৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য ও মানবিক নগরীতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া হাতে নিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়েছি, এতে যতটুক সফল হই তা আগামীতে যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাঁদের চলার পথ সুগম করবে।

চসিক শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাথে মতবিনিম সভায় বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শনিবার ( ১৯ সেপ্টম্বর)  সকালে আন্দরকিল্লাস্থ পুরাতন নগর ভবনের কে.বি.আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে চসিক শ্রমিক কর্মচারী লীগের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় একথাগুলো বলেছেন। তিনি চসিক শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নগরীর ৬০ লাখ মানুষের সেবা দিতে গিয়ে যারা শ্রম বিক্রি করছেন তারা আমার কাছে শ্রেষ্ঠ মানুষ। যারা শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় রাত-দিন পরিশ্রম করে এ নগরীকে পুত:পবিত্র ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখছেন তাদের প্রতি রইল আমার অন্তর নিংড়ানো ভালোবাসা। তাদের কর্মকাণ্ডকে আমি স্যালুট জানাই। সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিক কর্মচারীরাই আমার কন্ঠস্বর এবং আমারই অঙ্গ। সাবেক মেযর এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চসিক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সেবকের মর্যাদা দিয়েছেন, সেই মর্যাদাকে আমি ধরে রাখবো। শ্রমিক কর্মচারীরা মূল্যায়িত হলে আমি কৃতার্থ হবো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে ডোর-টু-ডোর শ্রমিকদের একটি অংশ কাজ না করেও হাজিরা দিতো-এটাকে আমি অপকর্মই বলবো। দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে হয় সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজে যারা ইট-বালু-পাথর-সিমেন্ট সরবরাহ করতো তাদের পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় তারা নির্মাণ ঠিকাদারদের মালামাল পর্যন্ত দিতে চায় না। তাই কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে এ ব্যাপারে ত্বড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রশাসক চসিক শ্রমিক-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবীগুলো যৌক্তিক বলে অভিহিত করে বলেন, বর্তমানে আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় দাবীগুলো এখনই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এজন্য একটি সুপারিশ আমি করে যাব। তিনি জানান, ইতিমধ্যে গত মাসের প্রথম তারিখ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেছি। আগামীতেও শ্রমিক-কর্মচারীরা যাতে মাসের প্রথম তারিখ বেতন পায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। যারা অবসরে গেছেন তাদের ক্রমানুসারে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে বকেয়া পাওনা পরিশোধের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুঃখ আমি হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করি। প্রশাসক করোনাকালে নগরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা এবং ত্রাণ বিতরণে চসিকের মোট জনবল যেভাবে অবদান রেখেছে তারা বিশেষভাবে মূল্যায়িত না হলেও আমি স্বীকার করি এই দুর্যোগকালীন সময়ে তারা একটি মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের শীত-বর্ষাসহ মৌসুমী পোষাক ও সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করা হবে। তবে পরিস্কার করে বলতে চাই কর্পোরেশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র মক্কা শরীফে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজ্বব্রত পালনকারীদের নানাভাবে সেবাদান করেছি। এটা আমার মানবিক ও নৈতিক কর্তব্য ছিল। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন আমাদের প্রত্যেককে শুদ্ধাচারী জীবন-যাপন করার তৌফিক দান করেন। তাই আমি চসিক শ্রমিক কর্মচারীদের বলতে চাই আপনারা শুদ্ধাচারী জীবনযাপন করুন এবং পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে আপনাদের যেন কোনো কলঙ্ক স্পর্শ না করে। মতবিনিময় শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চসিক শ্রমিক কর্মচারী লীগ সভাপতি ফরিদ আহমদ, জাহেদুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী প্রমূখ। এছাড়া প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেমসহ শ্রমিক কর্মচারী লীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।

আর পড়ুন:   পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নতুন চেয়ারম্যান আবু বকর

সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের সাথে চসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাত

সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের সাথে আজ শনিবার ( ১৯ সেপ্টম্বর) সকালে তাঁর লালখান বাজারস্থ বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই সময় তিনি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এম.পি-কে তাঁর নির্বাচনী এলাকার অংশ নগরীর মোহরা থানার বিদ্যমান সমস্যা সহ   জনদুর্ভোগসমূহ অবহিত করেন এবং এসব লাঘবে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। এই সময় প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা,স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিভাগের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে সক্রিয় রাখার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন,চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ,চট্টগ্রাম ওয়াসা,পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ২৩ টি সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন যে, তাঁর দায়িত্বকালীন বেঁধে দেয়া সমযের মধ্যে নগরবাসীর সেবা প্রদান নিশ্চিত ও জনদুর্ভোগ লাঘবে করণীয় কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং এই কার্যক্রমের সুফলগুলো পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান হচ্ছে। তিনি আরো জানান, চসিককে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মূলক অপচয় ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগরবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তির উপর দাঁড় করানোটাই এখন একমাত্র ব্রত। মোছলেম উদ্দিন আহমেদ প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের কর্মপন্থা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, একজন রাজপথের সাহসী রাজনীতিক হিসেবে নগরবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতা তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিকে পাকাপোক্ত করেছে। তিনি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সুখ-দু:খের কথা ঊর্ধ্বতন মহল ও কর্তৃপক্ষ বরাবরে তুলে ধরবো।

চসিক প্রশাসকের সাথে ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সাক্ষাত

ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে গতকাল রাতে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাত করেন এবং তাদের দাবী দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে কর্মচারী ছাঁটাই সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ১৩ মে ২০২০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর থেকে ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষকে ছঁটাইকৃত কর্মচারীদের চাকরীতে পুনবর্হাল,বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ইউএসটিসি কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের এ অনুরোধ অদ্যাবধি আমলে আনেন নি। ফলে কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং নিবর্তনমূলক নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার কর্মচারীরা অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। স্মারকলিপিতে এ বিষয়ে সম্মানজনক সুব্যবহারে চসিক প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রশাসক মহোদয় তাৎক্ষণিক ইউএসটিসির ভিসি ড. জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে  মানবিক দিক বিবেচনায় এবং একই পরিবারের সদস্য বিবেচনায় তাদের কর্মচ্যুতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান জানান। প্রশাসক স্মারকলিপি প্রদানকারীদের আশ্বস্থ করে বলেন, ইউএসটিসি কর্মচারীদের উপর কর্তৃপক্ষের এই আচরণ অমানবিক। কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে নমনীয় পোষণ করে যাতে কমচারীদের যৌক্তিক দাবীগুলো মেনে নেন। সে ব্যাপারে আমি যথাযথ পদক্ষেপ নেব। এসময় ইউএসটিসি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোহম্মদ মানিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোলায়মানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   টেকনোক্রেট মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর