৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সব থেকে বড়কথা তিনি (বঙ্গবন্ধু) যে পররাষ্ট্র নীতিটি দিয়ে গেছেন আমাদের ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’। আমি কিন্তু সরকার গঠন করার পর থেকে সেই নীতি নিয়েই চলছি। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সমাজিক উন্নয়নের দিকে আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি।

আজ শুক্রবার (২৫সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা ভাষণ দান স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে এই সভায় যুক্ত হোন।

তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে হলে, বর্তমান যুগটা হচ্ছে, বিশ্ব একটা গ্লোবাল ভিলেজ। সেখানে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে দরকার। আমরা যাই কিছুই করতে যায় না কেন সবকিছুতে সকলের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।

করোনাভাইরাসের এই সময়েও আর্থিক কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত রাখা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জিডিপি যেটা টার্গেট ছিল যে ৮ দশমিক ২ শতাংশের ওপরে যাব, সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমরা এবার ৫ দশমিক ২৪ শতাংশের মত অর্জন করতে পেরেছি। কিন্তু আমরা আশা করি, আগামীতে আমাদের প্রবৃদ্ধি আমরা আরো বেশি অর্জন করতে সক্ষম হব। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মুজিববর্ষে জতির পিতার স্বপ্নের ‘ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার সংকল্পের কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী ছিল, এই দারিদ্র্যের হার আমরা কমিয়ে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে এনেছি। আমরা আরো কমাতে চাই। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে একটা সুন্দর জীবন আমরা উপহার দিতে চাই। আর সেজন্য বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই বিশ্বে কেউ একা চলতে পারে না। তাই সকলের সহযোগিতা আমাদের কাম্য। পাশাপাশি কাউকে কোনো ধরনের সহযোগিতা যদি করতে হয়, আমরা সেটা করতেও প্রস্তুত। বাংলাদেশ সবসময়ই চায় সারাবিশ্বে একটা শান্তি বজায় থাকুক।

আর পড়ুন:   চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় সরকার দক্ষ মানবসম্পদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে নানাধরণের সংঘর্ষ আছে সেখানে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীর অধিনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী প্রত্যেকে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। অনেক সৈনিক জীবনও দিয়ে গেছেন। শুধু একটা কথাই বলবো, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সবসময়ই প্রস্তুত।

কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্বে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্বও পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু রাজনৈতিক কূটনীতি না, অর্থনৈতিক কূটনীতি। এখন কূটনীতিটা অর্থনৈতিক কূটনীতিতে চলে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। সকলের সঙ্গে মিশে কীভাবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করা যায়। উন্নয়ন করা যায়। একে অপরকে কীভাবে সহযোগিতা করার মাধ্যমে কীভাবে বিশ্বে শান্তি আনা যায় সেভাবে আমাদের কূটনীতিটা চালাতে হবে।