৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চসিক শিক্ষা বিভাগের সাথে মতবিনিময় সভায় সচিক প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, “সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী চসিকের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে গুণগত মানে যে-উচ্চতায় উন্নীত করেছিলেন তা আজ অনেকখানি ম্লান। তাঁর আমলেই চট্টগ্রাম পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে সারা দেশে প্রশংসাসূচক অভিধায় স্বীকৃতি পেলেও সাম্প্রতিককালে এ খাতটি স্বস্তিদায়ক নয়। আমি তাঁর পথ ধরেই সিটি কর্পোরেশনের এ তিনটি প্রধান সেবাখাতকে আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অধিকতর কার্যকর ও গতিশীল করতে সার্বিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।

চসিক শিক্ষা বিভাগের সাথে মতবিনিয়সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন

আজ (২১  আগস্ট) আন্দরকিল্লাস্থ পুরাতন নগরভবনের কে.বি.আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে মতবিনিময়কালে  প্রশাসকের মেয়াদের পুরোসময়কে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক সুজন আরো বলেন, আরবী বর্ষের আজকের শেষদিনে মানুষ গড়ার কারিগরদের সাথে মতবিনিয় করতে পারছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। চসিক শিক্ষা বিভাগের অধীনে পরিচালিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের চাওয়া-পাওয়াসহ ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি সম্পর্কে তথ্যউপাত্ত অবগত হওয়া মাত্র তা পূরণ ও সমাধানে কোনো কালক্ষেপণ করবো না। কারণ আমার মেয়াদকালীন ১৮০ দিনের প্রতিটি দিন-ঘণ্টা-মুর্হুতকে সচল-সক্রিয় ও কর্মমুখর করে রাখতে চাই। মতবিনিময়ে প্রশাসক প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা বিভাগের যাবতীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের বিস্তারিত তথ্যউপাত্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে জানতে চান। তিনি একে একে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। সব বিষয়ে অবগত হয়ে প্রশাসক প্রতিটি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বয়স্ক ও নৈশ স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, থিয়েটার ইনষ্টিটিউট, সংস্কৃতি টোল, মসজিদ, মাদ্রাসা সবগুলোর ভবন, পাঠদানপদ্ধতি, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের সংখ্যা, ফলাফল, বেতন-ভাতা, ছাত্র/ছাত্রীদের ফি আদায়, আয়-ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ের ওপর একটি সার্বিক চিত্র ও প্রস্তাবনা প্রশাসক বরাবরে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ট্যাক্সের টাকায় ভূর্তুকি দিয়ে শিক্ষা বিভাগ পরিচালিত হয়। তিনি শিক্ষা বিভাগের ব্যয় হ্রাস করার পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। যেহেতু করোনা মহামারী রোধে এখন পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখা যায় এবং নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজ খবর ও মনিটরিং করা যায় তার জন্যে সংশ্লিষ্টদের সচেষ্ট থাকতে হবে। এসময় চসিক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের ২য় সপ্তাহ হতে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর পড়ুন:   যেকোনো আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেশি রক্ত দিয়েছে

মতবিনিময় সভায় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অধ্যক্ষ মনোয়ার জাহান বেগম, শিক্ষকদের পক্ষে আবুল কাশেম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া চসিক পরিচালিত স্কুল,কলেজ, কম্পিউটার ও থিয়েটার ইনস্টিডিউট এর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।