৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নগরবাসীকে অযাচিত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নতুন ও কার্যকর কিছু করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। তিনি আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)  অপরাহ্নে আগ্রাবাদ ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর মার্কেট হতে শুরু হয়ে বড়পোল, নিমতলা পর্যন্ত ক্যারাভান কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় একথা বরেছেন। তিনি আরো বলেন, একটা নগর বা দেশকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য নাগরিকদেরও নানাবিধ দায়িত্ব পালন করতে হয়। নগরে  যারা বসবাস করেন তাদের সকলের কিছু না কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য থাকেই। শুধু আইন করে কিংবা জোর দিয়ে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো যায় না। আইনের প্রতি সম্মান দেখাবার মানসিকতা নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত না হলে চাপিয়ে দিয়ে তার সুফল ষোল আনা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে।

                                                       নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ

সত্যিকার অর্থে আমাদের এদেশে নাগরিক সচেতনতা কোনও কোনও ক্ষেত্রে যেমন বেড়েছে, তেমনই কোনও কোনও ক্ষেত্রে তার চরম অবনতিও ঘটেছে।  লক্ষ্য করা গেছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই শহরে বর্জ্যব্যবস্থাপনা বেশ উন্নত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রচেষ্টা এবং নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের জন্য নগরীর রাস্তাঘাটে ময়লা-দুর্গন্ধ অনকটাই নিয়ন্ত্রীত। এজন্য নগরবাসীকে আমরা ধন্যবাদ দিতে চাই। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ নাগরিকদের কাছ থেকে আমরা দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা প্রত্যাশা করি।

চলতি পথে যুবসমাজের উষ্ণঅভ্যর্থনায় প্রশাসক বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি আপনাদের পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, নেই সহপাঠিদের সাথে কথা বলার মত পরিবেশ,মানসম্মত বসার স্থান। তাই এই বিষয়ে আমি পদক্ষেপ নিব। তিনি বলেন, বস্তুতপক্ষে এ শহর মানুষের শহর। তাই বাসযোগ্য শহর গড়তে আমাদেরকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই আমাদের আগামী প্রজন্ম মানসম্মত পরিবেশ পাবে। নাগরিকগণ প্রদেয় ট্যাক্সের বিপরীতে তাদের নাগরিক সেবা শতভাগ বুঝে নেবেন। এতে কোনও সমস্যায় উপণীত হলে আমাকে হোয়াটঅ্যাপে জানান ১ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিব-ইনশাআল্লাহ।  প্রশাসক টিএন্ডটি কলোনীর সামনে ফুটপাতের উপর গড়ে উঠ অবৈধ কাঁচা বাজার দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তা তাৎক্ষণিক কিছু অংশ ম্যজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং আগামীকাল থেকে এই বাজার আর না বসাতে সতর্ক করে দেন। অন্যথায় জরিমানা ও উচ্ছেদের আওতায় আনা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এছাড়া তিনি এক্সেস রোড ও বড় পুল এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় ফুট পাত ও রাস্তা দখল করে ইট,বালি,পাথরের অবৈধ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মালামাল সরানোর নির্দেশনা দেন নচেৎ মালামাল জব্দ করা হবে সাফ জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, আগামীকাল ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে কয়েকটি ট্রাক থাকবে অবৈধ মালামাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হবে।  এসময় তিনি বিভিন্ন দোকানের ট্রেডলাইসেন্স আছে কিনা জানতে চাইলে কেউই ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শন বা সদুত্তোর দিতে পারেননি বিধায় তাদেরকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তিনি আরো প্রত্যক্ষ করেন যে, ফুটপাতের উপর অবৈধভাবে পানির ভাউচার ও ড্রাম রেখে রাস্তা মানুষ চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মানুষের চলার পথে কাটা হবেন না। আজ বলে যাচ্ছি কাল থেকে আর ছাড় নয়। বড়পুল এলাকায় প্রশাসক  স্থানীয়দের সাথে অভিযোগ গ্রহণকালে খবর পান যে, মইন্যাপাড়া এলাকায় রাস্তার কাজে ড্রেনের ময়লা পানি দিয়ে রাস্তা ঢালায়ের নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। তিনি সাথে সাথে মুঠোফোনে ঠিকাদারকে যেটুকু কাজ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে পুনরায় পরিস্কার পানি দিয়ে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ  করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ বা কোনও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। অরাজকতা দমনের উদ্দেশ্যেই সরকার নিজেদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান করছেন। জনগণের সেবক ও বন্ধু হয়ে কাজ করুন। তিনি বড়পুলে নির্মিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের চতুর্পাশে পরিদর্শন করে বলেন, এটি একটি দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান এস্থানে যাতে অযাচিত কোনও কাজ কিংবা অবৈধভাবে কোনও দোকানপাট করা না হয় সেজন্য এলাকাবাসীকে দায়িত্ববোধ ও সজাগ থাকতে হবে। পরে প্রশাসক নিমতলা এলাকায় অলস পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান, এ বিষয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসময় সাবেক কাউন্সিলর লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী,  প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   এখন সময় অনলাইন সংবাদপত্রের: প্রধানমন্ত্রী

আইডিএফ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে প্রশাসক

আইডিএফ প্রতিনিধি দলের সাথে চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন,পরিচ্ছন্ন সুন্দর স্বাস্থ্যবান্ধব নগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। করোনা মহামারীকালে নগরীরে মধ্যবিত্ত, দরিদ্র ও হতদরিদ্রদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনে চসিকের স্বাস্থ্য সেবা খাতে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তা দিয়ে সেবার গুণগতমান বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে চসিক জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর ) সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে আইডিএফ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসা নয় স্বল্পমূল্যে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই চসিকের লক্ষ্য। তিনি এনজিও সংস্থাগুলোকে ব্যবসা নয়, পেশাগত সেবার দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আইডিএফ প্রতিনিধি দল প্রশাসককে চসিকের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। প্রশাসক তাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে বলেন নগরীর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে চসিক বদ্ধ পরিকর। চসিক স্বল্পমূল্যে উন্নত সেবা প্রদানের জন্য আইডিএফকে একটি লিখিত পরিকল্পনা উপস্থাপনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন চসিকের স্বাস্থ্যসেবাকে পর্যায়ক্রমে আরো উন্নতমানের স্থানে আসীন করা হবে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন পার্ক ও জনসমাগম বেশি হয়, এমন এলাকায় সপ্তাহে এক দিন বিনামূল্যে ডায়বেটিক পরীক্ষা ও প্রেসার মাপার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, আইডিএফ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রফেসর শহিদুল আমিন চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, আইডিএফ’র স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ডা. মুক্তা খানম ও মো. ইফতেখার উদ্দিন প্রমুখ।