৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গা শরণার্থী স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাতিল করে সন্দ্বীপে নদীভাঙনে উদ্বাস্তু লক্ষাধিক মানুষকে ভাসানচরে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে সন্দ্বীপ নাগরিক সমাজ। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এফ রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সন্দ্বীপের সাবেক ন্যায়মস্তি ইউনিয়ন জেগে ওঠার পর ঠেঙ্গারচর নামে পরিচিতি পাওয়া বর্তমান ভাসানচরে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভাসানচর পরিদর্শন করেছে। আমরা মনে করি ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্থানান্তরিত হলে তাদের স্বদেশ ফেরত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

তারা বলেন, সন্ত্রাস এবং মাদকে জড়িত রোহিঙ্গারা ভাসানচরে স্থানান্তরিত হলে সন্দ্বীপ-হাতিয়াসহ তৎসংলগ্ন সব দ্বীপ, বৃহত্তর চট্টগ্রাম, বৃহত্তর নোয়াখালী, ভোলা এমনকি বাংলাদেশের জনজীবনে পরিবেশগত বিপর্যয়, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ সংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাস এবং মাদকের বিস্তার ঘটতে পারে। সন্দ্বীপ উপজেলা হয়ে উঠতে পারে ইয়াবা কারবারের কেন্দ্রবিন্দু, নদীপথে ইয়াবা সহজেই সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নদীপথে তৈরি হতে পারে অস্থিরতা।

তারা আরও বলেন, সাগরে সম্ভাবনাময় মৎস্যসম্পদ আহরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে, ডাকাতি বৃদ্ধি পেতে পারে, নৌচলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, পুরো চট্টগ্রামে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে। সন্দ্বীপের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সন্দ্বীপ-হাতিয়া-চট্টগ্রাম-নোয়াখালী, ভোলা এমনকি বাংলাদেশ হুমকির মধ্যে পড়তে পারে, শান্তির দ্বীপ সন্দ্বীপ অশান্তিতে পরিণত হতে পারে। সন্দ্বীপসহ তৎঅঞ্চল হারাতে পারে নিজস্ব স্বকীয়তা।

বক্তারা দাবি করেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তারা সেখানে স্থায়ী হয়ে এখন থেকে এক যুগ পর আলাদা ভূখণ্ডের দাবি করতে পারে।

বক্তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাতিলের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সন্দ্বীপের নদীভাঙনে অসহায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের ভাসানচরে পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান। প্রসঙ্গত সন্দ্বীপের নদীভাঙনে অসহায় জলবায়ু উদ্বাস্তু জনসংখ্যা লক্ষাধিক।

আর পড়ুন:   আরও ৪ বছর উপাচার্য থাকছেন আখতারুজ্জামান

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সন্দ্বীপ নাগরিক সমাজের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসাইন, লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম সন্দ্বীপের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লায়ন আলহাজ মো. সলিমুল্লাহ, সন্দ্বীপ নাগরিক সমাজের সমন্বয়ক মো. মিজানুর রহমান, মাকছুদের রহমান, এবি ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখার সাবেক ম্যানেজার আলহাজ মো. সোলাইমান, এক্সিম ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখার সাবেক ম্যানেজার অ্যাডভোকেট মো. তসলিমুল আলম, মানবাধিকার সংগঠক লায়ন এমদাদুল করিম সৈকত, কবি কে এম আজিজ উল্যা, ন্যায়মস্তি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের চারবারের ইউপি সদস্য সেন্টু চক্রবর্তীর ছেলে তরুণ চক্রবর্তী প্রমুখ।