৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়  করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষার ফি কমিয়েছে । এখন থেকে দেশে সরকারীভাবে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা নেয়া হবে। আর বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফির কারণে নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ কমেছে বলে স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।আজ বুধবার(১৯আগস্ট) সচিবালয়য়ে এক সভার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার যে ফিস নির্ধারণ করেছে এ কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ পরীক্ষা করাতে পারছে না। তারা কিছুটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমাদের প্রস্তাবনায় তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হবে। সই হয়ে গেছে, আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে সার্কুলার জারি করে দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি নতুন যে হার নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে টেস্টের সংখ্যা বাড়বে। আমরা সব সময়ই চাই টেস্ট বেশি করে হোক। সংক্রমিত ব্যক্তিরা চিহ্নিত হোক। কিন্তু টেস্টের সংখ্যা সেভাবে বাড়ে নাই। কারণ ছিল এই হার। কিন্তু আমাদের ল্যাব এবং কিটের সংখ্যা পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানান জাহিদ মালেক।

গত মার্চে বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর বিনা অর্থেই কোভিড-১৯ শনাক্তে আরটিপিসিআর নমুনা পরীক্ষা করছিল সরকার। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকার মধ্যেই গত ২৬ জুন নমুনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়। তখন যুক্তি দেখান হয়েছিল, বিনামূল্যে করা হচ্ছে বলে ‘কোন উপসর্গ ছাড়াই অধিকাংশ মানুষ’ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ নিচ্ছে। তবে ফি নির্ধারণের পর মানুষ নমুনা পরীক্ষায় নিরুৎসাহিত হচ্ছে দাবি করে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন সংগঠন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ফি কমানোর সিদ্ধান্ত এলো। অবশ্য বেসরকারী হাসপাতালে আগে থেকেই পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর বেসরকারীভাবে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য লাগছে সাড়ে চার হাজার টাকা।

আর পড়ুন:   মাস্টার দা সূর্য সেনের আবক্ষ ভাস্কর্যে চসিকের শ্রদ্ধা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ জুন থেকে দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা ১১ হাজারে উঠে আসে এবং তা জুন মাসজুড়ে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৫ জুন ১৪ হাজারে এবং ২০ জুনের মধ্যে ১৫ হাজারে পৌঁছে যায়। এভাবে ২৫ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা ছিল ১৬ থেকে ১৮ হাজারের মধ্যে। গত ৪ জুলাই হঠাৎ করে দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা হ্রাস পেয়ে নেমে আসে ১৪ হাজারে এবং ৫ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দৈনিক পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজারের মধ্যে। আগস্ট মাসে পরীক্ষিত নমুনার সংখ্যা উঠানামা করছে ১০ থেকে ১৪ হাজারের মধ্যে ।