৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি। স্থানীয়দের মূল্যবান বাড়ি-ভিটা অধিগ্রহণ করে সম্প্রসারিত হয়েছে আজকের কর্মমুখর বন্দর। এই সমৃদ্ধ অঞ্চলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী স্থানীয় জনসাধারণ ছাড়াও রুটি-রুজির জন্য এখানে আসা দেশের ৬৪ জেলার মানুষ চিকিৎসার মত একটি মৌলিক অধিকার সহজে ভোগ করতে পারছেন না। তাছাড়া বন্দর এলাকায় অবস্থিত দু’ দু’টি ইপিজেড শিল্পাঞ্চলে কর্মরত লাখ লাখ নারী শ্রমিকের জন্য কোনো মাতৃসদন হাসপাতাল নেই। যা অত্যন্ত মর্মবেদনাদায়ক। বছরের পর বছর ধরে আমি নিজেও বন্দর এলাকায় একটি মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল করার জন্য সোচ্চার ছিলাম। অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় আমি গত ৬ আগস্ট থেকে নগরবাসীর খেদমত করার সুযোগ প্রাপ্ত হয়েই এ এলাকার চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘদিনের আকুতি ও দাবী আমলে নিয়ে বন্দর এলাকায় একটি মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নানের কাছে উপানুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে একটি অফিসিয়াল প্রস্তাব পাঠাই। আমার এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত হাসপাতালের বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় ভূমি চিহ্নিত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেন। উক্ত কমিটি বর্তমানে এই বিষয়ে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, এটা আমাদের জন্য সুখবর। উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকায় মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় যৌক্তিকতা উপস্থাপন করেন প্রশাসক। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা আমার নগরীর গর্বের ধন। এই এলাকায় স্থানীয়-অস্থানীয় সব মানুষ আমার আপনজন। তাদের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আমার প্রস্তাবিত মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে- ইনশাল্লাহ। আজ  রবিবার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে নাগরিক উদ্যোগ নেতৃবৃন্দ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত হাসপাতালের জন্য ৬টি ভূমির প্রস্তাবনা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এই ছয়টি ভূমি হলো যথাক্রমে-১. বন্দরটিলাস্থ টিসিবি ভবনের পেছনের মাঠ, ভূমির মালিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ২. পুরাতন পোর্ট মার্কেট সংলগ্ন রেল লাইনের উত্তর পার্শ্বে, রেলওয়ের ভূমি, ৩. সল্টগোলা রেল ক্রসিং আজাদ কলোনী মাঠ, ভূমির মালিক সিডিএ, ৪. নিমতলা ট্রাক টার্মিনালের অপর পাশে, ভূমির মালিক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ৫. আউটার রিং রোডের পূর্ব পার্শ্বে বা কান্ট্রি সাইটে আনন্দ বাজার থেকে ধুমপাড়া পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং বড় বড় সরকারি খালি ভূমি ও ৬. র‌্যাব-৭ সংলগ্ন এলাকায় ‘নারী প্রজেক্ট’ ভূমির মালিক বেপজা । সিটি প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের হাতে এসব লিখিত প্রস্তাব তুলে দেন নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, নাগরিক উদ্যোগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাজী মো. ইলিয়াছ, সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, সমন্বয়কারী মোরশেদ আলম, আবদুর রহমান মিয়া প্রমুখ।

আর পড়ুন:   পরীক্ষা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

চসিক প্রশাসকের সাথে ইপিজেড এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনে যাচাই কমিটির সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের নিকট হাসপাতালের জন্য ভূমির প্রস্তাবনা হস্তান্তর করছেন নাগরিক উদ্যোগ নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং সন্নিহিত এলাকায় নারী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের চিকিৎসাজনিত ভোগান্তি হ্রাসকল্পে একটি মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আজ রবিবার সকালে টাইগারপাসস্থ প্রশাসক দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে প্রশাসক বলেন, এলাকার জনগণের নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষে দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে লাখ লাখ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে। তিনি তাঁর প্রস্তাবিত মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল বাস্তব পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় গুরুত্ব দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালিককে ধন্যবাদ জানান। প্রশাসক কমিটিকে নাগরিক উদ্যোগের দেয়া ৬টি চিহ্নিত স্থান পরিদর্শন করে দ্রুত স্থান নির্ধারণ করার জন্য তাগিদ দেন। তিনি এ ব্যাপারে চসিক ও তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কমিটির সদস্য সচিব চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা সেলিম আকতার চৌধুরী, কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়াজিদ চৌধুরী। পরে প্রশাসক নাগরিক উদ্যোগের দেয়া স্মারকলিপিতে ৬টি চিহ্নিত স্থানের নাম কমিটির নিকট হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান বরাবরে চট্টগ্রাম ইপিজেড ও সন্নিহিত এলাকার বিশাল সংখ্যক কর্মজীবী ও মানুষের চিকিৎসার নিমিত্তে মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে একটি ডিও পত্র প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার স্মারক নম্বর ৪৫.০০.০০০০.১৫৫.৯৯.০০৬.১৮-৭৮১ মূলে চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং সন্নিহিত এলাকার নারী শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের চিকিৎসাজনিত ভোগান্তি হ্রাসকল্পে একটি মাতৃসদন কাম জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইকল্পে সংশ্লিষ্ট এলাকার জরিপসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করার জন্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে নির্দেশনা দেন।

আর পড়ুন:   চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে

এমপি’র সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

আগামীকাল  সোমবার বিকাল ৪টায় টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সাবেক মন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আফসারুল আমিন চৌধুরী এমপি ও এম.এ লতিফ এমপি’র সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ।

উক্ত দোয়া মাহফিলে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অনুরোধ জানিয়েছেন।