৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আনন্দিপুর সড়কে নিম্নমানের ইট পাথরসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে সড়কের মেকাডম কাজ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায়  আকষ্মিক পরিদর্শন করেন এবং ঢালাই কাজের ব্যবহৃত ইট পাথর ও নির্মাণ সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে তা যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সড়কের এই অংশটি থেকে সংস্কার করা কাজ আবার নতুন করে শুরু হবে বলে তিনি জানান। তিনি এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সড়কের কাজের গুণগতমান ঠিক-ঠাকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা দেখভালের দায়িত্ব চসিকের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও। যেহেতু এ সড়ক আপনারাই ব্যবহার করবেন এবং আপনাদের প্রদেয় ট্যাক্সেই অর্থায়ন সেহেতু কাজ ষোলআনা বুঝে নিবেন। সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা নয়-ছয় হচ্ছে কিনা তা অবগত হওয়ার সাথে সাথে আমাকে জানান দ্রুত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে-ইনশাল্লাহ্। তিনি ধারাবাহিক তদারকির অংশ হিসেবে পোর্ট কানেকটিং রোডের উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সারা দেশের সড়ক পথে আমদানি ও রপ্তানি পণ্য পরিবহণের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে এই সড়কটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় চট্টগ্রামের বন্দর রক্ষণা-বেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং বন্দর-সংশ্লিষ্ট সড়ক অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও পরিচর্যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা পূর্বের চেয়ে ৬ ধাপ এগিয়েছে। এতে গুরুত্বের সাথে ভূমিকা রেখে চলেছে পিসি রোড। তাই আমি দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে পিসি রোডের বিদ্যমান বেহাল অবস্থা নিরসনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকি থাকলে যে কোনো কঠিন কাজ সু-সম্পন্ন করা সম্ভব। এর উদাহরণ হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং রোড। প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন আজ শুক্রবার বিকেলে সাগরিকা থেকে নিমতলা পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোড সরেজমিনে পরিদর্শন এবং নাগরিকদের সাথে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে কথা বলেন।

                                                                                               আনন্দিপুর এলাকায় অভিযুক্ত রাস্তা দেখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

পরিদর্শনকালে তিনি সড়কের দুইপাশে সকল অবৈধ স্থাপনা দোকান-পাট, ফুটপাতের উপর রাখা নির্মাণ সামগ্রী এবং এই সড়কের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ট্রাক-লরি-কাভার্ডভ্যান -মুভার ও রিকশা স্ট্যান্ডগুলো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তা না হলে এসব উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন যে কোনো মূল্যে জন ও যান চলাচলের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হবে। এছাড়া পোর্টকলোনী অংশ থেকে নিমতলা পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশ দখল করে লরি, ট্রাক, কাভারভ্যানগুলো সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান। নচেৎ জরিমানার মাধ্যমে রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। প্রশাসক পিসি রোডের দু’পাশের এলাকাবাসীকে ধৈর্য্য ধারণের আহবান জানিয়ে বলেন, পোর্ট কানেকটিং রোডের সংস্কার ও নির্মাণকাজ এখন অনেকটা দৃশ্যমান, আশা করা যায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তিনি বড়পুল মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্যটি রক্ষণা-বেক্ষণ এবং তার আশে পাশে কোনো ধরনের পরিবহন স্ট্যান্ড বা অবৈধ স্থাপনা বসিয়ে এর সৌন্দর্য ও পবিত্রতাহানী না করার পরামর্শ দেন। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে আরো আবেদন জানান যে, সিটি কর্পোরেশনের যে সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান দ্বারা জবর-দখল হয়ে আছে সে সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হলে এ সম্পত্তিগুলো অবশ্যই অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কৃত করা হবে। এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করেন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে করোনার স্থায়ী কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিস্কৃত না হওয়ায় বিপদের ঝুঁকি রয়েই গেছে। তাই সামাজিক সচেতনতা ও দূরত্ব রক্ষা করে জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ঢিলেমি দেয়া সমীচিন নয়। তিনি সতর্ক করিয়ে দেন যে, ঘর থেকে বের হলে মুখে মাক্স পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং হ্যান্ড সেনিটাইজারও সাথে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা না করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি পথচারী, পরিবহণ চালক ও যাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে মাক্স বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে মুক্তিযোদ্ধা হারেছ আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর এস. এম.এরশাদ উল্লাহ, হাজী মো. ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান, নিজাম উদ্দিনসহ চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   ইডিইউ’র সমাবর্তন,  অনন্য অভিজ্ঞতা

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-  ২০২০ উদযাপন উপলক্ষ্যে “ওরিয়েন্টশন ও পরিকল্পনা সভা”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় পুষ্টি সেবা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা কর্তৃক পরিচালিত আসন্ন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন  ২০২০ইংরেজি উদযাপন উপলক্ষ্যে এক “ওরিয়েন্টশন ও পরিকল্পনা সভা” গতকাল বৃহস্পতিবার, সকালে  চসিক জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আলী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম আকতার চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য এর উপ-পরিচালক ডা. মো. শফিকুর রহমান, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, ঢাকা এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মুরাদ মো. শমসের তিবরীজি খান। প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত উপস্থাপনসহ বিস্তারিত উপস্থাপন করেন জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান মুরাদ চৌধুরী। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এমও ইনচার্জ ডা. আশীষ কুমার মুখার্জী, ডা. মো. নাছিম ভূঞা, জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ডা.সুমন তালুকদার, ডা. আকিল মাহমুদ নাফে, ডা. জুয়েল মহাজন, মেডিকেল অফিসার এবং বেসরকারী এনজিও সংস্থা’র প্রতিনিধিবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে এ ক্যাম্পেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা বর্তমান সময়ে খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই এ ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণ সম্ভব হবে। সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে মাক্স পরিধান ও হাত ধোয়ার বিধি মেনে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে, কোনো শিশু ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো থেকে বাদ না যায় সেদিকটি অবশ্যই নজরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিতব্য সকল জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের সফলতা দেশব্যপী প্রশংসিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন মাননীয় সিটি প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন এর সার্বিক নির্দেশনায় এই কর্মসূচী সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নে সকল জোনাল মেডিকেল অফিসারগণকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন এবং কর্মসূচীর সফলতা কামনা করেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর হতে ০৮ অক্টোবর ২০২০ইংরেজি পর্যন্ত দুইসপ্তাহ ব্যাপী সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হবে। উক্ত ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে ১টি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ১টি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়া শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণ মত ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ প্রদান করা  হবে।

আর পড়ুন:   নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে পরানো হলো জেনারেল ব্যাজ