৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামে জনসংখ্যা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল। চট্টগ্রাম জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করলেও সে তুলনায় নাগরিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর চাপ কমাতে অঞ্চল ভিত্তিক জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তোলা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিটি রোগীর জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার আহ্বান জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল, ফলমূল, মাছ, শাকসবজীতে ফরমালিন প্রয়োগে ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আমরা প্রয়াস চালাচ্ছি, এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে। তিনি আজ বুধবার সকালে চমেক হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, করোনা রোগীসহ বিভিন্ন রোগীদের দিন-রাত সেবা দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অসহায় ও অসুস্থ মানুষের সেবা করা মানে আল্লাহর সেবা করা। সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করা যাবে না।  করোনাকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনেক অবদান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে এই হাসপাতালটি সাধারণ ও মুমূর্ষু রোগীদের যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা অতুলনীয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেবার মান আরো উন্নত করার আহ্বান জানান। এ সময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর, উপ পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আফতাবুল ইসলাম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, চমেক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ, ডা. নাজমুল হাসান, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চকবাজার ধুনীরপুল হতে রাহাত্তারপুল পর্যন্ত ক্যারাভান কার্যক্রমে প্রশাসক

নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে রাস্তা সংস্কারের কাজ পরিদর্শন করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগর সেবায় ক্যারাভান একটি সামাজিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের সূত্র ধরে আমি সামাজিক মঙ্গল চাই। আমি যে এলাকাগুলোতে যাচ্ছি, সেখানে সমস্যার সূত্রগুলোকে নির্মূল করার চেষ্টা করছি। পরের দিনই সে সমস্যাগুলো আবার তৈরি হয়। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই আমার উদ্যোগে সতীর্থ হোন। তিনি আজ বুধবার বিকেলে চকবাজার ধুনীরপুল হতে রাহাত্তারপুল পর্যন্ত চসিক এর প্রকৌশল বিভাগ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এই এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে জলাবদ্ধতার সংকট রয়েছে। পাশাপাশি ভূমি দস্যুদেরও উৎপাত রয়েছে। যারা পানি নিষ্কাশনের মূল প্রণালী খাল দখল করেছে, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছে, অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এমনকি কর্পোরেশনের লাইন থেকে বিদ্যুৎ চুরি করছে। তাদেরকে গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করার আহ্বান জানাই। তিনি আরো বলেন, ধর্ষণ একটি জগণ্যতম অপরাধ। দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে এই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছেন। আমাদের সমাজে ধর্ষকরা লুকিয়ে আছে এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে  সামাজিকভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে। ধনীয়াপুল এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, এ ধনীয়াপুল বাজারে কোনো গণশৌচাগার নাই। তাই তিনি এলাকাবাসীদের একটি  গণশৌচাগার স্থাপনের আশ্বাস দেন। কে বি আমান আলী রোড সংস্কার কারায় এলাকাবাসী প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান। প্রশাসক রাহাত্তারপুল এলাকায় একটি স-মিলের কাঠ অবৈধভাবে নালা ও ফুটপাতের উপর রাখায় প্রশাসক তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানসহ মালামাল জব্দ করা হবে। এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত  ছিলেন। এছাড়া প্রশাসক নগরীর এফ আই ডি সি রোডস্থ শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগাদা দেন। 

আর পড়ুন:   করোনা হাসপাতালে আগুন ইরাকে, ২৩ জনের মৃত্যু

 

রাস্তার উপর অবৈধ গাড়ী পাকিং করলে জরিমানা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান এর নেতৃত্বে আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর বন্দর থানাধীন পোর্ট কানেকটিং রোডের উপর অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা ট্রাক, কাভার্টভ্যান ও ট্রেলার অপসারণ করা হয়। এসময় অবৈধভাবে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির দায়ে আটটি কাভার্টভ্যান/ট্রেলার মালিক/চালককে চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন  পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।