৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরবসীর দুর্ভোগ লাঘবে আমি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাগুলো শুনে  তার দ্রুত সমাধানের জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি নগরবাসীর হৃদয়মনের কাছাকাছি পৌঁছে তাদের চাওয়া পাওয়া এবং অপূর্ণ আকাঙ্খাগুলো জানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোন কোন ক্ষেত্রে অনিয়ম অস্বচ্ছতা গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনাগত শৃংখলার অভাব রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সেবাখাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাকে অবশ্যই অন্তরে ধারণ করতে হবে।   তিনি বলেন, চসিকের সাথে সাধারণ জনগণের সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যই এই গণ স্বাক্ষাতকারের ব্যবস্থা। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগরভবনে গণস্বাক্ষাতকার গ্রহণ কার্যক্রমের ২য় দিনে তিনি এ কথাগুলো বলেছেন। আজকের এই গণসাক্ষাতকারে ২৪ জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের সাথে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে যারা বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথাগুলো জানিয়েছেন সেগুলো তিনি আমলে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করে বলেন, আপনাদের অভাব অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই এবং এর সত্যতা খতিয়ে দেখে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নগরবাসী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে আসলেও তা সমাধানের চেষ্টা করবো। এসময় চসিক   সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চসিক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের পোষাক বিতরণ

চসিক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের পোষাক বিতরণের পর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সাথে চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রয়াত সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সেবক উপাধী দিয়ে মর্যাদার আসীন করে গেছেন। এযাবতকাল সেবকদের জন্য এমন দরদী মানুষ আমি আর দেখি নি। সেবকদের পোশাক পরিচ্ছেদেও তিনি নতুনত্ব এনেছিলেন। তাঁর আদর্শের অনুসারী হিসেবে আমি  গর্বিত। আজ মঙ্গলবার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সেবকদের নতুন পোশাক বিতরণকালে প্রশাসক একথা বলেন। তিনি বলেন, সেবকদের এই পোষাক অনেক মর্যাদার। এই পোষাক আপনাদের দায়িত্বজ্ঞাণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে। ৬০ লক্ষ নগরবাসীদের সেবক আপনারা। এথেকে বড় গর্বের বিষয় হয়ত আর হয় না। প্রশাসক কর্তৃপক্ষের সন্তুষ্টি ও নগরবাসীর সেবক হিসেবে নিজেদের কর্মসম্পাদনের জন্য সেবকদের প্রতি আহবান জানান। প্রশাসক আগামীতে মৌসুম ভিত্তিক শীত ও বর্ষার জন্য আলাদা পোষাক দেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন পরিচ্ছন্ন সুপারভাইজারদের জন্যও আলাদা পোষাক বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারিকালে আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে তার জন্য তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। সমাজের অনেক শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন নিজেদের দায়িত্বকে পদদলিত করে ঘরে বসে দিন কাটিয়েছেন। তখন আমাদের পরিচ্ছন্ন সেবকরা  কোনো প্রকার সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই বীর দর্পে কাজ করে শহর পরিচ্ছন্ন রেখেছেন। আমি আশা করি আগামীতেও আপনারা এরকম ভুমিকা রাখবেন। এসময় চসিক প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা   সফিকুল মান্নান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   চট্টগ্রামে আরও ৭৪২ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ৪

চসিক প্রশাসকের সাথে বদরশাহ পুকুর অংশীদারদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বদরশাহ পুকুর অংশীদারদের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বদরশাহ পুকুর একটি ঐতিহাসিক পুকুর। বদর আওলিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। আগামী প্রজন্ম যেন এর ইতিহাস ও জৌলুস সম্পর্কে জানতে পারে, এজন্যই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এ প্রয়াস। এ  ঐতিহাসিক পুকুরের পার্শ্ববর্তী চলাচল পথ ও বিদ্যমান সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, মামলা হলো একটি দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাপার। এতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হয়ে থাকে। আন্তরিক আলাপ-আলাচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আমি মনে করি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগরভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে বদরশাহ পুকুরের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক এসব কথা বলেন। প্রশাসক আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী ও মাজারে আগত ভক্তবৃন্দ এর সুফল ভোগ করবে। বদরশাহ পুকুরের উন্নয়ন হলে উভয় পাড়ের জনগণ এবং মসজিদে আগত মুসল্লীরা নামাজ শেষে ওয়াকওয়ে ব্যবহার করতে পারবে। প্রশাসক বিরোধকৃত চলাচল পথের অংশিদারদের সাথে আলাপ আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুনরায় বৈঠকের মাধ্যমে এর আশু সমাধান আসবে বলে মত প্রকাশ করেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, এলাকাবাসীর পক্ষে মো. হারুনুজ্জামান, দিদারুল আজিম খান, মহিউদ্দিন শাহ, আবুল হাসেম, হাবিবুল্লাহ, নুরুল হুদা, আহমুদুর রহমান বাবুল, আকতার আজিম খান, আবদুল কাইয়ুম সুমন, জসিম উদ্দিন, জানে আলম, সৈয়দ আবুল বশর ও মোজাম্মেল হক মানিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম নগরীর বদরপাতিস্থ বদর পুকুরটি কিছু দিন আগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করে পুকুরটির সংস্কার কাজ শুরু করে। সংস্কার করার পরবর্তী মানুষের হাঁটার জন্য পুকুরের চারদিকে করা হচ্ছে ওয়াকওয়ে ও আলোকায়ন ব্যবস্থা করা হবে।

আর পড়ুন:   এমসিসি ক্রিকেট কমিটি থেকে সাকিবের পদত্যাগ

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস  এর নেতৃত্বে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লাভলেইন মোড় হতে এনায়েত বাজার মোড় পর্যন্ত জুবিলী রোডের উভয় পার্শ্বের প্রায় ৩০টির মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকানের অংশ বর্ধিত করে ও দোকানের সামনে ফুটপাতে মালামাল স্তুপ করায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অভিযানে দোকানের বর্ধিত অংশ উচ্ছেদ ও মালামাল অপসারণ করা হয় একই সাথে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩৭০০০/- (সাইত্রিশ হাজার ) টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী  ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়কে সহায়তা প্রদান করেন।