৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা প্রতিনিধি *

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক ও কেরানিসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ৪৫জন কোটিপতির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় আছেন অধিদফতরের গাড়িচালক, অফিস সহকারী, স্টোরকিপার ও কম্পিউটার অপারেটর। অনুসন্ধানে এসব কর্মচারীর অস্বাভাবিক সম্পদ পাওয়ায় সম্পদ বিবরণীর নোটিশও জারি করেছে দুদক।

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আবদুল মালেকই শুধু নয়, এরকম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আরো যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সাল থেকে আমরা একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করি। এরইমধ্যে মালেকসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে।

তাদের মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাও হয়েছে। অনুসন্ধানে সম্পদের বৈধ উৎস না পাওয়ায় এরইমধ্যে তাদের ১২ জনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক। বাকিদের নামেও সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হবে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য খাতের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২০ জনের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে রয়েছেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি ও তার স্ত্রী রিফাত আক্তার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার, গাড়িচালক মো. আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী বিলকিচ রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের স্টাফ নার্স মোসা. রেহেনা আক্তার, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. ইমদাদুল হক ও তার স্ত্রী মোছা. উম্মে রুমান ফেন্সী, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. মাহমুদুজ্জামান ও তার স্ত্রী মোছা. সাবিনা ইয়াছমিন, গাজীপুরে শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের অফিস সহকারী কামরুল হাসান ও তার স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা, গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, বরিশালে পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান (নন মেডিকেল) বর্তমানে সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মীর রায়হান আলী এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাব রক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

আর পড়ুন:   দিল্লির দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৮  

গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এসব নোটিশে বলা হয়েছে, তাদের নিজের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী এই আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘গাড়িচালক মালেকের মতো দুর্নীতিবাজ আরো বেরোবে’: স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক আবদুল মালেকই শুধু নয়, এরকম দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আরো যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের যে নিয়ম আছে তাতে তার ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুধু তাই নয়, আরো যারা এ রকম আছে তাদের ব্যাপারও প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আরো এ রকম আছে, আরো আসবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মালেককে গত রবিবার অস্ত্র ও জাল টাকাসহ গ্রেফতারের পর তার শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। ৬৩ বছর বয়সী মালেক স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকের (ডিজি) গাড়ি চালাতেন।

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীকালে স্বাস্থ্য খাতের নানা দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার পর সমালোচনার মুখে ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করলে অধিদফতরের পরিবহন পুলে সংযুক্ত ছিলেন তিনি। মালেক ৩৮ বছরের চাকরি জীবনে ৩৪ বছর ধরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন কর্মকর্তার গাড়ি চালিয়েছেন ।