৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম নগরীতে সুশৃংখল ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে হকারদের আয়-রুজির পথ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হকারদের সাথে আলোচনায় সর্বসম্মতভাবে যে সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়েছে তা মেনে চলার জন্য চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করবেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ে স্টেশন রোড ও আগ্রাবাদে নির্ধারিত জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হকাররা বসতে পারবেন। তাদের জন্য হলুদ রঙের মার্ক করা চিহ্নিত স্থানে শুধুমাত্র বসার টুল ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা থাকবে না এবং এখন থেকে সড়কের এক পাশেই তারা ব্যবসা করতে পারবেন। হকারদের খেয়াল রাখতে হবে নগরবাসীর হাঁটা চলা এবং যানবাহন চলাচলে যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, হকার উচ্ছেদ নয়, পূনর্বাসন করাইটাই হলো একটি সামাজিক দায়িত্ব । তাই হকাররা যে সকল হলুদ মার্ক করা স্থানে বসবেন। সেখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও বাতি লাগানোর  দায়িত্ব পালন করবে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া হকারদের জন্য নির্ধারিত ব্যাচ ও ইউনিফর্মও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এই ইউনিফর্ম ছাড়া কোনো হকার রাস্তায় বসতে পারবেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে, হকার নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়েছে, তা যদি মেনে চলা হয় তাহলে এই সুশৃংখল ব্যবস্থাপনার সুফল তারাই পাবেন। সিদ্ধান্ত পালনে যেন ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য হকার নেতৃবৃন্দকে তিনি সতর্ক বার্তা দেন।   তিনি বলেন, অনেক সময় ফুটপাত অরক্ষিত থাকায়  পথচারী ও নগরবাসী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে, স্কুল-কলেজের শিক্ষাথীরা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে ও নগরবাসীকে সিগ্ধ, নির্মল ও দুর্গন্ধমুক্ত সকাল উপহার দেয়ার জন্য চসিকের গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ বাস্তবায়নে প্রিয় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন নদী, সাগর ও পাহাড়ের মেলবন্ধনে চট্টগ্রাম নগরীর যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রয়েছে, তা ফিরিয়ে আনা হবে।

আর পড়ুন:   কোভ্যাক্সের আওতায় টিকা পাবে দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বৃষ্টি জনিতকারণে সড়কে প্যাচওয়ার্ক স্থগিত হলেও বন্ধ নয়

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে সমস্ত সড়কে খানা-খন্দকসহ দৃশ্যমান ভাঙাচোরা রয়েছে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের চলমান কাজ বৃষ্টি জনিত কারণে স্থগিত থাকায় চসিক প্রশাসক দু:খ প্রকাশ করে নগরবাসীদের  আপাতত ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তিনি এও বলেছেন বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে বা বিরতিতে যাতে মেরামত ও খানা-খন্দক ও ভাঙাচোরা অবস্থা সাড়ানোর কাজ সম্পন্ন করতে চসিকের সংশ্লিস্ট বিভাগের জনবলকে প্রস্তুত রাখা আছে। তিনি নগরবাসীকে জ্ঞাত করেন যে, সড়ক মেরামত কাজে বালি,স্টোন চিপস্ ও বিটুমিনের সমন্বয়ে যে মিক্সারটি তৈরী করা হয় তা ৮ ঘন্টার বেশি রাখা যায় না। নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হলে এর ব্যবহার উপযোগিতা হারায়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বৃষ্টির ঘনঘটায়  বেশি করে মিশ্রণ তৈরী সম্ভব হচ্ছে না।  এও দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত মজুদকৃত মিশ্রণ তড়িঘড়ি করে সড়ক মেরামত কাজে ব্যবহৃত হলেও তার স্থায়িত্ব খুবই কম এবং যেখানে মেরামত হয়েছে তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে সাথে চসিকের বিপূল পরিমাণ অর্থ ও শ্রম নষ্ট হয়। তারপরও জনজীবনে স্বস্তি দিতে চসিকের পক্ষ থেকে প্যাচওয়ার্ক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে যেসব এলাকায় খুব বেশি বেহাল অবস্থা কিংবা চসিকের দৃষ্টিগোচর হচ্ছেনা তেমন এলাকায় বসবাসরতরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে তুলে ধরলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এবিষয়ে প্রশাসক নগরবসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বর্তমানে যেসব এলাকায় চসিকের ৯টি ডিভিশনের মাধ্যমে প্যাচওয়ার্ক কার্যক্রম চলছে তা হলো ফকিরহাট, কালা মিয়া বাজার, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার, এফ আই ডিসি রোড, সল্টগোলা ক্রসিং, বন্দর কাস্টম, জাকির হোসেন রোড।