুরী, জিপিএইচ ইস্পাতের মিডিয়া এ্যাডভাইজার অভিক ওসমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   জাতীয় সংসদ ঐতিহ্যের ধারায় এগিয়ে যাবে

ধুলোবালি মুক্ত রাখতে দ্বিতীয় ধাপে পানি ছিটালেন প্রশাসক

ধুলোবালি মুক্ত রাখতে নতুন রেল স্টেশন থেকে দ্বিতীয় ধাপে পানি ছিটাচ্ছেন চসিকের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

নগরীতে ধুলোবালি রোধে চসিকের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকালে নতুন রেল স্টেশন প্যারামাউন্ট সিটি থেকে জুবলী রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তায় পানি ছিটানোর কার্যক্রম দ্বিতীয় ধাপে শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী, কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা,প্যারামাউন্ট সিটির স্বত্বাধিকারী ডা. আবদুল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছালেহ আহমেদ, সোলেমান,  রাজনীতিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। রাস্তায় পানি ছিটানো কার্যক্রমে প্রশাসক বলেন, পানি ছিটানো কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অব্যাহত রাখবে। তার সাথে সাথে সকলে যার যার প্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়মিত পানি ছিটানোর আহ্বান জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, ধুলোবালি বেশি হয় রাস্তা খোড়াখুড়ির কারণে। তাই চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে বলেছি যেখানে রাস্তা খোড়াখুড়ি হবে, সেখানে কর্পোরেশনের রাস্তা সংস্কারের গাড়িও উপস্থিত থাকবে। ওয়াসার কাজ শেষ করার সাথে সাথে কর্পোরেশন রাস্তাটি পুনরায় সংস্কার করে ফেলবে। এতে করে ধুলোবালি কিছুটা হলেও কমবে। এই কাজে সকল সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানসহ নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রশাসক।

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দুর্গোৎসব পালন করার আহ্বান

চসিক কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরীর পূজা মন্ডপ সমূহে আর্থিক অনুদান তুলে দিচ্ছেন চসিকের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। কালের বিবর্তনে এ উৎসব সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসব আয়োজনে চসিকের ব্যাপকতা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এ আহ্বান মনে প্রাণে বিশ্বাস করে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম সম্পাদন করার পরামর্শ দেন। তিনি করোনা মহামারীকালে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উদযাপনের আহবান জানান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চসিক কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগর পূজামন্ডপ সমূহের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রশাসক এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দেশ সবার, সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রয়াসে দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। এবার চসিকের পক্ষ থেকে নগরীর প্রতিটি পূজামন্ডপে জেনারেটর বাবদ ২ হাজার টাকা করে  ২৭০টি পূজা মন্ডপে অনুদান দেয়া হয়েছে। আলো-বাতি, পানিয় জল, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিসর্জন ও নিরাপত্তা বিধানসহ যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তিনি বলেন, অশুর শক্তি পরাজিত হবে এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত ও শুভশক্তির বিজয় হবে। তিনি আশা করেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ মহান উৎসবে সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সকল ধর্মীয় সম্প্রদায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। চসিক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, চট্টগ্রাম মহানগর পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত বক্তব্য রাখেন।