৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। করোনা মহামারীর কারণে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়ে আমাদেরকে দুর্গাপূজার কর্মসূচিগুলো সাজাতে হবে। তাই করোনা মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুর্গোৎসবের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে হবে। সকলকে মনে রাখতে হবে পুণ্য করতে গিয়ে নিজেকে বিসর্জন করা যাবে না। তিনি আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে  পূজামণ্ডপ ও মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ভাঙ্গাচূড়া রাস্তাগুলো অতিদ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেসব স্থানে লাইট এর সমস্যা আছে তা দ্রুত সমাধান করা ও রাস্তার প্রতিটি মোড়কে আলোকিত করতে হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে চসিক প্রকৌশল বিভাগের যান্ত্রিক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সমন্বয় সভায় প্রশাসক এসব কথা বলেন। তিনি দুর্গাপূজা চলাকালীন সময় বিদ্যুতের কোনো রকম সমস্যা যাতে না হয় সেজন্যে  পিডিবির সহযোগিতা কামনা করেন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি যা যা প্রয়োজন  তার ব্যবস্থা রাখা, পূজা মন্ডপগুলোতে আগত পূজার্থীদের জন্য সুপেয় পানি পানের ব্যবস্থাসহ সকল ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক চসিকের সেবা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলারও নির্দেশনা প্রদান করেন প্রশাসক।

এসময়  প্রধান নির্বাহী র্কমর্কতা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান প্রকৌশলী লে.র্কণেল সোহেল আহমদ পিএসসি, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল  ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, মনিরুল হুদা, আবু ছালেহ, সুদীপ বসাক, ঝুলন কুমার দাশ, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরীসহ নির্বাহী প্রকৌশলীগণ উপস্থতি ছিলেন।

আধুনিক আবাসিক হোটেল গড়ে তোলার জন্য হোটেল মালিকদের প্রতি আহ্বান

চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে আবাসিক হোটেল মালিকদের সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পাশাপাশি নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোকে মান সম্পন্ন আধুনিক আবাসিক হোটেল গড়ে তোলার জন্য হোটেল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য আবাসিক হোটেলগুলোর সামনে বাহারী  ফুলের বাগান ও বৃক্ষের চারা রোপণ করে হোটেলের সৌন্দর্যবৃদ্ধি করে পরিবেশ -বান্ধব হোটেল গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রশাসক চট্টগ্রাম আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির দাবী-দাওয়া বিবেচনায় নিয়ে জানান, ট্রেড লাইসেন্স এর সারচার্জ মওকুফের সময় আপনাদের সুবিধার্থে আরো বৃদ্ধি করা হবে। তিনি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে তা হোটেলের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান ঝুলিয়ে রাখার আহ্বান জানান। এছাড়া ডিলিং লাইসেন্স ৩ বৎসরের মেয়াদের স্থলে ১ বছর পর পর নবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। প্রশাসক আরো জানান, পর্যটন মন্ত্রণালয়কে একটি ডিও লেটার পাঠানোর জন্য স্থির করা হয়েছে। এই ডিও লেটার পাঠানোর আগে আপনারা যারা আবাসিক হোটেলের ব্যবসা করেন আপনাদের পক্ষ থেকে কি কি সুবিধা চান তা একটি প্রতিবেদন আকারে আমার কাছে আপনারা প্রদান করুন। আমি আমার ডিও লেটারে আপনাদের পরামর্শগুলো সন্নিবেশিত করব।  আজ মঙ্গলবার সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগর ভবনে অনুষ্ঠিত গণসাক্ষাতকার গ্রহণ কার্যক্রমে এসব কথা বলেন প্রশাসক।

আর পড়ুন:    কাঁকড়া খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু,  বন্ধু আইসিইউতে

এছাড়াও দুবাই থেকে আগত বাংলা এনার্জি কো. লি. এর কান্ট্রি প্রধান সাখাওয়াত খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসকের সাথে গ্রিন এনার্জি  গার্ভেজ বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সাক্ষাত করতে এলে প্রশাসক বলেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম হবে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর। তিনি চট্টগ্রাম থেকে কুমবিং পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের কথা গণসাক্ষাতকারে উল্লেখ করেন।  আজকের এই গণসাক্ষাতকারে ৭০ জনের অধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে যারা বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথাগুলো জানিয়েছেন সেগুলো তিনি আমলে নিয়েছেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। তিনি নগরবাসীকে চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি নগরবাসীর অভাব অভিযোগুলো যাচাই-বাছাই এবং এর সত্যতা খতিয়ে দেখে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা পুনঃউল্লেখ করেন। এসময় চসিক প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধান শিক্ষক ফোরামের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া নগর উন্নয়ন সম্ভব নয়

চসিক প্রধান শিক্ষক ফোরাম নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলোয় যারা আলোকিত নয়, তারা সত্যিকার অর্থেই অন্ধ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নগরীর ৬০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। নগরবাসীকে শিক্ষায় এগিয়ে রাখার জন্য সাবেক মেয়র এ.বিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন ।  প্রশাসক প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হচ্ছেন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। শিক্ষকরা হলেন জাতির বিবেক। আপনারাই আমাদের আদর্শ। আপনারা জেগে উঠুন, আপনারা জাগলে নগরবাসী জাগবে আর নগরবাসী জাগলে পুরো বাংলাদেশ জেগে উঠবে। তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া নগর উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আজ বিকেলে আন্দরকিল্লাস্থ কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে চসিক প্রধান শিক্ষক ফোরামের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা মহামারীকালে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুবিধার্থে অন-লাইনে ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখার নির্দেশনা দেন প্রশাসক। প্রধান শিক্ষক ফোরাম প্রশাসকের নিকট তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে প্রশাসক তা নিরসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।  প্রধান শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দ আনুতোষিক ভাতা প্রদানের জন্য চসিক প্রশাসককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং যে সমস্ত শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে গিয়েছেন তাদের সময়কালীন সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ জানান। এ সময় প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান শিক্ষা ফোরামের সভাপতি মো. আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক মো. আকতার হোছাইন, সহ সম্পাদক টিংকু ভৌমিকসহ অন্যান্য প্রধান শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   ভোটের কাজে তুলে নেয়া হবে সরকারি বাস, ভোগান্তির আশঙ্কা