৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলায় ভূমি অধিগ্রহণে  একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মোট অংকের কমিশন দাবী,  অন্যথায় নামে বে-নামে  মিথ্যা মামলা চুকে দিয়ে টাকা প্রাপ্তিতে ব্যাপক হয়রানি করছে বলে  অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগি। আজ বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক কমিশনবাজি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও ভূমিঅধিগ্রহণের টাকা আত্মসাতের  নানান অভিযোগ তুলে ধরেন, মো. হোসেন  নামে  এক ভূক্তভোগী ।

সংবাদ সম্মেলনে মো. হোসেন বলেন, আমার বাপ দাদাসহ পূর্বপুরুষগণ আনোয়ারা উপজেলার  বেলচুড়া এলাকা ও  বৈরাগ এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক ছিলেন। আরএস, বিএস খতিয়ানমূলে এবং ওয়ারিশসূত্রে আমি মো. হোসেনসহ আমার নিকটাত্মীয়গণ এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক হই। বর্তমানে এসব সম্পত্তি তাদের ভোগ দখলেও রয়েছে। ইতিমধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে সংযোগ সড়ক আমাদের জায়গার উপর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এজন্য মাননীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য এলএ মামলা নম্বর ৩০/২০১৬/১৭ এর সূত্রে আমার পিতা- মৃত মনির আহমদ ও আমার চাচা মো. আমিন শরিফ সহ ওয়ারিশগণের  নামে ৩ধারা, ৬ধারা ও সর্বশেষ ৭ ধারার নোটিশ প্রাপ্ত হই। কিন্তু পাশ্ববর্তী চাতুরী গ্রামের জৈনক আবুল হোসেনের পালক পুত্র মো. নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছাত্রদল নেতা ক্যান্টিন ইকবাল, ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দিন বাবু, জামাল প্রকাশ বোয়ারা (বধির) জামালসহ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র মিলে আমাদের জমির ক্ষতিপূরণের টাকাগুলো আত্মসাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ চক্রটি প্রথমে আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন দাবী করেন। আমরা কমিশন দিতে রাজি না হওয়ায়  তারা পটিয়ায় মাননীয়  তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মিথ্যা  মামলা নম্বর ০৮/২০২০ দায়ের করে আমাদের নানাভাবে হয়রানী শুরু করে। এখানে উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আছে,  চুড়ান্তভাবে ৭ ধারা নোটিশ ইস্যুর পর কোনো মামলা চলে না। তারপরও এই চক্রটি চট্টগ্রাম জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্ঠি করে আমাদের প্রাপ্য টাকা প্রদানে বাঁধা সৃষ্টি করেছে।  আমরা দীর্ঘদিন আমাদের প্রাপ্য টাকার জন্য চট্টগ্রাম এলএ অফিসে ধরর্ণা দিলেও   এ প্রতারক  চক্রের অন্যায় চাপের কারণে আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের  পাওনা টাকা চট্টগ্রাম এল এ অফিসের কর্মকর্তারা সঠিক সময়ে পরিশোধ করেনি।  এই সংঘবদ্ধ প্রতারক  চক্রটি বসে নেই, তারা পটিয়ায় মাননীয় তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে শুধু  হয়রানী করছে তা নয়, তারা উল্টো আমাদের পরিবার এবং চট্টগ্রাম এল এ শাখার বিরুদ্ধে গত ১৩সেপ্টেম্বর  চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন  করে আমাদের প্রাপ্য টাকা   অন্যায় ভাবে এই চক্রকে প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।  শুধু আমাদের নয়, এ পালকপুত্র নুরুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা ক্যান্টিন ইকবাল গং  দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারার বিভিন্ন নিরীহ মানুষকে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা প্রাপ্তির ব্যাপারে মোটা অংকের কমিশন দাবী করে  চলেছে। এ চক্রের অন্যায় দাবীর প্রতি অস্বীকৃতি জানালে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য  বিভিন্ন লোকের বিরুদ্ধে নামে- বেনামে  মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অনেক ভুক্তভোগির  অভিযোগ রয়েছে।

আর পড়ুন:   দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামাতে সরকারের ‘বিশেষ পরিকল্পনা’

সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারার কৃতি সন্তান মাননীয় ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দম কমিশন (দুদক) সহ সরকারী  সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে এ চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায়, পালক পুত্র মো. নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছাত্রদল নেতা ক্যান্টিন ইকবাল গং  নিরীহ মানুষকে একে একে নামে বেনামে মিথ্যা মামলার ফাঁদে ফেলে ব্যাপক হয়রানী করেই যাবে বলে আশঙ্কা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগিদের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন, মো. নুরুল কবির রানা, মো. লোকমান, মো. আলী, রশিদা বেগম, সাদ্দাম হোসেন, সিরাজুল হক বাবু, মো. সাহাবুদ্দিন, মো. মামুনসহ অনেকেই।