১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বাংলাদেশে দারিদ্র সীমার নীচে অবস্থানকারীদের সংখ্যা বহুলাংশে হ্রাস পেলেও করোনাকালে সেই হার ঊর্ধ্বগতি লক্ষণীয়। মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এ মহামারিকালে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে প্রান্তিক শ্রেণির নারীদের সংখ্যা বেশি। তাদের অনেকের কর্মীর হাত ভিখারির হাতে পরিণত হয়েছে। এর ফলেই এ প্রান্তিক শ্রেণির গর্ভবতি মায়েরা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি পুষ্টিহীনতার শিকার। তাদেরকে পুষ্টির যোগান দিতে ইউএনডিপি’র চলমান পুষ্টি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম একটি ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত ইউএনডিপি ও ইউকেএইড এর সহায়তায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ নগরীর ফিরোজশাহ ৯নম্বর উত্তর  পাহাড়তলী ওয়ার্ডস্থ গলাচিপায় অনুষ্ঠিত জরুরী পুষ্টি খাবার সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রশাসক এসব কথা বলেন।  প্রশাসক চলমান এ প্রকল্পের ধারণা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে বলেন, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে একটি সুস্থ, সবল ও বুদ্ধিমান পরবর্তী প্রজন্ম তৈরী করা সম্ভব। আর এই সুস্থ সবল পরবর্তী প্রজন্ম পাওয়ার জন্য গর্ভবতি মাকে সর্বাগ্রে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে একজন মা গর্ভ ধারণের পর গর্ভাবস্থায় ২৭০ দিনের (৯ মাস) মধ্যে শিশুর মস্তিস্কের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ গঠন হয়। বাকী ২ বছরের মধ্যে পরিপূর্ণতা পায়। তাই সকল গর্ভবতী মা’দের পুষ্টিকর খাবারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহবান জানান প্রশাসক।  তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদেরকে সংসারের কাজের বাইরেও রুটি-রুজির জন্য বাসা-বাড়ি,কারখানা বা অফিসে কায়িক পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হয়। তারপরও নিজের শিশু সন্তানদের সময় দিয়ে ¯স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে হবে। তা না হলে আদর মায়া-মমতাহীন শিশুটির মধ্যে একধরনের সান্নিধ্য  না পাওয়ার অভাব তৈরি হবে। এ  অবস্থায় শিশুকাল থেকে তাদের মানসিক বৈকল্য ঘটতে পারে এবং নানাভাবে অবাধ্য হয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এটা সমাজের জন্য একটি অশুভ লক্ষণ। কারণ এভাবেই একটি প্রজন্ম মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপকর্মে পাপবিদ্ধ হয়ে যায়। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে মায়েরা নিজেদের উপার্জন, সংসার এবং সন্তান লালন-পালনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসক কোভিড-১৯ দুর্যোগকালীন সময়ে ধৈর্য্যশীল হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন জীবিকার লড়ায়ে সামিল হওয়ার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সাবেক কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার সরওয়ার হোসেন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   রোহিঙ্গাসঙ্কট সমাধানে তিন প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
                                  নগরীর অলংকার মোড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে দেখা যাচ্ছে

অলংকার মোড়ে  শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলো চসিক

নগরীর সাগরিকা  থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার (৮সেপ্টেম্বর)সকালে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব এর নেতৃত্বে এই অভিযানে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে রাস্তার উভয় পাশে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ভাসমান টং দোকান, ফলের দোকান, বাস কাউন্টারসহ নানাবিধ অবকাঠামো। এ উচ্ছেদের ফলে উক্ত স্থানে ড্রেন সংযোগ সহজতর হবে। এতে জলবদ্ধতা নিরসনসহ পিসি রোডে উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান হবে। দখলমুক্ত এসকল স্থানে পুনরায় অবৈধ স্থাপনা কেউ গড়ে তুললে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্ছারণ করেছেন চসিক প্রশাসক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমি জিরোটলারেন্স নীতিতে অবস্থান নিয়েছি। তাই কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দখলদাররা যতবড় প্রভাবশালী মহলে ছত্রছায়ায় থাকুক না কেন তারা প্রচলিত আইনকে তুয়াক্কা না করে পারবে না। তাই যারা অবৈধ দখলদারকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদেরকে চরম শাস্তি ভোগ করতে হবে।