৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে চতুর্থ শ্রেণির বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী রবিউল ইসলাম (৪৩)। এ মামলায় দ্বিতীয় দফা তিনদিনের রিমান্ড শেষে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ) দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হামলা চালানো হয়। মাথায় হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত ওয়াহিদা এখন ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবাও ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

তদন্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর জানান, গত জানুয়ারিতে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে  সাময়িক বরখাস্ত  করেন রবিউলকে। এ কারণে রবিউল ক্ষুব্ধ হন ইউএনও ওপর। ১ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়। আর এতেই রবিউল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে হামলা করেন। রবিউল ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে দিনাজপুর থেকে ঘোড়াঘাট চলে যান। সেখানে ওসমানপুরে রাত ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। তারপর সময় বুঝে গভীর রাতে উপজেলা পরিষদে যান। দেয়াল টপকে ইউএনওর বাসভবনে ঢুকে রবিউল একাই ইউএনও এবং তার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করেন।

তিনি আরো জানান, রবিউলের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করার পাশাপাশি ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রবিউল ছাড়া বাকি চারজন এখনও জেল হাজতে রয়েছেন।