৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি *

বিশেষ শর্তে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি  পেয়েও রাজনীতিতে  সক্রিয় হতে পারছেন না। তাছাড়া তাঁর শারীরিক অবস্থাও দল পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। দলের শীর্ষস্থানীয় এ দু’নেতা রাজনীতির মাঠে না থাকায় বিএনপি সঙ্কট থেকে বের হতে পারছে না। অন্যদিকে দলীয় নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে নানান মতভেদ। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দলীয় নেতাদের যে আস্থা ও বিশ্বাস আছে- তা তারেক জিয়ার প্রতি নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশিরভাগ তারেক জিয়ার নেতৃত্ব মানতে নারাজ। ফলে বিএনপি রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে । এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়েও দলের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তিকর পরিবেশ। সবকিছু মিলিয়ে দলটির সারা দেশের অসংখ্য নেতাকর্মী দারুণ হতাশায় দিনাতিপাত করছেন। এদিকে দলীয় হাইকমান্ড সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে নানা উদ্যোগ নিলেও তাতে সফল হচ্ছে না। দল ক্ষমতা থাকতে যেসব নেতা সুবিধা ভোগ করে টাকার কুমির হয়েছেন তাদের অনেকেই দলের দুর্দিনে কাছে নেই। দলের ভবিষ্যত অন্ধকার দেখছেন নেতাকর্মীরা। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন –সংগ্রাম করার মতো প্রচুর ইস্যু থাকলেও এ নিয়ে দলীয় কর্মসূচি না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিএনপি নেতৃত্ব কোন পথে হাঁটছে- তা নেতাকর্মীদের কাছে পরিস্কার নয়। বিএনপি’র ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ।১৯৮১ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নানা চড়াই-উৎরায় পেরিয়ে দু’বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসিন হয়। পরবর্তীতে নানা দলীয় ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলটি ১২বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করছে। ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি মূল রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সারাদেশে বিএনপির প্রচুর কর্মীবাহিনী থাকলেও লক্ষ্যঅর্জন করতে পারছে না দলটি। উদার গণতান্ত্রিক ভাবধারার অবস্থান থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে দলটির ভেতর। জামায়াতে ইসলামীর মতো মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের সাথে জোট করার বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি দেশি-বিদেশি কূটনীতিকেরা। দেশে শক্তিশালী বিরোধীদলের শূন্যতা বিরাজ করলেও বিএনপি তা পূরণে ন্যূনতম ভূমিকা রাখতে পারছে না। দশম সংসদ বর্জন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার পরও শপথ নিয়ে বিএনপির এমপিরা সংসদে যাওয়ায় দলের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এরপরও সংসদের ভেতরে-বাইরে বিএনপি নেতৃত্ব যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলতে পারতো তাহলে নেতাকর্মীরা কিছুটা হলো আশার আলো দেখতো। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই নেই, দলের চেয়ে নেতারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত বেশি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা খুবই চিন্তিত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করায় দল নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে প্রায়।এ অবস্থায় দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠতে হলে দলের নেতৃত্ব ঠিক করা জরুরি । বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার একযুগ ধরে বিএনপিকে ধ্বংস করতে ওঠেপড়ে লেগেছে।বিএনপি নেতাকর্মীদের নানামুখি নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে; মামলার জালে জড়ানো হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে। শুধু তাই নয়, সারাদেশে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। গুম করা হয়েছে ৫০০ নেতাকর্মীকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিএনপি দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে নেই। দলটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রতিষ্ঠাতার আদর্শে ফিরে যেতে হবে। দলের অতীত ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অযোগ্য ও অন্ধসমর্থকদের দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে ত্যাগী নিবেদিতপ্রাণ যোগ্য নেতাকর্মীদের দলের নেতৃত্বে বসাতে হবে।

আর পড়ুন:   শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ