৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় অঙ্কের মেগাপ্রকল্পসমূহে অর্থের যোগান দিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের চিত্র পাল্টে যাবে, চট্টগ্রাম হবে প্রাচ্যের রাণী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে সকল সংস্থা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারলেই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের চট্টগ্রামে রূপ লাভ করবে এ নগরী। তাই সেবা সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

   নগরসেবায় ক্যারাভান কর্মসূচিতে প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আজ বুধবার(০৯ সেপ্টেম্বর)  অপরাহ্নে চসিকের প্রকৌশল, পরিচ্ছন্ন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে কোতোয়ালী মোড় থেকে আশারাফ আলী রোড হয়ে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত যাত্রাকালে বিভিন্ন স্থানে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথাগুলো বলেছেন। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি-অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা ও যথেচ্ছতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আমি সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে আমার জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবো। আমি যখন রাস্তায় নেমেছি কিছুতেই থামবার পাত্র নই। তবে আমি একজন রাজপথের রাজনীতিক হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনাকে স্যালুট করি। আমি নগরবাসীকে সাথে নিয়ে একটি মানবিক এবং বাসযোগ্য নগরী গড়ার লড়াইয়ে নেমেছি। আমি হকারদের জন্য টাইমফ্রেম ও নিয়ম-নীতি ঠিক করে দিয়েছি। যাতে হকারও থাকে আর নগরবাসীও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। হকার নেতারা এসব মেনে চলবেন বলে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, যারা রাস্তা দখল করে নিয়ম-নীতি না মেনে দোকান-পাঠ বসিয়েছেন তাদের কাছ থেকে কোনো কেনা-কাটা করবেন না। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন। ক্যারাভান কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রশাসক স্থানীয় জনসাধারণের কাছে সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা জানতে চান। এ সময় এলাকাবাসী বিভিন্ন জায়গায় তাদের সমস্যার কথা অবলীলায় প্রশাসকের নিকট তুলে ধরেন। প্রশাসক আশরাফ আলী রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ব্রীজের কারণে খালের মধ্যে বাঁধ দেয়ায় সাময়িক যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার জন্য এলাকাবাসীকে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানান। তিনি বলেন, অনেক সময় বৃহৎস্বার্থের জন্য ক্ষুদ্রস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে হয়। ব্রীজের কাজ শেষ হলে এ দুর্ভোগ আর থাকবে না। তাছাড়া পাথরঘাটাস্থ মিরিন্ডা মেইন রোডে অবস্থিত ড্রেনে স্ল্যাব ভেঙ্গে যে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে তাতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বিধায় আগামীকাল দুপুর ১২ টার মধ্যে নতুন স্ল্যাব স্থাপনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রশাসক। যাত্রাপথে তিনি ব্রিকফিল্ড রোড ও আশরাফ আলী রোডের অকেজো সড়ক বাতি সরিয়ে নিয়ে নতুন সড়ক বাতি লাগানোর জন্য চসিক বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। চলতি পথে প্রশাসক ময়লার স্তূপ, ভাঙ্গাচোড়া রাস্তা ও ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন এবং এলাকাবাসীকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানান। ক্যারাভান কার্যক্রম পরিচালনার সময় উক্ত এলাকায় বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শতশত নগরবাসী প্রশাসককে স্বাগত জানান। ক্যারাভানে জনতার জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার বিষয়ে প্রশাসককে অবগত করলে প্রশাসক বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করছেন। কাজ সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। প্রশাসক কর্ণফুলী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা দখল করে যানজট সৃষ্টিকারী অলস গাড়ি পাকিং দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এহেন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন। এছাড়া স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবু মুসা চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে প্রশাসক দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।

আর পড়ুন:   সিআরবিতে  হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে সাইকেল র‌্যালি

ক্যারাভান কার্যক্রমে প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোছাইন, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, রাজনীতিক পুলক খাস্তগীর, মো. মোরশেদ আলম, মো. সোলায়মান সুমন, মো. সাইফুদ্দীন, দিদারুল আলম, আবুল কালাম আবু, মোজাম্মেল হক, শফিউল আলম, মনিুরুল হক মুন্না, নোমান সাঈফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

একমাত্র পাঠনীজীবীরাই ঘাট-ইজারা প্রাপ্তির বৈধ অধিকারী

কর্ণফুলী নদীর ঘাট পাঠনীজীবী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, একমাত্র পাঠনীজীবীরাই ঘাট-ইজারা প্রাপ্তির বৈধ অধিকারী। নদী পারাপারে পাঠনীজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। করোনা মহামারীকালে তাদের জীবন-জীবিকা অচল হয়ে পড়ে। তারপরও খেয়া পারাপারে তারা অবদান রেখে চলেছে। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসারে পাঠনীজীবীদের ঘাট ইজারা প্রাপ্তিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশন ভূক্তির উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে আগামীতে পাঠনীজীবীরা বংশ পরম্পরায় ঘাট ইজারা পেতে পারবেন। কোনো খোলা দরপত্র আহবান করা হবে না। পাঠনীজীবীদের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাঠনীজীবীরা বাইরে ইজারাদারদের খেয়া পারাপার ছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলে প্রশাসক এ সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন এবং সকলের সহনশীল আচরণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আজ সকালে টাইগারপাস্থ চসিক প্রশাসকের দপ্তরে কর্ণফুলী নদীর ঘাট পাঠনীজীবী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাংবাদিক অলিউর রহমান, ১৪নম্বর ঘাট পাঠনীজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদুল হক, ১১নম্বর ঘাট পাঠনীজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন, বাংলাবাজার ঘাট পাঠনীজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, কর্ণফুলী নদীর সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস এম পেয়ার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

চসিক প্রশাসকের সাথে সিবিএ নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত

আর পড়ুন:   করোনারোগের চিকিৎসার নির্দেশ দেশের সব হাসপাতালে
 চসিক সিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, সিবিএ হচ্ছে শ্রমিক কর্মচারীদের পক্ষে একটি বার্গেনিং এজেন্ট। শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষা, সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরা এ সংগঠনের মূল কাজ। সাবেক মেয়র প্রয়াত আলহাজ্ব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সিবিএ প্রতিষ্ঠার জন্য সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর সময় থেকে সোচ্চার ছিলেন। ফলশ্রুতিতে তিনিই চসিকে সিবিএ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, চসিকের কাজ করতে গেলে আপনাদের সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন আমার সহযোগিতাও আপনাদের প্রয়োজন। তাই আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সুশৃংখলভাবে কাজ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনি। আজ বুধবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক নগরভবনে সম্মেলন কক্ষে সিবিএ সভাপতি ফরিদ আহমেদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় চসিক সচিব আবু শাহেদ চৌধুলী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সিবিএ সভাপতি জাহেদুল আলম চৌধুরীসহ সভাপতি রূপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাইকার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের সাথে অবহিত করণ সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

চসিক প্রশাসকের সাথে জাইকার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের সাথে অবহিতকরণ সভা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, জাইকার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প একটি যুগোপযুগী উদ্যোগ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনো সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বর্জ্য এখন পরিবেশকে ভয়ঙ্করভাবে দুষিত করছে। ইনসিনেটর এর মাধ্যমে এ বর্জ্য  পোড়ানো কার্যক্রম যত দ্রুত করা যায় নগরবাসী ও পরিবেশের জন্য ততই মঙ্গল। তিনি চসিকের ডাম্পিং স্টেশনকে কিভাবে আরো আধুনিক করা যায় সে ব্যাপারে জানতে চাইলে জাইকার প্রজেক্ট টিমের ডেপুটি ন্যাশনাল টিম লিডার কনসালটেন্ট প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ডাম্পিং স্টেশনগুলো যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই জন্য নতুন ল্যান্ড ফিল্ড প্রয়োজন। প্রশাসক নতুন ল্যান্ড ফিল্ডের জায়গা খুজে বের করার জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। চসিককে আরো কমপেক্টর ক্যারিয়ার ও বর্জ্য পরিবহনের ট্রাক প্রদানের আহ্বান জানান প্রশাসক। আজ বুধবার দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে জাইকার সলিট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অবহিত করণ সভায় প্রশাসক এ আহ্বান জানান। এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা ফজলুল কাদের, জাইকার প্রকৌশলী গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন