৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে এবং যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় তার প্রতিটি কানাকড়ির হিসাব জনগণের কাছে জবাবদিহিতা প্রদানে শতভাগ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই জবাবদিহিতা প্রদানের দায়বদ্ধতা থেকে নাগরিকদের অভাব,অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর)  থেকে গণ সাক্ষাতকার গ্রহণের ধারাবাহিক কার্যক্রম শুরু হলো। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে হলো নগরবাসীর অভিযোগ ও সমস্যাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি,স্বচ্ছতা আনায়ন এবং নগরবাসীর মাঝে আস্থা ও নির্ভরতার ভিত্তিতে প্রোথিত করা। তিনি আজ সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিক পুরাতন নগর ভবনে অনুষ্ঠিত গণসাক্ষাতকার গ্রহণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথাগুলো বলেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন এবং বলেন, চট্টলদরদী এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পথ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। নির্দিষ্ট বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যতটুকু সম্ভব নগরবসীর দুর্ভোগ লাঘবে আমি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথাগুলো শুনে  তার দ্রুত সমাধানের জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি নগরবাসীর হৃদয়মনের কাছাকাছি পৌঁছে তাদের চাওয়া পাওয়া এবং অপূর্ণ আকাঙ্খাগুলো জানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কোন কোন ক্ষেত্রে অনিয়ম অস্বচ্ছতা গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনাগত শৃংখলার অভাব রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সেবাখাতগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তাই আমি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে, নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকা আমাদের বেতন-ভাতা গ্রহণ এবং সকল ব্যয় নির্বাহের প্রধান উৎস। তাই প্রতিটি কানাকড়ি হিসেব-নিকেশের জবাবদিহিতা নগরবাসীর কাছে প্রদানের নৈতিকতাকে অবশ্যই অন্তরে ধারণ করতে হবে। কোনো ক্ষেত্রেই যেন তিল পরিমাণ নয়-ছয় না হয়। স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও তিল পরিমাণ ভ্রান্তি ও বিচ্যুতিকে ছাড় দেয়া যাবে না। তিনি আজকের গণস্বাক্ষাতকারে যারা বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথাগুলো জানিয়েছেন সেগুলোকে আমলে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করে বলেন, আপনাদের অভাব-অভিযোগুলো যাচাই-বাছাই করে এবং এগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ-কেউ এও বলেছেন যে, চাকুরী দেয়ার নাম করে নিকট অতীতে কোনো কোনো ব্যক্তি টাকা-পয়সা নিয়েছেন। এতে তারা প্রতারিত হয়েছেন। এ অভিযোগটি দু:খজনক। আমি এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিব। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল আর্থিক লেনদেন, মোট জনবলের বেতন-ভাতা প্রদানসহ আর্থিক আদান প্রদানের অনলাইন ওয়ান ব্যাংকের সাথে অনলাইন ব্যবস্থাপনার যে চুক্তিটি হয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেসকল সমস্যা আছে তা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরো জানান যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যেসকল ঠিকাদার এবং অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের পাওনার অংক এখনে অদেয় আছে সেগুলো পরিশোধে  সরকারের সাথে দেন-দরবার করে পরিশোধ করা হবে বলে প্রশাসক আশ্বস্থ করেন। আজকের গণস্বাক্ষাতকালে প্রায় ২০টি অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আর পড়ুন:   ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি তিন দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি’র সাথে চসিক প্রশাসকের বৈঠক

দামপাড়াস্থ ওয়াসা ভবনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম ফজলুল্লাহ’র সাথে বৈঠক শেষে ফটোসেশনে চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরীতে ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে রোড কাটিংয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন না হওয়ায় নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের সাথে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আজ দামপাড়াস্থ ওয়াসা ভবনে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম ফজলুল্লাহ’র সাথে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, যেখানে সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পের রোড কাটিং কাজ করে সড়কগুলোকে যান চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে। যেসকল সড়কে চসিকের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে সেখানে রাস্তা কর্তন বিষয়ে আগেভাগে দুই কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সমন্বিত কর্মপন্থা প্রণয়ন করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে এ ধরনের উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(প্রশাসন) তাহেরা ফেরদৌস, সচিব শারমিন আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, উপ সচিব নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী বরাবরে চসিক প্রশাসকের পত্র প্রেরণ

                            শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এম.পি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন করোনা মহামারী’র সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে চাপ প্রয়োগ বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি ও মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এম.পি বরাবরে পত্র প্রদাণ করেন। আজ সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর)  প্রেরিত পৃথক পৃথক পত্রে চসিক প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, উপর্যুক্ত বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত মহামারিতে বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীই অনেকটা থমকে আছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক পেশাজীবী ও চাকরিজীবী। অনেক প্রবাসী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মানবিক বিবেচনায় সরকার বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিলে বিলম্ব ফি মওকুফ করেছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা দিচ্ছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মহামারীর এই সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছে মর্মে ভুক্তভোগীরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী বরাবরে অভিযোগ করেছেন। এ পেক্ষিতে করোনা মহামারীর এমন দুর্যোগের সময়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায় না করে শিক্ষক ও কর্মচারীগণের বেতন প্রদানের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় পরিমাণ টিউশন ফি নির্ধারণপূর্বক তা আদায়ে নির্দেশনা প্রদান করা সময়ের দাবী। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মাসিক বেতন ও টিউশন ফি আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবতার নিরিখে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সুচিন্তিত নির্দেশনা প্রদানের জন্য আপনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করছি।

আর পড়ুন:   গণটিকা কার্যক্রম সফল করে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করুন-চসিক মেয়র

চসিক প্রশাসকের বিবৃতি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডে শুন্য কাউন্সিলর পদে সমন্বয়ক বা প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেয়া না হলেও এ-নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহেতুক বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানোয় প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  এ প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেছেন, কোনো ওয়ার্ডে সমন্বয়ক বা প্রতিনিধি হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত পরিষদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার এ্যাক্ট(সিটি কর্পোরেশন-২০০৯) অনুযায়ী কাউন্সিলর পদটি এখন শুন্য। এই পদে থেকে মেয়াদকালীন সময়ে কাউন্সিলর যে কাজগুলো বিশেষ করে ওয়ারিশান, জাতীয়তা সনদপত্র,জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করতেন তা প্রাপ্তিতে ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই কাজে তাঁদেরকে স্থানীয় অভিজ্ঞ ও মুরুব্বীদের সহায়তা গ্রহণেরও পরামর্শও দেয়া হয়েছে। সর্বোপরি চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলমকে ১ থেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াকে ১৫ থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ও সচিব আবু শাহেদ চৌধুরীকে ২৯ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক  ওয়ারিশ চিহ্নিতকরণে কয়েকজন মুরব্বী, শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা গ্রহণের জন্য ওয়ার্ড সচিবগণকে বলা হয়েছে।  তাদের কোনোভাবেই ওয়ার্ড অফিসে এসে কোনো ধরণের কার্যক্রমে সংযুক্ত হতে বলা হয়নি। এ ধরণের  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে যাদের  নাম উল্লেখ করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত। যারা এসব করছেন তাদের এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যাতে এধরনের কোনো গুজবে কান দেয়া থেকে বিরত থাকেন। ওয়ার্ড অফিসের কোনো কার্যক্রমে সরাসরি ওয়ার্ড সচিবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এতে কোনো প্রকার জনভোগান্তি কিংবা অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমার ফেসবুক পেজ কিংবা দাপ্তরিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ রইল। স্ব-প্রণোদিত হয়ে যারা এসব গুজব রটাচ্ছেন তারা যেন এহেন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন নচেৎ তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।